Alexa

বিজিবির গুলিতে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টে রিট

বিজিবির গুলিতে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টে রিট

ছবি: সংগৃহীত

গরু আটকের ঘটনায় ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বহরমপুর এলাকার বেতনা সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর গুলি বর্ষণে নিহত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণ দিতে রিট দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট তনয় কুমার সাহা।

রিটে নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি বিজিবির এ দিনের অপারেশন কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবেনা এবং এ ঘটনায় জড়িত বিজিবি সদস্যদের শাস্তির আওতায় আনতে কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না সে মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, বিজিবি মহাপরিচালক এবং ৫০ ব্যাটালিয়ন কমান্ডারকে বিবাদী করা হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হয়। এ সময় অন্তত ২০ জন আহত হন।

বিজিবির দাবি, নিহত ব্যক্তিরা গরু চোরাচালানকারী দলের সদস্য।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন হরিপুর উপজেলার রুহিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে নবাব উদ্দিন (৩৫), একই গ্রামের জহিরউদ্দিনের ছেলে সাদেক (৪৫) ও বহরমপুর গ্রামের নূরল ইসলামের ছেলে জয়নুল (১২)।

গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার হরিপুর উপজেলার যাদুরানী হাট বসে। হাটটি গবাদিপশু বিক্রির জন্য প্রসিদ্ধ। স্থানীয় বহরমপুর গ্রামের হবিবর রহমানসহ কয়েকজন গ্রামবাসী ওই হাটে বিক্রির জন্য গরু নিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় বিজিবির বেতনা ক্যাম্পের সদস্যরা গরুগুলো ভারত থেকে চোরাচালান করে আনা দাবি করে সেগুলো জব্দ করেন। এ নিয়ে বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে গ্রামবাসীর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিজিবি গুলি ছুড়তে শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলে দুজন নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদের ভাষ্য, চোরাচালান করা চারটি গরু জব্দ করে বিজিবির সদস্যরা যখন ক্যাম্পের দিকে ফিরছিলেন, তখন চোরাকারবারিরা তাঁদের উপর হামলা চালায়। বিজিবির সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হন। হতাহত ব্যক্তিরা সবাই গরু চোরাচালানকারী দলের সদস্য বলে তিনি দাবি করেন।

গুলিবিদ্ধ অন্য লোকজনকে উদ্ধার করে প্রথমে হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয়রা। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন :