Alexa

অমুসলিম প্রতিবেশীর সঙ্গে আচরণ

অমুসলিম প্রতিবেশীর সঙ্গে আচরণ

অমুসলিম প্রতিবেশীর সঙ্গে আচরণ, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেশী অমুসলিম হলেও তার সঙ্গে সদাচরণ করা, বিপদাপদে সাহায্য-সহযোগিতা করা ও অসুস্থ হলে খোঁজ-খবর নেওয়া করা ইসলামের শিক্ষা। এসব কাজ ইসলাম নির্দেশিত প্রতিবেশীর অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে নিজেদের দেশ থেকে বের করে দেয়নি তাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেননি। আল্লাহ তো ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালোবাসেন।’ -সূরা মুমতাহিনা: ৮

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক ইহুদি বালক হজরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেবা করত। একবার সে অসুস্থ হলে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে দেখতে গেলেন। অতপর তাকে বললেন, তুমি ইসলাম গ্রহণ কর। ফলে সে মুসলমান হয়ে গেল। -সহিহ বোখারি: ৫৬৫৭

সুতরাং কোনো অসহায়, দরিদ্র প্রতিবেশী অমুসলিমকে দেখতে যাওয়া ও আর্থিক সহযোগিতা করা জায়েজ, বরং প্রতিবেশীর হক আদায়ের কারণে তা প্রসংশনীয় কাজ।

তবে অসুমলিমদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়া নিষেধ। কোরআনে কারিমে এ বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে। যার সারকথা হলো- কোনো অমুসলিমের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়া বা এমনভাবে মেলামেশা করা নিষেধ, যাতে নিজের দ্বীনের ক্ষতি হয়।

কোনো অমুসলিম পড়শি মারা গেলে সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিবারস্থ লোকদের সান্ত্বনা দেওয়ার অবকাশ রয়েছে ইসলামে। এমনকি কোনো অমুসলিমকে মুসলিম মনে করে জাকাত দেওয়ার পর পরর্বতীতে লোকটি অমুসলিম বলে প্রকাশ পেলেও জাকাত আদায় হয়ে যায়। ওই জাকাত আর আদায় করতে হয় না। তবে জেনেশুনে কোনো অমুসলিমকে জাকাত দেওয়া জায়েয নেই, জেনে শুনে দিলে জাকাত আদায় হবে না। এমনি তাকে সাহায্য-সহযোহিতা করা যাবে।

কোরবারির গোশতও অমুসলিমদের দেওয়া যায়। এতে অসুবিধার কিছু নেই। বিশেষত অমুসলিম যদি প্রতিবেশী হয়। কারণ, প্রতিবেশী হিসেবে তার অধিকার রয়েছে। সাহাবিরা অমুসলিম প্রতিবেশীর হকের প্রতি সবিশেষ লক্ষ্য রাখতেন।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)-এর বাড়িতে একবার একটি বকরি জবেহ করা হল। যখন তিনি বাড়িতে ফিরলেন জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি আমাদের ইহুদি প্রতিবেশীকে এ গোশত হাদিয়া পাঠিয়েছ? এভাবে দু’বার জিজ্ঞেস করলেন।-জামে তিরমিজি: ১৯৪৩

কোনো অমুসলিমের সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবসা করা বা তাকে ব্যবসায় অংশীদার করাও জায়েজ। তবে সর্বক্ষেত্রে বৈধতার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়তের নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :