Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

মালামাল সরিয়ে নিতে আবেদন করবে বিজিএমইএ

মালামাল সরিয়ে নিতে আবেদন করবে বিজিএমইএ
বিজিএমইএ ভবন ভাঙার প্রস্তুতি চলছে, বার্তা২৪.কম
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

হাতিরঝিলের বিষফোড়া খ্যাত বিজিএমইএ ভবন সরিয়ে নিতে কাজ শুরু করেছে রাজউক। ইতোমধ্যেই এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে সরকারি এই সংস্থাটি। তবে ভবন সিলগালা করার সময় বিজিএমইএ’সহ ভবনটির ভেতরে থাকা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালামাল থেকে যায় ভেতরেই। আর সেই মালামাল সরিয়ে নিতে রাজউক বরাবর আবেদন করবে বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ এর সূত্রে জানা যায়, ১২ এপ্রিলের মধ্যে ভবন খালি করে দেওয়ার বিষয়ে মুচলেকা দিয়েছিল বিজিএমইএ। তারপরও নানা কারণে সব মালামাল সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, ডিবিএলসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যাদের কার্যালয় ছিল বিজিএমইএ ভবনে তারা তাদের সব মালামাল সরিয়ে নিতে পারেনি ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যার মধ্যে। অনেকের মালামাল ভবনের নিচের তলায় পরে রয়েছে। এর মধ্যে অনেক মূল্যবান মালামালও রয়েছে। আর তাই বিজিএমইএ এর পক্ষ থেকে মালামাল সরিয়ে নিতে আবেদন করা হবে রাজউকের কাছে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঊর্ধ্বতনরা।

ঘটনার সত্যতার কথা জানা যায় বিজিএমইএ এর বর্তমান সভাপতি মো: সিদ্দিকুর রহমানের বক্তব্যেও। তিনি বুধবার বিজিএমইএ’র এর উত্তরার নতুন ভবনে গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, ভবনের ভেতরে থাকা মালামাল নিরাপদে সরিয়ে নিতে রাজউকের কাছে আবেদন করা হবে। শুধু তাই নয় এ বিষয়ে রাজউক সহায়তা করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

এসব বিষয়ে রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমান বিজিএমইএ ভবন সিলগালা করার সময়ই জানিয়েছিলেন যে, বিজিএমইএ এর ভেতরে থাকা মালামাল পুলিশ হেফাজতে থাকবে। এসব মালামালের বিষয়ে আইনগতভাবে সকল সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশ ছিল ১২ এপ্রিলের মধ্যেই ভবন খালি করার। কিন্তু তারপরও বিজিএমইএ ভবন পুরোপুরি খালি না করায় সমালোচনার তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে।

রাজউক থেকে জানা যায়, ভবন অপসারণের জন্য ২৪ এপ্রিলের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। শুধু তাই নয় দরপত্র জমা হওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যেই উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করীম। পাশাপাশি তিন মাসের মধ্যেই অপসারণ হওয়া ভবনের ধ্বংসাবশেষও সরিয়ে ফেলা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি ।

প্রসঙ্গত ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর বিজিএমইএ ভবন উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই কারওয়ান বাজার সংলগ্ন বেগুনবাড়ি খালে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে উল্লেখ করে ২০১০ সাল ৩ অক্টোবর বিজিএমইএ ভবন কেন ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তার কারণ জানতে চেয়ে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমোটো) রুল জারি করেন। ২০১১ সালের ০৩ এপ্রিল বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ তার রায়ে বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।

আপনার মতামত লিখুন :

পণ্য না দিয়েও টাকা নিচ্ছে আগোরা

পণ্য না দিয়েও টাকা নিচ্ছে আগোরা
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার পশ্চিম মালিবাগ এলাকার বাসিন্দা রাশেদ শাহরিয়ার পলাশ। আগোরা সুপারশপের নিয়মিত ক্রেতা। শনিবার (৮ জুন) রাজধানীর মগবাজারে আগোরার আউটলেট থেকে ডাল, তেল, মশলা, সাবানসহ বেশ কিছু পণ্য কিনে ক্যাশ কাউন্টারে বিল পরিশোধের জন্য আসেন। বিল দিতে গিয়ে দেখেন, বিলের পরিমাণ বেশি।

তারপর বিল পরিশোধ করলেও সন্দেহ হওয়ায় কাউন্টারে দায়িত্বে থাকা কর্মীকের বিলটা একটু পরীক্ষা করে দেখতে বলেন তিনি। কিন্তু কাউন্টার থেকে বলা হয়, ‘বিল তৈরিতে আগোরার কোনো ভুল হয় না।’ হাতে সময় কম থাকায় তাড়াহুড়া করে দ্রুত বাসায় চলে আসেন তিনি। বাসায় গিয়ে পণ্যের লিস্টের সঙ্গে পরিশোধ করা ক্যাশ মেমো মেলাতে গিয়ে হতবাক হন। তিনি ইলিশ না কিনলেও বিলে ইলিশ মাছ বাবদ চার হাজার ১৪৫ টাকা অতিরিক্ত ধরা হয়েছে।

এ প্রতারণার অভিযোগে গত ১১ জুন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে মগবাজার আউটলেটের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন রাশেদ শাহরিয়ার পলাশ। আগোরা সুপারশপ রহিম আফরোজ গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

অভিযোগে বলা হয়, ‘মগবাজার আউটলেট থেকে ৮ জুন নানা পণ্য কিনে বাসায় এসে দেখি, আমি ইলিশ মাছ না কিনলেও আমার কাছ থেকে চার কেজি ৩৬৪ গ্রাম ইলিশের দাম চার হাজার ১৪৫ টাকা রাখা হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে আউটলেটে অভিযোগ দিলে তারা জানান, তাদের কাছে ইলিশ মাছ নেই। পণ্য না দিয়েও মূল্য রাখায় আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’

bill
অভিযোগ, ছবি: বার্তা২৪.কম 

 

ভুক্তভোগী রাশেদ শাহরিয়ার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বিষয়টির সুরাহা করতে আউটলেটের ব্যবস্থাপককে জানালে, তিনি জানান, তাদের আউটলেটে ইলিশ মাছই নেই। এরপর মগবাজার আউটলেটের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ দেখে প্রমাণ হয় যে ইলিশ মাছ না দিয়েই আমার কাছ থেকে মূল্য রাখা হয়েছে। এরপর এমন ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন ওই আউটলেটের ব্যবস্থাপক ফারুকুল আলম।’

তিনি জানান, আউটলেটে ইলিশ না থাকা সত্ত্বেও বিলের সফটওয়্যারে ইলিশের কোড এসেছে কীভাবে? এমন প্রশ্ন করলে ব্যবস্থাপক সঠিক জবাব দিতে পারেননি। এরপর তার বিগত দুই বছরের বিলের স্ট্যাটাস প্রিন্ট দেখতে চান ব্যবস্থাপকের কাছে। কিন্তু ব্যবস্থাপক তাতেও অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন, ‘আমাদের কাছে নিয়মিত ক্রেতাদের মাত্র দুই মাসের বিলের ডাটা সংরক্ষিত থাকে।’

এ ধরনের উত্তরে ক্রেতাদের অভিযোগ বাড়ছে সুপারশপ আগোরার বিরুদ্ধে। এ সুপারশপের নিয়মিত অনেক ভোক্তার এখন অভিযোগ, দুই মাসের বেশি সময়ের বিলের ডাটা সংরক্ষণ না করে আগোরা গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। কারণ আগোরার মেম্বারশিপ নিয়ে যারা নিয়মিত কেনাকাটা করেন, তাদের জন্য ডিসকাউন্ট পয়েন্ট সংরক্ষণ করার অফার দেয় প্রতিষ্ঠানটি। তাহলে কেউ দুই মাসের মধ্যে ডিসকাউন্ট পয়েন্ট সমন্বয় না করলে সেটা বাতিল হয়ে যায়! যা কোনো ক্রেতাকেই জানায় না আগোরা। আগোরায় যারা নিয়মিত বাজার করেন, হয়তো তারা পরে আর বিল মিলিয়ে দেখেন না। এতে প্রতারণার সুযোগ পাচ্ছে আগোরা। এভাবেই কী এসব সুপারশপে এমন প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা?

জানা গেছে, বিভিন্ন সময় ক্রেতাদের আকর্ষণীয় অফার দেয় আগোরা। আর সেই অফারে ছাড় দেওয়া অর্থের অংশ নানা কৌশলে ক্রেতাদের থেকেই আদায় করা হয়। এছাড়া কারওয়ান বাজার থেকে বিভিন্ন ফল ও সবজি সংগ্রহ করে তা চড়া দামে আগোরার নিজস্ব ফার্মের অর্গানিক পণ্য বলে চালিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

একাধিক ক্রেতার অভিযোগ, এমন করে নিয়মিত ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে আগোরা।

শাহরিয়ার বলেন, ‘প্রতারণা ধরা পড়ার পর আমি তাদের কাছে গত দুই বছরের বিলের প্রিন্ট কপি চাইলে তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় চান। এরপর সন্ধ্যায় শিলা নামে একজন আগোরা থেকে ফোন করে জানান, তাদের কাছে মাত্র দুই মাসের বিল রয়েছে। আমি এ কথা শোনার পর তাদের বিকল্প তিনটি প্রস্তাব দেই- হয় তারা আমার গত দুই বছরের বিল দেবে, যাতে আমি মিলিয়ে দেখতে পারি এ রকম ভুতুরে কোনো বিল আমার নামে আগে করা হয়েছে কিনা, না হয় এ অপকর্মের সঙ্গে জড়িত কর্মীকে যথাযথ শাস্তি দিয়ে তা মিডিয়ায় প্রচার করতে হবে অথবা আমার সঙ্গে প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকার প্রতারণা করা হয়েছে, এটা ধরে নিয়ে দুই বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে তা সমাজের অসহায় সুবিধা বঞ্চিতদের মধ্যে বিতরণ করে মিডিয়ায় প্রচার করতে হবে। কিন্তু তারা এর কোনোটিই পালন করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ব্যবস্থাপক আমাকে জানান, দুই বছরের বিল পেতে হলে তাদের এক মাস সময় দিতে হবে। তখন আমি বুঝতে পেরেছি, এটা কালক্ষেপণ করার কৌশল এবং প্রতারণার নতুন কোনো ফাঁদ। এর ফলে আমি শারীরিক এবং মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তাই এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে লিখিত অভিযোগ করেছি।’

এনামুল হক নামে এক ক্রেতা বার্তা২৪.কমকে জানান, তিনি আগোরার মগবাজারের ওই আউটলেট থেকে নিয়মিত কেনাকাটা করতেন। কিন্তু আগের তুলনায় সেবার মান কমে যাওয়ায় তিনি এখন আগোরা থেকে আর কেনাকাটা করেন না।

এ বিষয়ে আউটলেটের ব্যবস্থাপক ফারুকুল আলম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘প্রতিদিন মগবাজার আউটলেটে আটশ’ থেকে ১২শ’ ক্রেতা কেনাকাটা করেন। এটা ভুলবসত হয়েছে। আমরা ক্রেতাকে টাকা ফেরত দিয়ে দিয়েছি।’

bill
সেই বিল, ছবি: বার্তা২৪.কম 

 

আর চার হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত ক্রেতা রয়েছেন এই আউটলেটে। অনেক ক্রেতা মনে করেন, যদি ১০ শতাংশ ক্রেতার সঙ্গে এমন ভুল করা হয়ে থাকে, তাহলেও চারশ’ ভোক্তা এ প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ভুলটা ধরা না পড়লে বিষয়টি সবার অজানাই থেকে যেত।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ও উপ-সচিব মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমাদের কাছে আগোরার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছে। তারপরও আমরা অভিযোগটি প্রমাণিত হলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

এস্কোয়ার আইসিএলের ফান্ডের খসড়া অনুমোদন

এস্কোয়ার আইসিএলের ফান্ডের খসড়া অনুমোদন
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ভবন, ছবি: সংগৃহীত

এস্কোয়ার আইসিএল এপারেল ফান্ডের খসড়া প্রসপেক্টাস অনুমোদন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) কমিশনের ৬৯১তম সভায় প্রতিষ্ঠানটির বে-মেয়াদী মিউচ্যুয়ালন্ড ফান্ডের অনুমোদন দেওয়া হয়। নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ফান্ডটির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২৫ কোটি টাকা। ফান্ডটির উদ্যোক্তার অংশ ১০ কোটি টাকা। আর বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৫ কোটি টাকা। যা ইউনিট বিক্রয়ের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়। ফান্ডটির ইউনিট প্রতি অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। ফান্ডটির উদ্যোক্তা এসকোয়ার নীট কমপোজিট লিমিটেড এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা ক্যাপিটাল লিমিটেড।

এছাড়াও ফান্ডটির ট্রাস্ট্রি হিসেবে কাজ করছে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ এবং কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র