Alexa

পায়ের ঘষাতে উঠে যাচ্ছে রাস্তার সিলকোট

পায়ের ঘষাতে উঠে যাচ্ছে রাস্তার সিলকোট

ছবি: সংগৃহীত

সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

মাত্র ১ মাস আগে রাস্তাটি সংস্কার করা হয়েছে। পায়ের ঘষাতে উঠে যাচ্ছে সেই রাস্তার বিটুমিনাস কার্পেটিং ও সিলকোট।

৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কের এই কাজটি হয়েছে বিদ্যৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পরীবাগস্থ অফিসার্স আবাসিক এলাকায়। অফিসাররা নিজেদের চলার পথের কাজটিও বুঝে নিতে পারলেন না এ নিয়ে চলছে নানা রকম ব্যঙ্গ আলোচনা। কেউ কেউ বলেছেন তারা টাকা খেয়ে খেয়ে নিজেদের কথা বলার নৈতিক শক্তি হারিয়েছেন।

কাজটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ছিলেন মেসার্স মারুতি এন্টাপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির কাজের মান নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন থাকলেও পিডিবির কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্যতার সুযোগে সবচেয়ে বেশি কাজ দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে কমিশন হাতিয়ে নিয়ে তাকে কাজ দেওয়ার।

কাজটির মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পিডিবির সদস্য (পিএন্ডডি) আজাহারুল ইসলাম। কাজটি কাজটি বাতিল করিয়ে পুনরায় সম্পাদনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পিডিবির পুর্তকর্ম পরিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল্লাহ নোমান এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পূর্ত নির্মাণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলীকে দিয়েছেন।

চিঠিতে কাজের মান নিয়ে অসন্তোষের পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীগণ স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী মানসম্মত কাজ সম্পাদনে ব্যর্থ হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কাজটি পুনরায় করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলেও ঠিকাদার কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমুলক ব্যবস্থার বিষযে স্পষ্ট করা হয় নি।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, “৫ ফেব্রুয়ারি পরিদর্শনকালে দেখা যায়, সদ্য যে বিটুমিনাস কার্পেটিং ও সীল কোটের কাজ করা হয়েছে তাহা অত্যন্ত নিম্নমানের। গাড়ি চলাচল করিলে চাকার ঘর্ষণে সীলকোট নষ্ট হইয়া যায়। এমনকি পায়ের সামান্য ঘষাতেই অনেক স্থানের সিলকোট উঠিয়া যাইতেছে। রাস্তার লেভেলও যথাযথভাবে করা হয় নাই। স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে যে প্রয়োজনীয় পুরুত্ব, বিটুমিনের পরিমান, মানসম্মত মালামালের ব্যবহার কোনটাই রক্ষা করা হয় নাই।”

ঠিকাদার মাসুম বার্তা২৪.কমকে বলেন, সীলকোটের কাজের পরে বালু দিয়ে রাখা হয়। কিন্তু পরদিনেই সেটি ধুয়ে ফেলা হয়েছে। এ কারণে সিলকোট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কাজের মান ঠিকই ছিলো। আমরা কখনও খারাপ কাজ করি না।  

কাজের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী হিরেন চন্দ্র পালের ফোনে কল দিলে মিটিংয়ে  আছেন বলে প্রশ্ন এড়িয়ে যান। পরে তাকে একাধিক দফায় ফোন দিলেও আর রিসিভ করেন নি।

জাতীয় এর আরও খবর