Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

ক্যানসার দূরে থাকবে সাধারণ কয়েকটি নিয়মে

ক্যানসার দূরে থাকবে সাধারণ কয়েকটি নিয়মে
গড়ে তুলতে হবে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

শারীরিক অসুস্থতা সবসময়ই অনাকাঙ্ক্ষিত।

সেটা যদি হয় ক্যানসারের মতো রোগ, সেখানে নিশ্চয় কোন প্রশ্নই আসে না। কোন রোগই বলে কয়ে আসে না- এই বিষয়টি যতখানি সত্য, ঠিক ততখানিই সত্য হলো সুনিয়ন্ত্রিত জীবনব্যবস্থা ও সঠিক অভ্যাস যেকোন ধরনের ছোট-বড় রোগকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

অনিয়ম ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনব্যবস্থা কখনোই স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে না। সামান্যতম অনিয়ম থেকেও দেখা দিতে পারে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি রোগ। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৩,০০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করছে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ছোবলে।

জেনে খুশি হবেন, কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চলতে পারলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্যানসারকে দূরে রাখা সম্ভব হয়। আজকের ফিচারে তুলে ধরা হলো এমন কয়েকটি নিয়ম যা শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি ক্যানসারকেও দূরে রাখতে ভূমিকা পালন করবে।

ধূমপান পরিহার করা

ক্যানসার তৈরি জন্য প্রধান যে অভ্যাসটিকে দায়ী করা হবে, নিঃসন্দেহে সেটা হলো ধূমপান। থ্রোট ক্যানসার, ফুসফুসের ক্যানসার, কিডনি ক্যানসারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের পেছনে দায়ী থাকে ধূমপান। এমনকি ধূমপায়ীর আশেপাশে থাকা ব্যক্তিরাও ক্যানসারের ঝুঁকিতে থাকে বলেই, জনসম্মুখে ধূমপান করার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বুঝতেই পারছেন, ধূমপানের ফলে শুধু আপনি নন, আপনার আশেপাশের মানুষও ক্যানসারের ঝুঁকিতে পড়ে। তাই এই বাজে অভ্যাসটি বাদ দিতে হবে পুরোপুরি।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/17/1555500221599.jpg
প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান রাখতে হবে প্রতিদিনের খাদ্যাভাসে।

 

সুস্বাস্থ্যের উপর স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসের অনেক বড় ভূমিকা থাকে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার শরীরে ক্যানসারের উপস্থিতি এবং ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। সবুজ শাক-সবজি ও ফলের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমূহ শরীরে টক্সিন পদার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে, যা কোষের ক্ষতির বিরুদ্ধে কাজ করে।

তাই চেষ্টা করতে হবে, প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণ সবজি ও ফল খাওয়ার। উপকারী খাবারের পাশাপাশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গ্রিন টি পানের বিষয়েও সচেষ্ট থাকতে হবে।

সেই সাথে মনে রাখতে হবে, প্রসেসড ফুড থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকার। ফাস্ট ফুড ও প্রসেসড ফুড ক্যানসার দেখা দেওয়ার সম্ভবনা বৃদ্ধি করে।

নিয়মতি শরীরচর্চা করা

গবেষণার তথ্য জানাচ্ছে, ধূমপানের পর বাড়তি ওজনের কারণে সবচেয়ে সংখ্যক মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। বাড়তি ওজনের ফলে হরমোনে তারতম্য দেখা দেয়। যা থেকে ব্রেস্ট ক্যানসার দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

প্রচণ্ড রোদের আলো এড়িয়ে চলা

বেশ কয়েকটি ইন্সটিটিউশনের গবেষণা লব্ধ ফলাফল থেকে দেখা গেছে যে, প্রখর রোদের অতি বেগুনী রশ্মি স্কিন তথা ত্বকের ক্যানসারের জন্য দায়ী। সুস্বাস্থ্যের জন্য রোদের আলো প্রয়োজন হলেও, সকালে ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত রোদের আলো এড়িয়ে যাওয়া প্রয়োজন। কারণ এ সময়ের রোদের আলোতেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর প্রভাব থাকে। তাই এই সময়ে বাইরে অবস্থানকালে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে এবং সঙ্গে ছাতা রাখতে হবে মনে করে।

আরও পড়ুন: ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে প্রাত্যহিক যে সকল কাজে

আরও পড়ুন: ব্যস্ততা ও সুস্থতা থাকবে একসাথে!

আপনার মতামত লিখুন :

আঙুরের সাতকাহন 

আঙুরের সাতকাহন 
আঙ্গুর ফল

আঙুর ফলের গোড়াপত্তন শুরু হয়েছে হাজার বছর আগে। সুস্বাদু ও সুমিষ্ট এই ফলের বাহারি রঙের মাত্রায় রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। উচ্চ ভিটামিন সমৃদ্ধ  এই ফল আপনার হার্টকে রাখে সুস্থ।

আঙুরের সাত গুণাবলি--

 

গ্যাস্ট্রিকের প্রদাহ থেকে মুক্তি-

দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রিক থেকে শুরু হয় বাতের ব্যথা। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্য। রোগের সূত্রপাত হিসেবে ধরা হয় গ্যাস্ট্রিকের প্রদাহকে। দেহের প্রতিরক্ষাকারী কোষগুলোকে নষ্ট করে, ক্যানসার কিংবা হার্টের রোগে ভোগায় এই প্রদাহ। গবেষণা বলছে, আঙুর হতে পারে গ্যাসের ব্যথার স্থায়ী সমাধান।

২৪ জন পুরুষের মধ্যে চালানো একটি জরিপে দেখা যায়, প্রতিদিন ১.৫ কাপ আঙুরের রস অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণে আঙুরের গুঁড়া শরীরের গ্যাসের প্রদাহকে কমিয়ে দেয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452636554.jpg

বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়-

এক গবেষণায় দেখা যায়, তিন মাস ধরে প্রতিদিন ২৫০ গ্রাম করে আঙুর ফল ১১১ জন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে খাওয়ানোর ফলে তাদের স্মৃতি, মনোযোগ এবং  বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটেছে।

এমনকি প্রতিদিন আঙুর ফল আপনার মেজাজকে রাখে নিয়ন্ত্রণে। পাশাপাশি ব্লাড সুগারের মাত্রাকেও পরিমিত পর্যায়ে রাখতে সাহায্য করে।

হাড়ের ক্ষয় রোধ করে:

হাড়ে লবণের মাত্রাকে ঠিক রেখে ক্ষয়রোধ করতে সাহায্য করে আঙুর ফল। হাড়ে প্রয়োজনীয় পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452652760.jpg

ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া  ধবংসকারী:

দেহের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ইনফেকশন ঘটায়, এমন ভাইরাস ধ্বংস করতে সাহায্য করে আঙুর ফল। প্রতিদিন খেলে ভিটামিন সি-এর অভাব পূরণ হয়। ফলে মৌসুমি ঠাণ্ডা কাশি কিংবা জ্বর আপনাকে কাবু করতে পারবে না। এমনকি আঙুর ডায়রিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা বৃদ্ধি-

ক্যানসার, হৃদরোগ কিংবা ডায়াবেটিসের মতো রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে আঙুর ফল। বেটাকেরোটিন, লুটিন ,এলাজিক এসিড সমৃদ্ধ এই ফল দীর্ঘস্থায়ী রোগকেও প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452669126.jpg

তারুণ্য ধরে রাখে-

আঙুর ফলের পুষ্টিগুণ তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের বলিরেখা দূর করে আঙুর। স্বাস্থ্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণ করে ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতেও সাহায্য করে।

আঙুরে প্রোটিন সমৃদ্ধ ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার,  এবং অ্যান্টি অক্সিজেন রয়েছে। সুতরাং তুমি তোমার সকাল কিংবা বিকেলের নাস্তায় রাখতে পারো আঙুর ফল। এমনকি গ্রীষ্মের দিনগুলোতে ঠাণ্ডা আঙুর হতে পারে দারুণ একটা নাস্তা।

সঠিক পরিচর্যায় সতেজ ক্যাকটাস

সঠিক পরিচর্যায় সতেজ ক্যাকটাস
ক্যাকটাস গাছ, ছবি: সংগৃহীত

ঘরের শোভা বর্ধনের জন্য কিংবা ভালোবেসে, শখের বশে গড়ে তোলা হয় ক্যাকটাসের সংগ্রহ।

নানা প্রজাতির, আকৃতির, ঘরানার ক্যাকটাস প্রীতি বেশি দেখা যায় শহুরে এলাকার মানুষদের মাঝে। ঘরের সাথে লাগোয়া বারান্দায় কিংবা প্রশস্ত জানালা ঘেঁসে ছোট-মাঝারি টবে বানান নিজস্ব ক্যাকটাস বাগান।

সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত দেখাশোনা করা হলে প্রতিটি ক্যাকটাসের গাছ খুব ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। ক্ষেত্র বিশেষে ও বিশেষ প্রজাতির ক্যাকটাসের ক্ষেত্রে ক্যাকটাসে বর্ণীল ফুলের দেখাও দেয়।

তবে সমস্যা হলো- ক্যাকটাস কষ্ট সহিষ্ণু উদ্ভিদ হলেও, অসাবধানতার দরুন ক্যাকটাস মরে যায়। প্রিয় জিনিসটি চোখের সাথে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাওয়া খুবই কষ্টের। যত্নে গড়ে তোলা প্রিয় ক্যাকটাসটির পরিচর্যায় ও যত্নে যে বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখা প্রয়োজন, এখানে তার কয়েকটি আলোচনায় রাখা হলো।

দ্রুত পানি দেওয়া

বেখেয়ালে প্রায় সময় ক্যাকটাসে দীর্ঘদিন পানি দেওয়া হয় না। এতে ক্যাকটাস শুকিয়ে যায়, কুঁচকে যায়, মরমর দেখায়। এমনটা হলে যত দ্রুত সম্ভব গাছে পানি দিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে ক্যাকটাসের টবের নিচের অংশের ছিদ্র দিয়ে বাড়তি পানি যেন বেরিয়ে যেতে পারে। একইসাথে ক্যাকটাসটিকে খোলামেলা আলো ও বাতাসযুক্ত স্থানে রাখতে হবে।

নষ্ট হয়ে যাওয়া অংশ কেটে ফেলা

ক্যাকটাসটির কোন অংশ যদি নষ্ট হয়ে যায় বা পচে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয় তবে উক অংশটি সযত্নে কেটে বাদ দিয়ে দিতে হবে। নতুবা উক্ত স্থান থেকে ভালো অংশেও পচন ধরে যাবে। ক্যাকটাসের কোন অংশে যদি ফাংগাসের মতো দেখা দেয়, বাদামী বা কালচে হয়ে আসে তবে বুঝতে হবে উক্ত স্থানে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561448789213.jpg

সরু অংশ রোদে রাখা

ক্যাকটাসের জন্য রোদের আলো অপরিহার্য। ক্যাকটাস যত বাড়তে থাকে, ছড়াতে থাকে তার শাখাপ্রশাখা। অনেক সময় একই টবে ক্যাকটাস অনেক বেশি বড় হয়ে গেলে ক্যাকটাসের ছোট অংশ রোদের আলো ঠিকমতো পায় না। সে অংশগুলোকে রোদের আলো দেওয়ার জন্য বেশি করে রোদের দিকে মুখ করে রাখতে হবে।

মাটি শুষ্ক হলেই পানি

বাড়তি পরিচর্যার ফলে অনেকেই ক্যাকটাসের টবে এক-দুই দিন পরপরেই পানি দিতে থাকেন। এতে করে ক্যাকটাসের গোড়া থেকে পচন ধরে যায়। খেয়াল রাখতে হবে, ক্যাকটাসের টবে মাটি একেবারে শুকিয়ে গেলে তবেই তাতে পানি দিতে হবে। তার আগে নয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561448770099.jpg

বড় টবে স্থানান্তরিত করা

ক্যাকটাস বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে ছড়াতে থাকে তার শাখাপ্রশাখা এবং সেই সকল শাখাও বড় হতে থাকে। এভাবে ছোট ক্যাকটাসটিই এক সময় বিশাল আকৃতি ধারণ করে। ক্যাকটাস যত বড় হবে, তার জন্য তত বড় ও প্রশস্ত টবের প্রয়োজন হবে। নতুবা অপর্যাপ্ত স্থানের দরুন ক্যাকটাস ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাবে।

ক্যাকটাসের শরীর পরিষ্কার করা

ক্যাকটাসের শরীর জুড়ে কাঁটা থাকার দরুন এতে খুব সহজেই ধুলা-ময়লা চুল আটকে যায়। ধুলা-ময়লার স্তর পুরু হয়ে গেলে অনেক সময় ক্যাকটাস রোদের আলো শোষণ করে সালোকসংশ্লেষণ করতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাই ক্যাকটাসের টবে যেদিন পানি দেওয়া হবে, সেদিন পানির ঝাপটা দিয়ে ক্যাকটাসের পাতা ও শাখাপ্রশাখাগুলো পরিস্কার করে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: ঘরে তৈরি সারে সতেজ গাছ

আরও পড়ুন: খোসা ছাড়ানো আলু বাদামি হয়ে যাচ্ছে?

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র