ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতন

ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে গৃপরিচারিকা শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ধর্ষক মো. মাসুম (আটকদের মধ্যে সর্ব ডানে) সহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ/ ছবি: বার্তা২৪.কম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

বরিশালে শিশু গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের পরে এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে শিশুটিকে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এই ঘটনায় ধর্ষণকারীসহ তিনজনকে আটক করেছে মেট্রোপলিটনের বিমানবন্দর থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) আবদুর রহমান মুকুল।

আটকৃতরা হলেন নগরীর ২৯নং ওয়ার্ডের লুৎফর রহমান সড়কের মোঃ মজিবর রহমান হাওলাদার (৪৫), মোঃ মজিবর রহমান হাওলাদারের স্ত্রী মোসাঃ সায়লা রহমান (৩০) ও মজিবরের মুদি দোকানের কর্মচারী, ভোলার শশীভূষণ এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে ধর্ষক মোঃ মাসুম।

পুলিশ কর্মকর্তা আবদুর রহমান মুকুল জানান, এক বছর পূর্বে ভিকটিম শিশুটিকে তার চাচা মোঃ বজলুরের নিকট থেকে গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য মজিবর ও তার স্ত্রী সায়লা বাসায় নিয়ে আসেন। এরপর থেকে শিশুটি সেই বাসায় কাজ করছিল।

কিন্তু কাজে কোনো ত্রুটি পেলে গৃহপরিচারিকা ঐ শিশুকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাকাসহ নানাভাবে নির্যাতন করতেন গৃহকর্তা মজিবর ও তার স্ত্রী। এমনকি গরম আয়রন (ইস্ত্রী) দিয়ে ভিকটিমের বাম গালে ছ্যাকা দেন। এতে করে ভিকটিমের গালের চামড়া পুড়ে গেছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, শুধু এটাই নয়, গৃহকর্তা মজিবর রহমানের দোকানের কর্মচারী মোঃ মাসুম ভিকটিম শিশুটিকে বিভিন্নভাবে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ জানুয়ারি গৃহকর্তা মজিবর ও তার স্ত্রী বাসায় না থাকার সুযোগে ঐ শিশুটিকে জোর করে ধর্ষণ করেন মাসুম। এর পূর্বেও মাসুমের বিরুদ্ধে ঐ ভিকটিমকে ধর্ষণ করার অভিযোগ রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

ওসি জানান, ভিকটিম শিশুটি পরবর্তীতে গৃহকর্তা মজিবর ও তার স্ত্রী শায়লার কাছে কর্মচারী মাসুমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। কিন্তু গৃহকর্তা ও তার স্ত্রী কর্মচারী মাসুমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভিকটিমকে মারধর করেন এবং ধর্ষণের ঘটনা বাহিরের লোকজনকে বলতে নিষেধ করে দেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পুনরায় শিশুটির কাজে ভুল ধরে নির্যাতন করে গৃহকর্তা মজিবর ও তার স্ত্রী সায়লা। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ধর্ষক মোঃ মাসুম সহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

পাশাপাশি ভিকটিম শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শের -ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১)/৩০ তৎসহ ২০১৩ সালের শিশু আইনের ৭০ ধারা মোতাবেক নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি আটককৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবদুর রহমান মুকুল।

জাতীয় এর আরও খবর

উপহার হিসেবে বই দিন

বিয়ে, জন্মদিন কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে বই দিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ময়মনসিংহের বিভাগী...