Alexa

আবারো উত্তপ্ত পদ্মাকর ইউনিয়ন

আবারো উত্তপ্ত পদ্মাকর ইউনিয়ন

আবারো উত্তপ্ত পদ্মাকর ইউনিয়ন। ছবি: বার্তা২৪.কম

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, বাজার দখল নিয়ে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পদ্মাকর ইউনিয়ন। গত এক সপ্তাহ যাবৎ চলছে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, মারধর, বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন দেয়ার মতো ঘটনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এলাকার সচেতন মহল মনে করছে এখনি নেতৃত্বদানকারীদের লাগাম টেনে না ধরলে ঘটবে ৩ বছর আগের মতো নিহতের ঘটনা।

জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য, নিজেদের ক্ষমতা জাহির ও সদর উপজেলার অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা হাটগোপালপুর বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিতে বছরের পর বছর পদ্মাকর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ নিজামুল গনি লিটু ও সাবেক চেয়ারম্যান ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বিকাশ বিশ্বাসের সমর্থকদের বিরোধ চলে আসছিল। ২০১৬ সালের ৮ এপ্রিল আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছয়াইল গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বিকাশ বিশ্বাসের সমর্থক আওয়ামী লীগ কর্মী আকামত হোসেন মীর নিহত হয়। এ ঘটনায় ১৩৩ জনের নামে মামলা করা হয়। মামলায় জেলা পরিষদের বর্তমান সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা ইমাজুল হকসহ আসামিরা কয়েকমাস কারাগারে থাকেন। এ ঘটনার পর গত সংসদ নির্বাচনের আগে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতও হয় বেশ কয়েকজন।

সম্প্রতি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন উপলক্ষে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ওই ইউনিয়ন। গত ১ সপ্তাহে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। প্রতিদিন ঘটছে মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনা। গত ১২ মার্চ উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর করা হয় দোকানপাট। সর্বশেষ শনিবার (১৬ মার্চ) রাতে বিকাশ বিশ্বাসের সমর্থকরা লিটুর সমর্থকদের বাড়িঘর, দোকান পাটে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রতিশোধ নিতে রোববার সকালে লিটু চেয়ারম্যানের সমর্থকরা সাবেক চেয়ারম্যান বিকাশ বিশ্বাসের সমর্থকদের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না করলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি। নিজেদের মধ্যে এ বিরোধ আওয়ামী লীগের দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে আর মজা লুটছে অন্যরা।

বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ নিজামুল গনি লিটু বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যান মানুষ। আমি শান্তি চাই। কিন্তু বিকাশ বিশ্বাসের সমর্থকরা আমার সমর্থকদের বাজারে যেতে দেয় না। আমার সমর্থকদের মারধর করা হচ্ছে। আমি চাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক আর এ সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করুক।’

সাবেক চেয়ারম্যান বিকাশ বিশ্বাস বলেন, ‘চেয়ারম্যান লিটু ও জেলা পরিষদের সদস্য ইমাজুল বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে আমার সমর্থক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মারধর করছে। ২০১৬ সালের ৮ এপ্রিল নিহত আকামত হোসেন মীর হত্যা মামলা তুলে নিতে চেয়ারম্যান লিটু ও জেলা পরিষদের সদস্য ইমাজুল এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। আমি চাই হত্যাকারীদের সুষ্ঠু বিচার হোক। আমি কোনো অশান্তি চাই না।’

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানান, মারামারি যারা করবে তার দায়ভার তারাই বহন করবে। সম্প্রতি মারামারির ঘটনায় ২টি মামলা হয়েছে। গ্রেফতারও হয়েছে কয়েকজন। কতিপয় ব্যক্তি বিশেষের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বিষয়টি সামাজিক গোলযোগে রূপ দিচ্ছে। যারা এ ধরনের কাজ করছেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে ওই এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে কিছু দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ ও স্থানীয় নেতাদের নিয়ে একটি আইনশৃঙ্খলা মিটিং করা হবে। তিনি আশা করছেন দ্রুতই এ সমস্যা নিরসন হবে।

জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, প্রতিদিন ওই এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হচ্ছে। ওসি সাহেব সতর্ক রয়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :