Alexa

বিএসএমএমইউ-তে যেতে খালেদা জিয়ার অভিমান নাকি অবিশ্বাস

বিএসএমএমইউ-তে যেতে খালেদা জিয়ার অভিমান নাকি অবিশ্বাস

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া/ ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসার সব প্রস্তুতির পরও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সেখানে যাননি। বরং উল্টো দলের অভিযোগ, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

বিএনপির দাবির প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও গত রোববার (১০ মার্চ) হাসপাতালে যাননি খালেদা জিয়া।

হাসপাতালে না যাওয়ায় সরকারি দলের একাধিক নেতা খালেদা জিয়া সুস্থ বলে দাবি করছেন। বিএনপির দাবি, বিএসএমএমইউ এ সুচিকিৎসা নেই। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জণ, দীর্ঘ সময়ে কারামুক্তি না হওয়ায় অভিমান থাকতে পারে খালেদা জিয়ার।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া নিজেকে সেই পরিমাণ সুস্থ মনে করছেন। তাই তিনি চিকিৎসা নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। আমি যদি সুস্থবোধ করি, তাহলে আমাকে জোর করে চিকিৎসা দিলে আমি নেবো?’

আস্থার সংকটে খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউতে আসেননি জানিয়ে ড্যাবের সভাপতি ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, ‘জেলখানায় অন্তরীণ অবস্থায় খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা হয়নি। বিএসএমএমইউতে দুই বার আনার পরও চিকিৎসা সম্পন্ন না করে ফেরত পাঠানো হয়। ফলে চিকিৎসার প্রতি তার অনাস্থা তৈরি হয়েছে। সেজন্য তিনি বিশেষায়িত হাসাপাতালে চিকিৎসা নিতে চাচ্ছেন বিএসএমএমইউতে আসেননি।’

দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ইচ্ছা অনুযায়ী ইউনাইটেড হাসাপাতালে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সরকার নিয়ন্ত্রিত জেল কোডের বিধান অনুযায়ী তাঁকে চিকিৎসা নিতে হবে। সরকারের জিম্মায় থাকলে একজন বন্দীর কোনো এখতিয়ার থাকে? এটা এখতিয়ারবিহীন।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘এর আগে খালেদা জিয়াকে ৫ দিন বিএসএমএমইউতে নেয়া হয়েছে। সুস্থ হওয়ার আগেই কারাগারে নেয়া হয়েছিল। আমাদের দেশে ফৌজদারি অপরাধীরা সুবিধা ভোগ করে, সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অবস্থা বিবেচনা করে তার চিকিৎসা করানো উচিত। তাছাড়া চিকিৎসাটা হচ্ছে আস্থার ব্যাপার। খালেদা জিয়ার যেখানে আস্থা আছে সেখানে চিকিৎসা দিতে সরকারের আপত্তি কোথায়?’

দীর্ঘদিনেও কারামুক্ত করতে না পারায় দলের প্রতি খালেদা জিয়ার অভিমান আছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘দলের প্রতি অভিমান থাকবে কেন? এখানে দলীয় সরকার কোনো সহযোগিতা করছে না। সরকার তার শরীর নিয়ে বিভিন্ন উপহাস করছে, উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলছে। এসব কারণে সরকারের প্রতি অভিমান থাকতে পারে।’

আপনার মতামত লিখুন :