পায়রা বন্দরের ড্রেজিং চুক্তি স্বাক্ষর

পায়রা বন্দরের ড্রেজিং চুক্তি স্বাক্ষর, ছবি: বার্তা২৪.কম

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

পায়রা বন্দরের ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের জন্য পিপিপির আওতায় চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। সোমবার (১৪ জানুয়ারি) নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বেলজিয়ামের কোম্পানি ‘জান ডে নুল’র সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।

প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে জোয়ারের সহায়তায় ১২ মিটার ড্রাফটের জাহাজ বন্দরের জেটিতে ভিড়তে পারবে। কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহের জন্য বিদেশ থেকে বছরে ২০ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা বন্দরের পোতাশ্রয়ে সরাসরি খালাস করা যাবে, যা দেশের পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপকরণ চাহিদা পূরণ করবে। ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের ৩ হাজার কন্টেইনারবাহী জাহাজ ও ৪০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার জাহাজ বন্দরের জেটিতে সরাসরি ভিড়তে পারবে।

প্ৰকল্পের আওতায় পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলে ১০.৫ মিটার ড্রাফটের ৪০ হাজার ধারণক্ষমতার বাল্কবাহী ক্যারিয়ারের চলাচলে সক্ষম চ্যানেল (টার্নিং বেসিনসহ) ডিজাইন এবং ক্যাপিটাল ড্রেজিংসহ ১২ বছর পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং করা হবে।

ড্রেজিংয়ের ফলে ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ, ১০০-১২৫ মিটার প্রস্থ ও সর্বোচ্চ ১০৫ মিটার গভীর চ্যানেল তৈরি হবে। ইঞ্জিনিয়ারিং সমীক্ষার জন্য ১৪ মাস এবং ক্যাপিটাল ড্রেজিং করতে ১৪ মাস সময় লাগবে।

বেলজিয়াম এক্সপোর্ট ক্রেডিট এজেন্সির সহায়তায় এইচএসবিসি এবং এর কনসোর্টিয়াম ব্যাংক হতে পায়রা ড্রেজিং কোম্পানি লিমিটেড ঋণ গ্রহণ করবে। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং শেষ হওয়ার ৬ মাস পর হতে ২০টি সমপরিমাণ অর্ধ-বার্ষিক কিস্তিতে সুদসহ পরিশোধ করবে। চুক্তির বাকি বছরসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং এর জন্য উভয় পক্ষ অর্থায়নের উৎস খুঁজবে এবং অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রকল্প কোম্পানি রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং করবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547468877562.jpg

চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর এম জাহাঙ্গীর আলম ও জান ডে নুল বেলজিয়ামের চেয়ারম্যান জনচিরি। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আবদুস সামাদ ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পায়রা বন্দরকে গভীর সমুদ্র বন্দর আকারে গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাবনাবাদ চ্যানেলকে ভবিষ্যতে ১৪.৫ মিটার গভীর করা হবে। এ নতুন গভীর সমুদ্র বন্দর দেশের উত্তর দক্ষিণ অঞ্চলে অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করবে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে দক্ষিণের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে রুপান্তরিত হবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম জাহাঙ্গীর আলম।

চ্যানেলে প্রাথমিক রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং করা হবে। ক্যাপিটাল ড্রেজিং চলাকালীন ১১১ মিলিয়ন ঘনমিটার ড্রেজিং ম্যাটারিয়াল অপসারণ করা হবে।

২০১৮ সালের ১৯ মার্চ মন্ত্রিসভা প্রকল্পটিকে জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করে। এ প্রেক্ষিতে পিপিপি আইন ২০১৫ ও জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প বিধিমালার অনুসরণ করে চুক্তি করা হয়। ২০১৩ সালের ৩৫ নভেম্বর জাতীয় সংসদে ‘পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন- ২০১৩’ পাস করে।

২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পটুয়াখালী জেলার রাবনাবাদ চ্যানেলে পায়রা বন্দর নামে দেশের ৩য় সমুদ্র বন্দরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় এর আরও খবর