Alexa

মালামাল সরিয়ে নিতে আবেদন করবে বিজিএমইএ

মালামাল সরিয়ে নিতে আবেদন করবে বিজিএমইএ

বিজিএমইএ ভবন ভাঙার প্রস্তুতি চলছে, বার্তা২৪.কম

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা, বার্তা ২৪.কম

হাতিরঝিলের বিষফোড়া খ্যাত বিজিএমইএ ভবন সরিয়ে নিতে কাজ শুরু করেছে রাজউক। ইতোমধ্যেই এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে সরকারি এই সংস্থাটি। তবে ভবন সিলগালা করার সময় বিজিএমইএ’সহ ভবনটির ভেতরে থাকা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালামাল থেকে যায় ভেতরেই। আর সেই মালামাল সরিয়ে নিতে রাজউক বরাবর আবেদন করবে বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ এর সূত্রে জানা যায়, ১২ এপ্রিলের মধ্যে ভবন খালি করে দেওয়ার বিষয়ে মুচলেকা দিয়েছিল বিজিএমইএ। তারপরও নানা কারণে সব মালামাল সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, ডিবিএলসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যাদের কার্যালয় ছিল বিজিএমইএ ভবনে তারা তাদের সব মালামাল সরিয়ে নিতে পারেনি ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যার মধ্যে। অনেকের মালামাল ভবনের নিচের তলায় পরে রয়েছে। এর মধ্যে অনেক মূল্যবান মালামালও রয়েছে। আর তাই বিজিএমইএ এর পক্ষ থেকে মালামাল সরিয়ে নিতে আবেদন করা হবে রাজউকের কাছে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঊর্ধ্বতনরা।

ঘটনার সত্যতার কথা জানা যায় বিজিএমইএ এর বর্তমান সভাপতি মো: সিদ্দিকুর রহমানের বক্তব্যেও। তিনি বুধবার বিজিএমইএ’র এর উত্তরার নতুন ভবনে গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, ভবনের ভেতরে থাকা মালামাল নিরাপদে সরিয়ে নিতে রাজউকের কাছে আবেদন করা হবে। শুধু তাই নয় এ বিষয়ে রাজউক সহায়তা করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

এসব বিষয়ে রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমান বিজিএমইএ ভবন সিলগালা করার সময়ই জানিয়েছিলেন যে, বিজিএমইএ এর ভেতরে থাকা মালামাল পুলিশ হেফাজতে থাকবে। এসব মালামালের বিষয়ে আইনগতভাবে সকল সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশ ছিল ১২ এপ্রিলের মধ্যেই ভবন খালি করার। কিন্তু তারপরও বিজিএমইএ ভবন পুরোপুরি খালি না করায় সমালোচনার তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে।

রাজউক থেকে জানা যায়, ভবন অপসারণের জন্য ২৪ এপ্রিলের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। শুধু তাই নয় দরপত্র জমা হওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যেই উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করীম। পাশাপাশি তিন মাসের মধ্যেই অপসারণ হওয়া ভবনের ধ্বংসাবশেষও সরিয়ে ফেলা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি ।

প্রসঙ্গত ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর বিজিএমইএ ভবন উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই কারওয়ান বাজার সংলগ্ন বেগুনবাড়ি খালে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে উল্লেখ করে ২০১০ সাল ৩ অক্টোবর বিজিএমইএ ভবন কেন ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তার কারণ জানতে চেয়ে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমোটো) রুল জারি করেন। ২০১১ সালের ০৩ এপ্রিল বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ তার রায়ে বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।

অর্থনীতি এর আরও খবর