Alexa

টিভি দেখতে গিয়ে নিখোঁজ, অপহৃত কিশোরী ভারতে

টিভি দেখতে গিয়ে নিখোঁজ, অপহৃত কিশোরী ভারতে

পাচারকারীরা, ছবি: সংগৃহীত

আজিজুল হক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বেনাপোল (যশোর), বার্তা২৪.কম

বন্দরনগরী শহর বেনাপোলে মেয়ে পাচারকারীদের নামে মামলা করে আসামিদের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে একটি পরিবার।

এদিকে মেয়েটিকে ভারতে পাচারের ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ পাচারকারীদের খপ্পর থেকে তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। এতে পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনের অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশের দাবি ওই কিশোরীকে উদ্ধারের সব রকম চেষ্টা তারা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আসামিরা হলেন- বেনাপোলের ভবারবেড় গ্রামের শাহাজানের স্ত্রী মিনা বেগম (৫০), তার মেয়ে লিপি খাতুন (৩৪), ছেলে টুটুল (২৫) ও তুহিন হোসেন ওরফে কালু মিয়া (৩৮)।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ভারত সীমান্ত ঘেঁষা গ্রাম হচ্ছে বেনাপোলের পাঠবাড়ি। এ গ্রামেরই দরিদ্র পরিবারের কিশোরী মেয়ে (ছদ্ম নাম) কুলসুম (১৫)। ছোট বেলা থেকে সে মানসিক ভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন। সপ্তম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছিল। টিভি দেখতে প্রতিবেশী শাহাজানের বাড়িতে তার আসা-যাওয়া ছিল। দেখতে সুন্দরী হওয়ায় নজর পড়ে যায় ওই পরিবারের লোকজনের। বেশ আগে থেকেই শাহাজানের পরিবার ভারতের বোম্বেতে যাতায়াত করে। কিন্তু মেয়ে কুলসুমকে যে তাদের হাতে পাচারের শিকার হতে হবে তা বুঝতে পারেনি অসহায় ভুক্তভোগীর পরিবার।

কুলসুমের পরিবার জানায়, গত ১ এপ্রিল সকালে টিভি দেখতে শাহাজানের বাড়িতে যায় কুলসুম। কিন্তু বাড়ি ফেরার সময় পেরিয়ে গেলেও সে আসছিল না। এক সময় তাকে খোঁজা হয়। এক পর্যায়ে শাহাজানের স্ত্রী মিনাকে বাড়িতে না পেয়ে তাকে ফোন করা হয়। এ সময় কুলসুম কোথায় আছে জানতে চাওয়া হলে মিনা জানেন না বলে জানান। তবে চাপ প্রয়োগ করলে মিনা জানান, কুলসুম তার সঙ্গে বেড়াতে এসেছে। এরপর ফোন কেটে দেন।

ওই দিনই এ বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়। কিন্তু পুলিশ জানায়, তদন্ত ছাড়া মামলা নেওয়া যাবে না। পাঁচদিন পরে নিরুপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দ্বারস্থ হলে তার নির্দেশে পোর্টথানা পুলিশ মামলা গ্রহণ করে। এরই মধ্যে নিশ্চিত হওয়া যায় পাচারকারীরা কুলসুমকে ভারতে নিয়ে গেছে। বর্তমানে আটকের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে আসামিরা।

অভিযোগ রয়েছে, পাচারকারীদের নামে মামলা করায় বাইরে থেকে নানাভাবে ফোনে হুমকি দেয়া হচ্ছে কুলসুমের পরিবারকে।

এদিকে আসামিদের বাঁচাতে তদবির চালায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। তাদেরই মধ্যস্থতায় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে কথা হয় ভারতে অবস্থানকারী ওই পাচারকারীদের সঙ্গে। তারা জানায়, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কুলসুমকে বাংলাদেশে তার পরিবারের কাছে ফেরত দেয়া হবে। কিন্তু শর্ত রয়েছে ১২ হাজার টাকা দিতে হবে। পরিবার-পুলিশের পক্ষ থেকে সবাই পাচারকারীদের টাকা দিতেও রাজি হয়। কিন্তু সময় পার হলেও ফেরত দেওয়া হয়নি কুলসুমকে। এখন তারা আর ফোন ধরছে না।

কুলসুমের মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘প্রথমে পুলিশ আন্তরিক হলে মেয়েকে উদ্ধার করা সম্ভব হতো। আমরাই কেবল পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। কিন্তু তারা আসামি ধরা বা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে না। এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। পাচারকারীরা ফোন করে হুমকি দিচ্ছে।’

এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পিন্টু লাল দাস জানান, এ পর্যন্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মেয়েটি এখন ভারতে আছে। এ কারণে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে তারা উদ্ধারের সব রকম চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

জেলা এর আরও খবর