Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

ক্যানসার দূরে থাকবে সাধারণ কয়েকটি নিয়মে

ক্যানসার দূরে থাকবে সাধারণ কয়েকটি নিয়মে
গড়ে তুলতে হবে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

শারীরিক অসুস্থতা সবসময়ই অনাকাঙ্ক্ষিত।

সেটা যদি হয় ক্যানসারের মতো রোগ, সেখানে নিশ্চয় কোন প্রশ্নই আসে না। কোন রোগই বলে কয়ে আসে না- এই বিষয়টি যতখানি সত্য, ঠিক ততখানিই সত্য হলো সুনিয়ন্ত্রিত জীবনব্যবস্থা ও সঠিক অভ্যাস যেকোন ধরনের ছোট-বড় রোগকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

অনিয়ম ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনব্যবস্থা কখনোই স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে না। সামান্যতম অনিয়ম থেকেও দেখা দিতে পারে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি রোগ। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৩,০০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করছে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ছোবলে।

জেনে খুশি হবেন, কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চলতে পারলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্যানসারকে দূরে রাখা সম্ভব হয়। আজকের ফিচারে তুলে ধরা হলো এমন কয়েকটি নিয়ম যা শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি ক্যানসারকেও দূরে রাখতে ভূমিকা পালন করবে।

ধূমপান পরিহার করা

ক্যানসার তৈরি জন্য প্রধান যে অভ্যাসটিকে দায়ী করা হবে, নিঃসন্দেহে সেটা হলো ধূমপান। থ্রোট ক্যানসার, ফুসফুসের ক্যানসার, কিডনি ক্যানসারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের পেছনে দায়ী থাকে ধূমপান। এমনকি ধূমপায়ীর আশেপাশে থাকা ব্যক্তিরাও ক্যানসারের ঝুঁকিতে থাকে বলেই, জনসম্মুখে ধূমপান করার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বুঝতেই পারছেন, ধূমপানের ফলে শুধু আপনি নন, আপনার আশেপাশের মানুষও ক্যানসারের ঝুঁকিতে পড়ে। তাই এই বাজে অভ্যাসটি বাদ দিতে হবে পুরোপুরি।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/17/1555500221599.jpg
প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান রাখতে হবে প্রতিদিনের খাদ্যাভাসে।

 

সুস্বাস্থ্যের উপর স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসের অনেক বড় ভূমিকা থাকে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার শরীরে ক্যানসারের উপস্থিতি এবং ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। সবুজ শাক-সবজি ও ফলের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমূহ শরীরে টক্সিন পদার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে, যা কোষের ক্ষতির বিরুদ্ধে কাজ করে।

তাই চেষ্টা করতে হবে, প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণ সবজি ও ফল খাওয়ার। উপকারী খাবারের পাশাপাশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গ্রিন টি পানের বিষয়েও সচেষ্ট থাকতে হবে।

সেই সাথে মনে রাখতে হবে, প্রসেসড ফুড থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকার। ফাস্ট ফুড ও প্রসেসড ফুড ক্যানসার দেখা দেওয়ার সম্ভবনা বৃদ্ধি করে।

নিয়মতি শরীরচর্চা করা

গবেষণার তথ্য জানাচ্ছে, ধূমপানের পর বাড়তি ওজনের কারণে সবচেয়ে সংখ্যক মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। বাড়তি ওজনের ফলে হরমোনে তারতম্য দেখা দেয়। যা থেকে ব্রেস্ট ক্যানসার দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

প্রচণ্ড রোদের আলো এড়িয়ে চলা

বেশ কয়েকটি ইন্সটিটিউশনের গবেষণা লব্ধ ফলাফল থেকে দেখা গেছে যে, প্রখর রোদের অতি বেগুনী রশ্মি স্কিন তথা ত্বকের ক্যানসারের জন্য দায়ী। সুস্বাস্থ্যের জন্য রোদের আলো প্রয়োজন হলেও, সকালে ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত রোদের আলো এড়িয়ে যাওয়া প্রয়োজন। কারণ এ সময়ের রোদের আলোতেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর প্রভাব থাকে। তাই এই সময়ে বাইরে অবস্থানকালে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে এবং সঙ্গে ছাতা রাখতে হবে মনে করে।

আরও পড়ুন: ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে প্রাত্যহিক যে সকল কাজে

আরও পড়ুন: ব্যস্ততা ও সুস্থতা থাকবে একসাথে!

আপনার মতামত লিখুন :

ব্যস্ততার মাঝে একটু প্রশান্তি

ব্যস্ততার মাঝে একটু প্রশান্তি
একা চুপচাপ কিছুক্ষণ বসে থাকলেও মিলবে মানসিক প্রশান্তির খোঁজ

আমাদের প্রতিদিনের জীবন চলে খুব নিয়ন্ত্রিতভাবে।

দিনের শুরু থেকেই শুরু হয় হাজারো কাজের ব্যস্ততা। তার সাথে পাল্লা দিয়ে সমান তালে পা মিলিয়ে চলতে গিয়ে, প্রায়শ নাভিশ্বাস উঠে যায়। ক্লান্তি চলে আসে মনে ও শরীরে।

কিন্তু ক্লান্তির দোহায় দিয়ে থেমে যাওয়া তো সম্ভব নয়। আবার ক্লান্তি নিয়ে কাজ করলেও পরিপূর্ণভাবে কাজে মন দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। এ সময়ে মানসিক প্রশান্তির জন্য খোঁজ করাই হবে সবচেয়ে উপযুক্ত ও সঠিক উপায়। কীভাবে প্রশান্তি পাওয়া যাবে? দেখে নিন আজকের ফিচারটি থেকে।

চুপচাপ বসে থাকা

একটু অবাক হওয়ার মতো পদ্ধতি হলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা খুব কার্যকর। শব্দহীন স্থানে একা আরামদায়ক কোন চেয়ার কিংবা সোফায় কিছুক্ষণ বসে থাকতে হবে, বসে থাকার সময় চোখ বন্ধ করে কয়েকবার জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে হবে ও ছাড়তে হবে। এতে করে অশান্তি কিংবা অস্থিরতা অনেকখানিই কমে আসবে। সম্ভব হলে বসে থাকার সময় ইয়ারফোনে খুব ধীর লয়ের গানও শুনতে পারেন।

প্রিয় কাউকে জড়িয়ে ধরুন

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566808862309.jpg

মানসিক চাপের সবচেয়ে বড় অ্যান্টিডোট হিসেবে ধরা হয় প্রিয় ও ভালোবাসার কাউকে জড়িয়ে ধরাকে। সেটা হতে পারে আপনার পরিবারের কেউ, কাছের বন্ধু কিংবা প্রিয় সহকর্মীও। প্রিয় মানুষকে জড়িয়ে ধরার ফলে যে ভালোলাগার অনুভূতি তৈরি হয়, তা থেকে শরীরে অক্সিটোসিন নামক হরমোনের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়।

গবেষণা মতে, হাগ (Hug) করা বা জড়িয়ে ধরার ফলে রক্তচাপের সাথে দুশ্চিন্তার মাত্রা ও মানসিক অস্থিরতা কমে আসে, যদি জড়িয়ে ধরা ব্যক্তিটি প্রিয় ও কাছের মানুষ হয়ে থাকে।

কোন কিছু সাজানো

যেকোন কিছু গোছানো ও সাজানো মনকে তাৎক্ষণিকভাবে শান্ত করে এবং ক্লান্তি দূর করে। রুটিন প্যাটার্ন বা সাজানোর মাধ্যমে মনোযোগ একীভূত হয় একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে। যা অস্থিরতাকে কমাতে কাজ করে। সাজানোর ক্ষেত্রে হাতের কাছে থাকা সাধারণ জিনিসপত্র বা কাপড়চোপর হতে পারে ভালো বস্তু। এছাড়া অফিসের ডেস্কের জিনিসপত্র গোছালেও ভালো বোধ হবে।

ফ্রিহ্যান্ড এক্সারসাইজ

শরীরচর্চার ফলে হার্টবীট বৃদ্ধি পায় এবং রক্ত দ্রুত প্রবাহিত হয়। যার দরুন কিছুক্ষণ শরীরচর্চা করার পরবর্তী সময়ে শরীর ও মনে অনেকখানি প্রশান্তিভাবে দেখা দেয়। যদি প্রতিদিন শরীরচর্চা করা সম্ভব না হয়, তবে সপ্তাহে অন্তত তিনদিন শরীরচর্চা করার অভ্যাসটি অবশ্যই চালু রাখতে হবে।

পোষা প্রাণীর সাথে সময় কাটানো

যাদের পোষা প্রাণী আছে, তারা এই বিষয়টি খুব ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। পোষা প্রিয় প্রাণীটির সাথে আধা ঘন্টা সময় কাটালেও মন ভালো হয়ে যায়, বিষণ্ণতা দূর হয়, ক্লান্তি ও মানসিক চাপ কমে আসে। পোষা প্রাণীর উপস্থিতি, তার সাথে খেলাধুলা, তার শরীরের উষ্ণতা খুব দ্রুত মনের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন: রৌদ্রজ্জ্বল দিনের শুরুটা হোক সচেতনতায়

আরও পড়ুন: কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল
ফালাফেল

মধ্যপ্রাচ্যের সকাল ও বিকালের নাশতার অন্যতম একটি প্রচলিত খাবারের নাম হলো ফালাফেল।

নাম শুনে অনেকেই ভাববেন, এই খাবারটি সম্ভবত ফল দিয়ে তৈরি করা হয়। আদতে খাবারটি তৈরি হয় ছোলা কিংবা মটরশুঁটিতে। তেলে ভাজা বিভিন্ন মসলার সংমিশ্রণে তৈরি ফালাফেল ডুবো তেলে কড়া করে ভেজে দইয়ের রায়তার সাথে খেতে চমৎকার ভালো লাগে।

পরিচিত বড়া বা পেঁয়াজুর বাইরে নতুন ও হালকা কোন নাশতার খাবার খেতে চাইলে দেখে নিন ফালাফেল তৈরির রেসিপি।

ফালাফেল তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566653988942.JPG

১. এক কাপ শুকনো ছোলা।

২. একটি ছোট পেঁয়াজ কুঁচি।

৩. এক চা চামচ রসুন কুঁচি।

৪. তিন টেবিল চামচ ধনিয়া পাতা কুঁচি।

৫. আধা চা চামচ মরিচ গুঁড়া।

৬. এক চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া।

৭. এক চা চামচ জিরা গুঁড়া।

৮. ১/৪ চা চামচ কালো গোলমরিচ গুঁড়া।

৯. এক টেবিল চামচ ময়দা।

১০. স্বাদমতো লবণ।

১১. ভাজার জন্য পরিমাণমতো তেল।

ফালাফেল যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566654005300.JPG

১. ছোলা ধুয়ে পরিষ্কার পানিতে সারারাতের জন্য ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং সময় হলে পানি থেকে তুলে শুকিয়ে নিতে হবে এবং ব্লেন্ড করে নিতে হবে।

২. এতে পেঁয়াজ কুঁচি, রসুন কুঁচি, ধনিয়া পাতা কুঁচি, জিরা গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, কালো গোলমরিচ গুঁড়া ও ময়দা মেশাতে হবে। সাথে পরিমাণমতো লবণ ও লেবুর রস যোগ করতে হবে এবং ব্লেন্ড করতে হবে।

৩. ব্লেন্ড শেষে সকল উপাদান মিশে অমসৃণ ও অসূক্ষ্ম মিশ্রণ তৈরি হবে। এতে পানি যোগ করা যাবে না, তবে যদি ব্লেন্ড করতে সমস্যা হয় ১-৩ টেবিল চামচ পানি আলাদাভাবে যোগ করতে হবে।

৪. ফালাফেল মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে বাটিতে ঢেলে প্রয়োজন ও স্বাদ অনুযায়ী মসলা ও লবণ যোগ করতে হবে এবং হাতের সাহায্যে মাখিয়ে ছোট ছোট গোল ফালাফেল তৈরি করে নিতে হবে।

৫. এবারে কড়াইতে তেল গরম করে ফালাফেল দিয়ে দেখতে হবে তা ভেঙে যায় কিনা। যদি ভেঙে যায় তবে মিশ্রণের সাথে ময়দা যোগ করে এরপর ভাজতে হবে।

৬. ফালাফেল বাদামী-সোনালি হয় আসলে নামিয়ে নিয়ে দইয়ের রায়তা কিংবা ঘরে তৈরি পাতার চাটনির সাথে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র