নদীগুলোর দূষণরোধে ‍'মাস্টার প্ল্যান' বাস্তবায়নের তাগিদ

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম, ছবি: বার্তা২৪

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

কর্ণফুলী নদীসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণরোধ এবং নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য ‍'মাস্টার প্ল্যান' বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, 'কর্ণফুলী নদীসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণরোধ এবং নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য মাস্টার প্ল্যানের যে খসড়া তৈরি করা হয়েছে সেটি দিয়ে আমাদের কাজ শুরু করতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগে মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হবে।'

বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণরোধ এবং নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য মাষ্টার প্ল্যান তৈরি সংক্রান্ত কমিটির এক সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রস্তাবিত মাস্টার প্ল্যানের খসড়া উপস্থাপন করা হয়।

তিনি বলেন, 'আমাদের দেশের নদী ও খালগুলো একটির সাথে অপরটি সংযুক্ত। তবে ঢাকার চারপাশের এবং চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীগুলোর আশেপাশে অবস্থিত শিল্প-কারখানা ও মানবসৃষ্ট অন্যান্য বর্জ্যের কারণে সৃষ্ট দূষণ ও অবৈধ দখল রোধ করে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। নদী তীরবর্তী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ, ইকো পার্ক নির্মাণ ও সৌন্দর্য বর্ধন করতে হবে।'

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, 'বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু এবং টঙ্গীখাল নদীগুলোর দূষণের উৎস শিল্পবর্জ্য রি-সাইকেল করতে হবে। নদী দূষণে সহায়তা প্রদানকারী বর্জ্য সরাসরি যাতে পানিতে মিশতে না পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। বুড়িগঙ্গা নদীসহ ঢাকা শহরের চারপাশের নদীগুলোর দূষণ রোধে পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে দূষণ থেকে উত্তরণের বিষয়ে সেবা সংস্থাসমূহকে উদ্যোগ নিতে হবে।'

সভায় নদী রক্ষায় ভূমিকার জন্য পুরস্কার বিতরণের উদ্যোগের কথা জানানো হয়। নদীর উপরিভাগ ছাড়াও নদীর তলদেশের পানি প্রবাহের ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়ার বিষয়েও বিশেষজ্ঞরা মতামত দেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র আ. জ. ম. নাসির উদ্দিন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুক, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পানি সম্পদ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, নদী বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, মাস্টার প্ল্যানটি চারটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। এক বছর মেয়াদি ক্রাশ প্রোগ্রাম, দুই বছর মেয়াদি স্বল্প মেয়াদী, পাঁচ বছর মেয়াদি মধ্য মেয়াদি এবং ১০ বছর মেয়াদি দীর্ঘ মেয়াদি কার্যক্রম। নদী দখল রোধে করণীয়, নদীর পানি দূষণ রোধে করণীয় ও নাব্যতা বৃদ্ধিতে করণীয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের করণীয় সম্পর্কে মাস্টার প্ল্যানে উল্লেখ রয়েছে।

জাতীয় এর আরও খবর