Alexa

সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী সহাবস্থান চায় ছাত্রদল

সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী সহাবস্থান চায় ছাত্রদল

ছবি: বার্তা২৪

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয়, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ীভাবে সহাবস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান করে ছাত্রদল। এ সময় সংগঠনের নেতারা সাংবাদিকদের কাছে এই দাবি প্রকাশ করেন।

সহাবস্থান বাস্তবায়নে প্রশাসনের সহযোগিতা ও ছাত্র সংগঠনগুলোর সৌজন্যতাকে সাধুবাদ জানিয়ে ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান বলেন, ‘‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থায়ী সহাবস্থান হবে এবং ছাত্র রাজনীতির নতুন যুগের সূচনা হবে, এটি আমরা প্রত্যাশা করি। সাথে সাথে, শুধু ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহাবস্থান, এটিকে আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু রাজনৈতিক সহাবস্থান, পরমত সহিষ্ণুতা, ভিন্ন মতের চর্চার সুযোগ অবারিত থাকবে এবং সহাবস্থানের বিষয়টি স্থায়ী হবে।’’

ভোটার ও প্রার্থিতার ক্ষেত্রে ৩০ বছরের বাধ্যবাদকতার কারণে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কেউই নির্বাচন করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে তাদের বিকল্প পরিকল্পনা কী, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা যৌক্তিক দাবি জানিয়েছি। নির্বাচন করতে পারবে কি পারবে না, সেটা বিষয় নয়। বিষয়টি হলো ছাত্রদের প্রতিনিধি ছাত্ররা নির্বাচন করবে। সেখানে যৌক্তিক বিষয়গুলো যদি আসে, আমরা সেগুলোকে ইতিবাচকভাবে দেখব। এখন বিদ্যমান যে ধারাটি প্রবর্তন করেছে নতুন করে, এটিকে আমরা যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক মনে করছি না।

বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে ছাত্রদলের দেওয়া সাত দফা দাবি না মানা হলে তাদের শেষ সিদ্ধান্ত কী হবে, সে সম্পর্কে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বলেন, আমাদের সাত দফা দাবির প্রথম দাবি ছিল সহাবস্থান নিশ্চিত। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আজকে সহাবস্থানের যাত্রা শুরু হয়েছে। আমরা আশাবাদী, অন্যান্য যে যৌক্তিক দাবি সেগুলো মেনে নিয়ে সকলের যে গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে, ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে যাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা। অর্থাৎ ভোটকেন্দ্রগুলো একাডেমিক ভবনে স্থানান্তর করা হবে।

ডাকসু নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত কমিটিগুলো একদলীয় শিক্ষকদের দিয়ে গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বাসযোগ্য ডাকসু নির্বাচন আয়োজনে সর্বদলীয় ও দল নিরপেক্ষ শিক্ষকদের সমন্বয়ে কমিটিগুলো পুনর্গঠন করতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

ছাত্রদলের কমিটিতে কোনো শিবির আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্রদলের কমিটিতে কোনো শিবির নেই এবং প্রতিটি কর্মীকে যাচাই-বাছাই করে আমরা কমিটিতে নেই। তারপরও কারও বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখব। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রত্যকটা নেতাকর্মীকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেই কমিটিতে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে সহাবস্থানের সূচনা হিসেবে প্রায় নয় বছর পর বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মধুর ক্যান্টিনে অবস্থান নেন বিএনপি’র ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল’। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দীকি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির, কেন্দ্রীয় কমিটির সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, সহ-সম্পাদক মামুন খানসহ ২০-২৫ জন নেতাকর্মী মধুর ক্যান্টিনে আসেন।

দুপুর ১২টার দিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মধুর ক্যান্টিনে দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে উপস্থিত হন। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলেন তারা।

ক্যাম্পাস এর আরও খবর