Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

টিভি দেখতে গিয়ে নিখোঁজ, অপহৃত কিশোরী ভারতে

টিভি দেখতে গিয়ে নিখোঁজ, অপহৃত কিশোরী ভারতে
পাচারকারীরা, ছবি: সংগৃহীত
আজিজুল হক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বেনাপোল (যশোর)
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বন্দরনগরী শহর বেনাপোলে মেয়ে পাচারকারীদের নামে মামলা করে আসামিদের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে একটি পরিবার।

এদিকে মেয়েটিকে ভারতে পাচারের ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ পাচারকারীদের খপ্পর থেকে তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। এতে পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনের অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশের দাবি ওই কিশোরীকে উদ্ধারের সব রকম চেষ্টা তারা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আসামিরা হলেন- বেনাপোলের ভবারবেড় গ্রামের শাহাজানের স্ত্রী মিনা বেগম (৫০), তার মেয়ে লিপি খাতুন (৩৪), ছেলে টুটুল (২৫) ও তুহিন হোসেন ওরফে কালু মিয়া (৩৮)।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ভারত সীমান্ত ঘেঁষা গ্রাম হচ্ছে বেনাপোলের পাঠবাড়ি। এ গ্রামেরই দরিদ্র পরিবারের কিশোরী মেয়ে (ছদ্ম নাম) কুলসুম (১৫)। ছোট বেলা থেকে সে মানসিক ভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন। সপ্তম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছিল। টিভি দেখতে প্রতিবেশী শাহাজানের বাড়িতে তার আসা-যাওয়া ছিল। দেখতে সুন্দরী হওয়ায় নজর পড়ে যায় ওই পরিবারের লোকজনের। বেশ আগে থেকেই শাহাজানের পরিবার ভারতের বোম্বেতে যাতায়াত করে। কিন্তু মেয়ে কুলসুমকে যে তাদের হাতে পাচারের শিকার হতে হবে তা বুঝতে পারেনি অসহায় ভুক্তভোগীর পরিবার।

কুলসুমের পরিবার জানায়, গত ১ এপ্রিল সকালে টিভি দেখতে শাহাজানের বাড়িতে যায় কুলসুম। কিন্তু বাড়ি ফেরার সময় পেরিয়ে গেলেও সে আসছিল না। এক সময় তাকে খোঁজা হয়। এক পর্যায়ে শাহাজানের স্ত্রী মিনাকে বাড়িতে না পেয়ে তাকে ফোন করা হয়। এ সময় কুলসুম কোথায় আছে জানতে চাওয়া হলে মিনা জানেন না বলে জানান। তবে চাপ প্রয়োগ করলে মিনা জানান, কুলসুম তার সঙ্গে বেড়াতে এসেছে। এরপর ফোন কেটে দেন।

ওই দিনই এ বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়। কিন্তু পুলিশ জানায়, তদন্ত ছাড়া মামলা নেওয়া যাবে না। পাঁচদিন পরে নিরুপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দ্বারস্থ হলে তার নির্দেশে পোর্টথানা পুলিশ মামলা গ্রহণ করে। এরই মধ্যে নিশ্চিত হওয়া যায় পাচারকারীরা কুলসুমকে ভারতে নিয়ে গেছে। বর্তমানে আটকের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে আসামিরা।

অভিযোগ রয়েছে, পাচারকারীদের নামে মামলা করায় বাইরে থেকে নানাভাবে ফোনে হুমকি দেয়া হচ্ছে কুলসুমের পরিবারকে।

এদিকে আসামিদের বাঁচাতে তদবির চালায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। তাদেরই মধ্যস্থতায় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে কথা হয় ভারতে অবস্থানকারী ওই পাচারকারীদের সঙ্গে। তারা জানায়, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কুলসুমকে বাংলাদেশে তার পরিবারের কাছে ফেরত দেয়া হবে। কিন্তু শর্ত রয়েছে ১২ হাজার টাকা দিতে হবে। পরিবার-পুলিশের পক্ষ থেকে সবাই পাচারকারীদের টাকা দিতেও রাজি হয়। কিন্তু সময় পার হলেও ফেরত দেওয়া হয়নি কুলসুমকে। এখন তারা আর ফোন ধরছে না।

কুলসুমের মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘প্রথমে পুলিশ আন্তরিক হলে মেয়েকে উদ্ধার করা সম্ভব হতো। আমরাই কেবল পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। কিন্তু তারা আসামি ধরা বা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে না। এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। পাচারকারীরা ফোন করে হুমকি দিচ্ছে।’

এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পিন্টু লাল দাস জানান, এ পর্যন্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মেয়েটি এখন ভারতে আছে। এ কারণে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে তারা উদ্ধারের সব রকম চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

তীব্র স্রোতে ভেঙে গেল ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক

তীব্র স্রোতে ভেঙে গেল ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

বানের পানির তীব্র স্রোতে শেষমেষ ভেঙে গেল টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর-তারাকা‌ন্দি সড়‌ক। বৃহস্প‌তিবার (১৮ জুলাই) রাত পৌনে ৮টার দিকে সড়কটির বেশ কিছু অংশ ভেঙে পানি ঢুকে যায়।

এদিকে যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৯১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার শতাধিক গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রাম, তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। বন্যার পানি প্রবেশ করে পৌরসভার টেপিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পানির স্রোত বইছে। তীব্র স্রোতে নদীর পানি প্রবেশ করায় ভেঙে গেছে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর। বন্যাকবলিত মানুষজন গবাদি পশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাঁচটি মাদরাসা ও ৪৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করায় সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।

Flood

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মাঝে ২০০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে বানভাসি বেশিরভাগ মানুষ ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঝোটন চন্দ জানান, বন্যাকবলিতদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধির ফলে অর্জুনা ইউনিয়নের তাড়াই বাঁধ ভেঙে গেছে। এছাড়া ভাঙন অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কাজ করছে।

টাঙ্গাইলের পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, ভূঞাপুরে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৯১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পরিস্থিতি শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকাল পর্যন্ত অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন অংশে ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ চলছে।

আরও পড়ুন: হুমকির মুখে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক

নেত্রকোনায় ছেলে ধরা সন্দেহে যুবক আটক

নেত্রকোনায় ছেলে ধরা সন্দেহে যুবক আটক
আটককৃত যুবক, ছবি: সংগৃহীত

ছেলে ধরা সন্দেহে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ফারুক মিয়া নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার হিরণপুর বাজার থেকে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে। আটককৃত ফারুক কুমিল্লার লাঙ্গলকোট উপজেলার ঢুবাই বাজার গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানান, হিরণপুর বাজারে ফারুক মিয়ার ঘোরাফেরায় স্থানীয়দের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে। শ্যামগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশকে খবর দিলে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে শ্যামগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শন) আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আটক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেত্রকোনায় পাঠানো হয়েছে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র