Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

হারিয়ে যাচ্ছে আভিজাত্যের প্রতীক গোলাঘর

হারিয়ে যাচ্ছে আভিজাত্যের প্রতীক গোলাঘর
হারিয়ে যাচ্ছে আভিজাত্যের প্রতীক গোলাঘর। ছবি: বার্তা২৪.কম
এসএম শহীদুল ইসলাম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
সাতক্ষীরা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সাতক্ষীরার গ্রাম থেকে ধানের গোলাঘর হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামীণ ঐতিহ্য আর সমৃদ্ধির প্রতীক গোলাঘর এখন আর চোখে পড়ে না। ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা, সাগর পাড়ের জেলা সাতক্ষীরা বলে একটি সুনাম রয়েছে। ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এ জেলার ৭৮টি ইউনিয়নের ১৪২১টি গ্রামের প্রত্যেকটি বাড়িতে দেখা যেত ধানের গোলা। তবে কালের বিবর্তনে এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না ধানের গোলাঘর।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মেল্লেকপাড়া গ্রামের নজরউদ্দিন সরদার (৭০) বলেন, ‘আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে সাতক্ষীরায় ইরি-বোরো চাষ শুরু হয়। এর আগে জেলার বিলগুলো ছিল এক ফসলি। আমন ছাড়া আর কোনো ধান হতো না। তবে উঁচু জমিতে আউশ ধান হতো। তখন মানুষের পুকুরভরা মাছ, গোলাভরা ধান আর গোয়ালভরা গরু ছিল। এখন সেই বিলগুলোতে তিন ফসল ফলে। আমনের পর ইরি-বোরো। বোরো ধান কাটার পর আমন রোপণের আগে আরও একবার ফসল ফলায় অনেকে। কিন্তু সেই গোলাঘর আর নেই।

ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের বড়খামার গ্রামের ৯৩ বছর বয়সী গিয়াস উদ্দিন সানাও বলেন একই কথা। তিনি জানান, আগে গোলাঘরের সংখ্যা দেখে মানুষ ছেলে-মেয়ে বিয়ে দিতেন। যার বাড়িতে যত বেশি গোলাঘর ছিল তিনি ততবেশি অভিজাত ছিলেন। গোলাঘর ছিল আভিজাত্য আর সমৃদ্ধির প্রতীক। একেকটি গোলায় ৬০ থেকে ১৫০ বস্তা (১ বস্তায় ৬০ কেজি) ধান রাখা যেত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/17/1555502477484.jpg

তিনি আরও জানান, গোলাঘরে শুধু ধান নয়, ডাল, গম, সুপারিসহ বিভিন্ন ফসল রাখা হতো। জমিদার বাড়িতে সারি সারি ভাবে সাজানো ছিল গোলাঘর। সেই জমিদারি আর নেই। তবে কালের সাক্ষী হয়ে আজও আভিজাত্যের প্রতীক গোলাঘর দেখা যায় দু'একজনের বাড়িতে। বাঁশের চটা, বেত আর কাতা (নারিকেলের ছোবড়া থেকে তৈরি সুতা) দিয়ে তৈরি গোলাকৃতির এ ঘর গোলপাতা, নাড়া (ধানগাছ) ও টিন দিয়ে ছাওয়া হতো।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আশরাফুজ্জামান জানান, এখন মধ্যসত্ত্বভোগী ফড়িয়াদের কারণে মানুষ ধানের গোলায় ধান রাখে না। ইট পাথরের তৈরি গুদামে রাখে ধান-চালসহ অন্যান্য পণ্য। যে কারণে বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার সমৃদ্ধির প্রতীক গোলাঘর। এগুলো সংরক্ষণ করা না গেলে আগামী প্রজন্ম গোলাঘর দেখতে জাদুঘরে ছুটবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

মানিকগঞ্জে ডেঙ্গু রোগীর চাপে বিপাকে অন্যান্য রোগীরা

মানিকগঞ্জে ডেঙ্গু রোগীর চাপে বিপাকে অন্যান্য রোগীরা
রোগীদের চাপে দিশেহারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ছবি: সংগৃহীত

কাগজে কলমে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতাল। তবে চিকিৎসক রয়েছে মাত্র একশো শয্যার। অন্যান্য জনবলও প্রায় একই রকম। এই জনবল দিয়েই চিকিৎসা সেবা চলছে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে। বহির্বিভাগ আর ভর্তি রোগী মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার রোগীর চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে।

এতো রোগী একসঙ্গে চিকিৎসা দিতে যেয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে ডেঙ্গু রোগের কারণে এই চাপ দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেঙ্গু রোগ নিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে ৮০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষা করাতে প্রতিদিন শতশত রোগী হাসপাতালে ভিড় করছেন।

ডেঙ্গু রোগীদের স্বাস্থ্য সেবার মান নিশ্চিত করতে পৃথকভাবে তিনটি ডেঙ্গু কর্নার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ৪ জন চিকিৎসকের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসা সেবা নিয়ে ডেঙ্গু রোগীরা সন্তুষ্ট থাকলেও অভিযোগের শেষ নেই অন্যান্য রোগীদের।

সোমবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নারী ও পুরুষের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। প্রতিটি চিকিৎসকের কক্ষের সামনেও রয়েছে দীর্ঘ সারি। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে কোন সিট না পেয়ে বারান্দায় চিকিৎসা নিতে দেখা যায় অর্ধশত রোগীদের।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নয়াকান্দি এলাকার মজিবুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম’কে জানান, অসুস্থ স্ত্রী রংমালাকে রোববার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করান তিনি। হাসপাতালে সিট না পেয়ে তার ঠাই হয়েছে বারান্দায়। তবে ভর্তির পর থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত কোনো চিকিৎসকের দেখা পাননি তিনি। বরং হাসপাতালের অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় তার স্ত্রী আরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিপন মিয়া নামের এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘নার্সরা সবসময় চিকিৎসা সেবার খোঁজ খবর নেন। তবে প্রয়োজনে চিকিৎসকদেরও পাওয়া যায় না। চিকিৎসা সেবার মান মোটামুটি ভাল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’

মানিকগঞ্জ মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মাহবুবুল হাসান জানান, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৭৫ জন। এর মধ্যে ভর্তি রয়েছে ৩০জন। আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে একজন। বাকিরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে বলেও জানান তিনি।

মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমিন আখন্দ জানান, মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬৭৬ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০০ জন। আর ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে ৬২ জন। বাকিরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে বলে জানান তিনি।

মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ এরফান জানান, মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালটি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হলেও জনবল রয়েছে ১০০ শয্যার। এর মধ্যে ডেঙ্গু রোগীদের প্রচুর চাপ রয়েছে হাসপাতালে। তবে এতোকিছুর পরও সাধ্য অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জয়পুরহাটে ৩ ছিনতাইকারী আটক

জয়পুরহাটে ৩ ছিনতাইকারী আটক
আটককৃত তিন ছিনতাইকারী, ছবি: সংগৃহীত

জয়পুরহাটে অটো ভ্যান ছিনতাইকালে তিন ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে গ্রামবাসী।

সোমবার (২৬ আগস্ট) ভোরে কালাই উপজেলার সরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আটককৃতরা হলেন- কালাই উপজেলার সরাইল গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে আব্দুর নুর (২০), শাহাদত ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম (১৯), আব্দুর রহমানের ছেলে সোহাগ হোসেন(১৯)।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আব্দুল মালেক জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ছিনতাই করে আসছিল। সোমবার ভোরে পুনট গ্রাম থেকে তারা নিবারণ চন্দ্র নামে এক অটোভ্যান চালকের অটোভ্যান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন। পরে চালকের চিৎকারে গ্রামবাসী এসে তাদের গণধোলাই দিয়ে পুলিশের নিকট সোপর্দ করেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র