Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

সেরা দল কিন্তু কঠিন বিশ্বকাপ!

সেরা দল কিন্তু কঠিন বিশ্বকাপ!
মিনহাজুল আবেদীন নান্নু : দল নিয়ে আশাবাদী
এম. এম. কায়সার
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

এইমাত্র বিশ্বকাপের দল ঘোষণা হলো।

সেই সংবাদ সম্মেলন শেষ হতেই বেশ হুড়োহুড়ি পড়ে গেলো; ভিড়টা ছবি তোলার। নির্বাচকদের সঙ্গে সেলফি তোলার। আগ্রহী সাংবাদিকদের এই বাড়তি উৎসাহ-ই জানান দিলো বিশ্বকাপের দল নির্বাচন নিয়ে সবাই বেশ সন্তুষ্ঠ। নির্বাচকরাও হাসিমুখেই দল ঘোষণার বৈঠক থেকে ফিরলেন। বিশ্বকাপের জন্য সেরা দলই তৈরি করেছেন তারা।

-সেই সেরা শুধু এবারের জন্য নয়, এ যাবতকালের বাংলাদেশের আগের সব বিশ্বকাপ দলের চেয়ে এটাই নাকি সেরা দল! নিজে বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপে খেলেছেন মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। এর আগেও একটি বিশ্বকাপের দল নির্বাচনে সহযোগি নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার তিনি প্রধান নির্বাচক। সেই মিনহাজুলও অকপটে মানলেন-এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের পেছনের সব আসরের মধ্যে এটাই বাংলাদেশের সেরা দল।

ঠিক কেন এবং কোন বিবেচনায় মিনহাজুল এটাকে বাংলাদেশের সেরা দল বলছে সেই ব্যাখা শুনি-‘অবশ্যই এটা সেরা দল। বিশ্বকাপের জন্য আমরা যে দল তৈরি করেছি, অবশ্যই এই মূহূর্তে এটা সেরা দল। এই দলে শুধুমাত্র একজন বাদে বাকি সবারই আর্ন্তজাতিক ওয়ানডে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। সিনিয়র খেলোয়াড়দের মধ্যে বেশ কয়েকজনের এটি চতুর্থ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। দলের অনেক খেলোয়াড়ের একশ বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। পেছনের একবছরে আমরা অনেকগুলো ওয়ানডে ম্যাচ জিতেছি। জয়ের শতকরা হার ৫১ ভাগ।’

সেরা দল গঠনের তৃপ্তি ও সন্তষ্ঠির হাসি প্রধান নির্বাচক মিনহাজুলের চোখে মুখে।

তবে দল সেরা হলেও সাফল্যের জন্য এবারের বিশ্বকাপের মাঠে বাংলাদেশের লড়াইটা অনেক কঠিন। এই প্রথম বিশ্বকাপের আসরে বাংলাদেশকে অংশগ্রহণকারী সব প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়তে হচ্ছে। সেমিফাইনালের আগ পর্যন্ত খেলতে হবে ৯টি ম্যাচ। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে এতবেশি ম্যাচ আগে কখনো বাংলাদেশ খেলেনি। আগে সাধারণত গ্রুপে দুটো ম্যাচ জিতলেই পরের রাউন্ডে যাওয়ার টিকিট মিলতো। কিন্তু এবার সামনে এগুনোর পথ অনেক কঠিন। জিততে হবে অনেক ম্যাচ।

-বেশি ম্যাচ কি তাহলে বেশি সুযোগ নয়?

মিনহাজুল বললেন-‘নাহ্, এটা অবশ্যই কঠিন। আয়ারল্যান্ড সফরসহ বিশ্বকাপে আমাদের একনাগাড়ে ১৪টি ম্যাচ খেলতে হবে। এটা কিন্তু অনেক বড় ব্যাপার। আমরা এর আগে টানা এভাবে খেলিনি। কঠিন হবে। তবে আমাদের দলটা অভিজ্ঞ। মানসিক দিক থেকে শক্ত থাকলে এবং নিজের মতো করে নিতে পারলে ইনশাল্লাহ আমরা ভালো কিছু করতে পারবো।’

-সেই ভালো কিছু, মানে কতদুর যাওয়া?

মিনহাজুল লক্ষ্যটা জানালেন-‘এক থেকে চারের মধ্যে থাকা।’

সেরা দল। কঠিন বিশ্বকাপ। বড় লক্ষ্য-২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ট্যাগলাইন এটাই।

আপনার মতামত লিখুন :

ইউএস ওপেনে শুরু তারকা লড়াই

ইউএস ওপেনে শুরু তারকা লড়াই
বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম আসরে মুখোমুখি টেনিস তারকারা, ছবি: সংগৃহীত

ফ্লাশিং মিডোসে আজ সোমবার (২৬ আগস্ট ) গড়াচ্ছে বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম আসর ইউএস ওপেন। টেনিসের এ মেজর টুর্নামেন্টটি সেরেনা উইলিয়ামসের জন্য দারুণ এক সুযোগডোসে আজ সোমবার (২৬ আগস্ট ) গড়াচ্ছে বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম আসর ইউএস ওপেন। টেনিসের এ মেজর টুর্নামেন্টটি সেরেনার জন্য দারুণ এক সুযোগ। সুযোগটা অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি মার্গারেট কোর্টকে ছোঁয়ার।

মেয়ের মা হওয়ার পর থেকে অনেক দিন ধরেই মেজর শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে কোর্টে লড়ে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের এ টেনিস সুপারস্টার। কিন্তু ভাগ্যের শিকে খুলছে না কিছুতেই। মার্গারেট কোর্টের ২৪তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের রেকর্ড স্পর্শ করতে সেরেনার দরকার আর মাত্র একটি শিরোপা।

২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফি আগেই এসে ধরা দিয়েছে যুক্তরাষ্টের উইলিয়ামস পরিবারের এ ছোট মেয়ের হাতে। তার লক্ষ্য এখন ২৪তম মেজর ট্রফি। এবারের ইউএস ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলেই তার অনেক দিনের এ স্বপ্নটা আলোর মুখ দেখবে।

শিরোপা জয়ের স্বপ্ন জিইয়ে রাখতে হলে প্রথম রাউন্ডেই রুশ গ্ল্যামার গার্ল মারিয়া শারাপোভাকে বিদায় করতে হবে সেরেনাকে। ভয় নেই অবশ্য এ মার্কিন তারকার। জয়ের রেকর্ড তার পক্ষেই ভারী। দুজনের ২১ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে ১৯ বারই জয়ের দেখা পেয়েছেন সেরেনা। প্রথম রাউন্ডে যেই হারুক। আসরের সৌন্দর্য কমবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

সেরেনার স্বপ্ন ভেঙে দিতে তৈরী আছেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জাপানের নাওমি ওসাকা। ট্রফি জয়ের দৌড়ে লড়তে প্রস্তুত রোমানিয়ান তারকা সিমোনা হ্যালেপও।

ছেলেদের এককে ১৬ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন নোভাক জোকোভিচ কোর্টে নামছেন শিরোপা ধরে রাখার মিশনে। বিশ্বের নাম্বার ওয়ান এ সার্বিয়ান তারকার সঙ্গে লড়াইয়ে আছেন ১৮ মেজর ট্রফি জেতা বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা তারকা স্পেনের রাফায়েল নাদাল। অস্ত্রে শাণ দিয়ে রেখেছেন ২০ গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক সুইস মহাতারকা রজার ফেদেরারও।

 

ইতিহাসের অন্যতম সেরা ইনিংস, প্রশংসা বৃষ্টিতে বেন স্টোকস

ইতিহাসের অন্যতম সেরা ইনিংস, প্রশংসা বৃষ্টিতে বেন স্টোকস
মহাকাব্যিক সেই ইনিংস শেষে ড্রেসিংরুমে বেন স্টোকস

বিশেষণের শব্দ হারিয়ে ফেলেছেন সবাই। কোনো প্রশংসা বাক্যই বুঝি যথেষ্ট নয়! ২৮৬ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে হারের দ্বারপ্রান্তে ছিল ইংল্যান্ড। মনে হচ্ছিল হেডিংলিতে জিতে অ্যাশেজে আরও এগিয়ে যাবে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু একজন জানতেন ম্যাচটা তারই হবে!

জিততে হলে দশম উইকেট জুটিতে ইংল্যান্ডের চাই ৭৩ রান।  মিশন ইমপসিবল হয়ে উঠেছিল ম্যাচ। কিন্তু তিনি জানতেন জিতবে তারই দল। শেষ পর্যন্ত সেই ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তারই জয় হলো। দেখা গেল বেন স্টোকস বীরত্ব। শেষ উইকেট জুটিতে জ্যাক লিচকে নিয়ে গড়লেন ৭৬* রানের জুটি। বিস্ময়কর হলেও সত্য যেখানে লিচের অবদান মাত্র ১ রান! আর এখানেই লুকিয়ে স্টোকসের বীরত্ব। অনেকটাই একাই হেডিংলি টেস্টে ইংল্যান্ডকে এনে দিয়েছেন ১ উইকেটের অনবদ্য এক জয়।

২১৯ বলে ১১ চার ও ৮ ছক্কায় অপরাজিত ১৩৫ রান! প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো টেস্ট ইতিহাসের সেরা ইনিংসের একটি!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566800539241.jpg

রোববার এমন রূপকথার জন্ম দিয়ে বেন স্টোকস ভাসছেন প্রশংসার বৃষ্টিতে। আর নিজে জানাচ্ছিলেন, ‘দেখুন, লিচ যখন এল উইকেটে, তখনো হাল ছাড়িনি। কারণ জানতাম কী করতে হবে আমাকে। অবশ্য লিচ এর আগেও এমনটা করেছে। নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে নেমে ৯২ রান তুলতে দেখেছি ওকে। এটা ঠিক শেষ দিকে এসে আমি তাকাতেই পারছিলাম না।’

পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত রান তোলাতেই ব্যস্ত ছিলেন স্টোকস। জানতেন এখানে প্রতিটি বলকেই কাজে লাগাতে হবে। শেষ ১০ ওভারে তুলেন ৭৬ রান। ইংল্যান্ডের এই অতি মানব বলছিলেন, ‘শুরুতে পরিস্থিতি বুঝে ধীর গতিতে খেলেছি। তবে লিচ নামতেই বুঝলাম এবার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের দ্রুত শেষ করতে হবে। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলগুলো লিচ খেলেছে। সত্যিই এটা অসাধারণ।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566800560846.jpg

আর এভাবেই ৩৫৯ রান তাড়া করে জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। টেস্টে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড এটিই।  এই অর্জনের পর খোদ অজিরাই মেতেছেন স্টোকস বন্দনায়। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাদের ফেসবুক পেজে লিখেছে, ‘টুপিখোলা অভিনন্দন বেন স্টোকস আর ইংল্যান্ড ক্রিকেটকে। দুর্দান্ত খেলে সিরিজে ১-১ সমতা এনেছে তারা।’

বিস্মিত জিওফ বয়কটও। ইংল্যান্ডের এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার বললেন, ‘আমার দীর্ঘ জীবনে বেশ কিছু অসাধারণ মুহূর্ত দেখেছি। কিন্তু ৫০ বছরেরও বেশি সময়ে এটাই সেরা! জাদুকরি এক ইনিংসে স্টোকস অ্যাশেজ বাঁচিয়ে দিল। বিশ্বকাপের চেয়েও এটি সেরা পারফরম্যান্স ছিল।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566800626647.jpg

এইতো কিছুদিন আগেই বিশ্বকাপের ফাইনালে তারই ব্যাটে জয়ের দেখা পেয়েছিল ইংল্যান্ড। প্রথমবারের মতো তাদের হাতে উঠে বিশ্বকাপ ট্রফি!

ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটার যুবরাজ সিংও বিস্মিত। তিনি টুইটারে লিখলেন, ‘অ্যাশেজে অবিশ্বাস্য দৃশ্য। ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না, স্টোকস তুমি ব্যাট হাতে কী করেছ। তোমাকে টুপিখোলা অভিনন্দন।’ 

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার জেসন গিলেস্পির মতে এটি টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ইনিংস। একই কথা বললেন কোচ টম মুডি। তার টুইট, ‘দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন স্টোকস। টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ইনিংস এটি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566800688608.jpeg

কেভিন পিটারসেনও মুগ্ধ স্টোকসের ইনিংসে। ইংল্যান্ডের সাবেক এই তারকা ক্রিকেটারের টুইট, ‘হাই, মাই নেম ইজ স্টোকস, বেন স্টোকস!’ সবার কাছেই আসলে এমন ইনিংস রীতিমতো আরাধ্য! তবে শেষ দিকে এসে লেগ বিফোর উইকেট থেকে স্টোকসের বেঁচে যাওয়ার প্রসঙ্গটাও এসেছে। যেখানে আম্পায়ার অজিদের আবেদন এড়িয়ে যান। স্টোকসের প্রশংসার ফাঁকে অস্ট্রেলিয়ান গ্রেট মার্ক ওয়াহ এই কথাটিও মনে করিয়ে দিলেন!

মজার টুইট করলেন গ্রায়েম সোয়ান। ইংল্যান্ডের সাবেক এই স্পিনার লিখেছেন, ‘আমার কোনো বোন নেই। থাকলে বেন স্টোকসের সঙ্গে বিয়ে দিতাম।’

ঠিক তাই, সবার কাছে এখন এতোটাই প্রিয় বেন স্টোকস!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র