‘বিজয় কেতনের’-এর অন্যরকম ভালোবাসা দিবস উদযাপন

পথশিশুদের নিয়ে ব্যতিক্রমী ভালবাসা দিবস উদযাপন করেছে ‘বিজয় কেতন’/ ছবি: বার্তা২৪.কম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

দুবেলা ভাতের ক্ষুধা মেটানোর তাড়নায় অনবরত ছুটে চলে তাদের জীবন। জীবনকে বুঝে না উঠার আগেই যাদের কাঁধে পরিবারের দেখভালের দায়িত্ব। প্রতিনিয়ত অবহলো, বঞ্চনা, কষ্ট আর ক্ষুধার কষ্ট লাঘবে হারাতে বসেছে দুরন্ত কৈশোর সময়। তাদের কাছে ‘ভালোবাসা’ নামক স্বর্গীয় শব্দটি নিতান্তই সৌখিনতা বটে।

দিনশেষে নিজের উপার্জনে পরিবারের মুখে হাসি ফোটায়- এমন পথশিশুদের নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ব ভালবাসা দিবসে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘বিজয় কেতন’ নামের একটি সংগঠন। একদিনের জন্য পথশিশুরা মিশে গিয়েছিল প্রকৃতির মাঝে, যান্ত্রিকতা ভুলে হাসি-খুশিতে সময় পার করেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/14/1550140181207.jpg

এমন ব্যতিক্রম আয়োজনের সঙ্গী হতে অনেকে ছুটে গিয়েছিলেন নগরীর জিইসি এলাকার সংলগ্ন জাতীয় গৃহায়ণ অধিদপ্তরের পাশের মাঠে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নয়, অনেকে এসেছিলেন নাগরিক জীবন নিয়ে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে।

মাঠের প্রবেশমুখে খানিক ভেতরে শামিয়ানা টানিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘বিজয় কেতন’। এর আশপাশে ফেস্টুন ও হরেক রকমের সিরিজ কাগজ দিয়ে আলপনায় পরিবেশে এনে দেয় নান্দনিকতা। শিশুদের পরনে নতুন জামায় হাসিমুখে এদিক-সেদিক খেলাধুলা, নেই চিন্তার চাপ।

সকালে জাতীয় সংগীতের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠান। এরপরে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দৈনিক পূর্বকোণের চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের সমাজের চারপাশের সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই বেড়ে উঠছে পথশিশুরা। কিন্তু বিজয় কেতন নামের সংগঠনটি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। এতে পথশিশুরা সমাজে মর্যাদার সহিত বেড়ে উঠছে। যারা পরবর্তীতে দেশ ও পরিবারের জন্য সাফল্য নিয়ে আসছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/14/1550140203932.jpg

এরপর সাংস্কৃতিক পর্বে একে একে একক ও যৌথ সংগীত, আবৃত্তি আর নাচের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় তাক লাগিয়ে দেয় অতিথিদের।

সংগঠনটি অনাথ শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। নগরীর আট নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোরশেদ আলম এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন।

তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল সংগঠনটির পেছনের গল্প। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কেবল নয়, মানুষকে সহায়তা করার প্রচেষ্টা থেকে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীদের অবহেলিত ছেলে-মেয়েদের সাংস্কৃতিক বিকাশ থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করে। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসেও তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জাতীয় এর আরও খবর