Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

‘এক ঘণ্টায় বিজিএমইএ ভবন গুড়িয়ে দেওয়া সম্ভব’

‘এক ঘণ্টায় বিজিএমইএ ভবন গুড়িয়ে দেওয়া সম্ভব’
সচিবালয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ছবি: বার্তা২৪
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

হাতিরঝিলে অবস্থিত বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে সেনাবাহিনী নয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউকই যথেষ্ট বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেছেন, 'আমাদের দেশেই এমন প্রযুক্তি আছে এক ঘণ্টার ভেতরে বিজিএমইএ ভবনটি ভেঙে স্তূপ আকারে জায়গাতে বসে পড়বে'।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার সবশেষ প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, 'অনেক ব্যয়ে অনেক পরিকল্পনার ভেতর দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিল করা হয়েছে। কিন্তু সেই সুন্দর ঝিলের মাঝখানে বিষফোঁড়ার মতো বিজিএমইএ ভবন করা হয়েছে। নির্মাণের সময় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়নি। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ভবনটি গড়ে উঠেছে। আর সেই ব্যর্থতার দায় আমাদের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেকেরই রয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এরইমধ্যে ভাঙার কার্যক্রম গ্রহণ করেছি।'

মন্ত্রী বলেন, 'এরইমধ্যে ভবনটি আমাদের দখলে নিয়েছি। ভবনে অন্য কারো প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছি। ভবনের প্রয়োজনীয় সেবা সংযোগের মধ্যে একেবারে প্রয়োজন ছাড়া সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি। ভবনটি ভাঙার জন্য পরিবেশ তৈরি করতে সময় লাগবে। ভবনটি গুড়িয়ে দেবার পরে যেখানে পড়বে তার আশপাশে যাতে দুর্ঘটনার মুখোমুখি না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি অর্থাৎ বিদ্যুতের সংযোগ অনেক দূর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে গ্যাস পানির লাইন সংযোগস্থল থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে।'

তিনি বলেন, 'অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এবারের বিজ্ঞান সম্মত, পরিবেশ সম্মতভাবে ভবন ভাঙার প্রস্তুতি নিয়েছি। যাতে কোন ভাবেই প্রাণহানি বা ক্ষতির সম্মুখীন না হই, সেভাবেই এগোচ্ছি। এই ভবন ভাঙতে ইতোমধ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছি। যে সকল প্রতিষ্ঠানের এ যাবতীয় ইমারত ভাঙার অভিজ্ঞতা আছে তাদের তাদের ২৪ এপ্রিলের মধ্যে কোটেশন দাখিল করার জন্য আহ্বান করেছি। আগামী ২৫ এপ্রিল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব, কোন সংস্থা উপযুক্ত যাদের দিয়ে ভাঙা সম্ভব।'

তিনি বলেন, 'আমরা যদি উপযুক্ত সংস্থা পাই তাহলে তাদের সমন্বয়ে, আর যদি উপযুক্ত সংস্থা না পাওয়া যায় তাহলে আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাজউকের পক্ষ থেকে ভবনটা উচ্ছেদের জন্য যে প্রক্রিয়া দরকার সেই প্রক্রিয়ায় যাব। যেহেতু এ ধরনের ইমারত ভাঙতে হলে অন্যান্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সুযোগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। তাই আমরা সুযোগটি দেব। দরপত্রের পর উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান না পাওয়া গেলে আমরাই ভাঙব।'

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভবনটি বিজিএমইএ ভবন কর্তৃপক্ষকেই ভাঙার দায়িত্ব নেওয়ার কথা, তবে মন্ত্রী বলেছেন, 'ভাঙার দায় দায়িত্ব আমাদেরেই নিতে হবে। কারণ আমরা চাই রাষ্ট্রের চমৎকার একটি স্থাপনার মাঝখানে এধরনের অবৈধ স্থাপনা টিকে না থাকুক। একই সঙ্গে দেশবাসী জানুক যে যেখানে বেআইনি ইমারত থাকবে বা স্থাপনা নির্মাণ করবেন তাদের সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।'

ভবন ভাঙতে ডিনামাইট ব্যবহার প্রসঙ্গে বলেন, 'কোন ভাবেই ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে না। আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভবনটি ভেঙে ফেলব। সে ক্ষেত্রে নানা রকম পরিকল্পনা রয়েছে। যারা টেন্ডার দাখিল করবে তাদের মধ্যে দেখব সেই সংস্থার আধুনিক প্রযুক্তি আছে কি না? যদি না থাকে আমরা বাইরের প্রযুক্তি সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে আসব। আমাদের সঙ্গে এরইমধ্যে অভিজ্ঞ নির্মাণ প্রযুক্তিতে যারা দক্ষ তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে আমরা অগ্রাধিকার দিতে চাই দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে, যদি সেরকম না পাই সেক্ষেত্রে আমরা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলব। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। কোনভাবেই ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে না কোনভাবেই মানুষের জীবন এবং মালে ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতিতে এই ভবন ভাঙা হবে না।'

সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'আমাদের সিভিল প্রশাসনই যথেষ্ট। এ জাতীয় কাজ সম্পন্ন করার জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউকই যথেষ্ট। এলাকার নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বিষয়ে আইন প্রায়োগকারী সংস্থার সাহায্যে নিতে পারি। ইমরাত ভাঙতে বাইরের অন্য কোন সংস্থার প্রয়োজন হবে না।'

তিনি আরও বলেন, 'যে পদ্ধতির কথা গণমাধ্যমে আসছে সবটা সঠিকভাবে আসেনি। ডিনামাইটের প্রচলিত অর্থ বোমা হলেও এটা আসলে একটা নির্মাণ পদ্ধতি। আমাদের দেশেই এমন সব পদ্ধতি আছে ভবনটি ভাঙতে বেশি সময় লাগবে না। একঘণ্টার ভেতরে ভবনটি স্তূপ আকারে জায়গাতেই বসে পড়বে।'

আপনার মতামত লিখুন :

উন্নয়নে রংপুর পিছিয়ে থাকবে না: নবাগত ডিসি

উন্নয়নে রংপুর পিছিয়ে থাকবে না: নবাগত ডিসি
রংপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আসিব আহসান, ছবি: বার্তা২৪

রংপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আসিব আহসান বলেছেন, 'প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও রংপুরকে এগিয়ে নিতে চাই। সরকার দারিদ্র বিমোচন, কর্মসংস্থান ও সুষম উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। উন্নয়ন থেকে রংপুর পিছিয়ে থাকবে না।'

মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে রংপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডিসি বলেন, 'খাদ্য শষ্যের ভাণ্ডারখ্যাত পিছিয়ে পড়া রংপুরের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। এই জেলাতে নদীভাঙন রোধ, যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, বিসিকের দ্বিতীয় শিল্প নগরী, আইটি পার্ক ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে। শুধু তাই নয়, করিগরি শিক্ষার মাধ্যমে জেলায় ব্যাপক কর্মসংস্থানে জোর দেওয়া হয়েছে।'

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সৈয়দ এনামুল কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় রংপুরের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন সাংবাদিকরা।

ডিসি বলেন, 'রংপুর জেলা যাতে পিছিয়ে না থাকে সেজন্য বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যমান সমস্যা সমূহ নিরসনে সবার সাথে আলোচনা করা হবে। ছোট ছোট সমস্যাগুলো যত দ্রুত সম্ভব সমাধান করা হবে।'

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ফরহাদ হোসেন, সহকারী কমিশনার (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) মাহমুদ হাসান, এনডিসি রায়হানুল ইসলাম সহ রংপুর প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ক্লাব, সিটি প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, ভিডিও জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, রংপুর জেলা ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনেরর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

যক্ষ্মা শনাক্ত ও চিকিৎসায় ইউএসএআইডি’র সহায়তা জোরদার

যক্ষ্মা শনাক্ত ও চিকিৎসায় ইউএসএআইডি’র সহায়তা জোরদার
অংশীদারিত্ব বিবৃতির (এসপি) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের একটি মুহূর্ত, ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে যক্ষ্মা রোগ নির্মূল করার জন্য নিজ নিজ অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি)।

নতুন এই অংশীদারিত্ব বিবৃতিতে (এসপি) স্বাক্ষর করেছেন তারা। যার মধ্য দিয়ে ২০২২ সালের মধ্যে যক্ষ্মা রোগের প্রকোপ হ্রাস করতে একটি যৌথ কাঠামো প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিবৃতি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইউএসএআইডি মিশন পরিচালক ডেরিক ব্রাউন বলেন, ‘ইউএসএআইডি বাংলাদেশের সব ধরনের অচিহ্নিত যক্ষ্মা (টিউবারকুলোসিস বা সংক্ষেপে টিবি) শনাক্ত, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মপ্রচেষ্টায় জোরালো সহযোগিতা করবে।’

বাংলাদেশকে আগামী পাঁচ বছরে ১৫ লাখেরও বেশি নতুন যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত করে তাদের চিকিৎসা করতে হবে উল্লেখ করে ব্রাউন আরও বলেন, ‘আজ অংশীদারিত্ব বিবৃতি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ইউএসএআইডি, বাংলাদেশ সরকারের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে, যখন কিনা দেশটি ২০২২ সাল নাগাদ তাদের লক্ষ্য অর্জনের প্রচেষ্টা জোরদার করছে।’

২০১৮ সালে বাংলাদেশ ২৫ লাখেরও বেশি যক্ষ্মা রোগীর চিকিৎসা করেছিল। তবে প্রায় ২৬ শতাংশ সংক্রমণের ঘটনাই অচিহ্নিত থেকে যায়। মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স (এমডিআর) অর্থাৎ একাধিক ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা ও শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে অচিহ্নিত থাকার হার আরও বেশি।

উল্লেখ্য, ইউএসএআইডি’র মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১৯৭১ সাল থেকে বাংলাদেশকে ৭শ’ কোটি ডলারেরও বেশি উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে। ২০১৮ সালে সংস্থাটি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রায় ২১ কোটি ৯০ লাখ ডলার দিয়েছিল। এসবের মধ্যে ছিল খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও অনুশীলন এগিয়ে নেওয়া, পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার সামর্থ্য বৃদ্ধি বিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র