Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

হারিয়ে যাচ্ছে আভিজাত্যের প্রতীক গোলাঘর

হারিয়ে যাচ্ছে আভিজাত্যের প্রতীক গোলাঘর
হারিয়ে যাচ্ছে আভিজাত্যের প্রতীক গোলাঘর। ছবি: বার্তা২৪.কম
এসএম শহীদুল ইসলাম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
সাতক্ষীরা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সাতক্ষীরার গ্রাম থেকে ধানের গোলাঘর হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামীণ ঐতিহ্য আর সমৃদ্ধির প্রতীক গোলাঘর এখন আর চোখে পড়ে না। ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা, সাগর পাড়ের জেলা সাতক্ষীরা বলে একটি সুনাম রয়েছে। ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এ জেলার ৭৮টি ইউনিয়নের ১৪২১টি গ্রামের প্রত্যেকটি বাড়িতে দেখা যেত ধানের গোলা। তবে কালের বিবর্তনে এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না ধানের গোলাঘর।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মেল্লেকপাড়া গ্রামের নজরউদ্দিন সরদার (৭০) বলেন, ‘আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে সাতক্ষীরায় ইরি-বোরো চাষ শুরু হয়। এর আগে জেলার বিলগুলো ছিল এক ফসলি। আমন ছাড়া আর কোনো ধান হতো না। তবে উঁচু জমিতে আউশ ধান হতো। তখন মানুষের পুকুরভরা মাছ, গোলাভরা ধান আর গোয়ালভরা গরু ছিল। এখন সেই বিলগুলোতে তিন ফসল ফলে। আমনের পর ইরি-বোরো। বোরো ধান কাটার পর আমন রোপণের আগে আরও একবার ফসল ফলায় অনেকে। কিন্তু সেই গোলাঘর আর নেই।

ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের বড়খামার গ্রামের ৯৩ বছর বয়সী গিয়াস উদ্দিন সানাও বলেন একই কথা। তিনি জানান, আগে গোলাঘরের সংখ্যা দেখে মানুষ ছেলে-মেয়ে বিয়ে দিতেন। যার বাড়িতে যত বেশি গোলাঘর ছিল তিনি ততবেশি অভিজাত ছিলেন। গোলাঘর ছিল আভিজাত্য আর সমৃদ্ধির প্রতীক। একেকটি গোলায় ৬০ থেকে ১৫০ বস্তা (১ বস্তায় ৬০ কেজি) ধান রাখা যেত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/17/1555502477484.jpg

তিনি আরও জানান, গোলাঘরে শুধু ধান নয়, ডাল, গম, সুপারিসহ বিভিন্ন ফসল রাখা হতো। জমিদার বাড়িতে সারি সারি ভাবে সাজানো ছিল গোলাঘর। সেই জমিদারি আর নেই। তবে কালের সাক্ষী হয়ে আজও আভিজাত্যের প্রতীক গোলাঘর দেখা যায় দু'একজনের বাড়িতে। বাঁশের চটা, বেত আর কাতা (নারিকেলের ছোবড়া থেকে তৈরি সুতা) দিয়ে তৈরি গোলাকৃতির এ ঘর গোলপাতা, নাড়া (ধানগাছ) ও টিন দিয়ে ছাওয়া হতো।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আশরাফুজ্জামান জানান, এখন মধ্যসত্ত্বভোগী ফড়িয়াদের কারণে মানুষ ধানের গোলায় ধান রাখে না। ইট পাথরের তৈরি গুদামে রাখে ধান-চালসহ অন্যান্য পণ্য। যে কারণে বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার সমৃদ্ধির প্রতীক গোলাঘর। এগুলো সংরক্ষণ করা না গেলে আগামী প্রজন্ম গোলাঘর দেখতে জাদুঘরে ছুটবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

ধৈঞ্চা চাষে লাভ বেশি

ধৈঞ্চা চাষে লাভ বেশি
ধৈঞ্চা গাছ। ছবি: বার্তা২৪.কম

ধৈঞ্চা চাষ করে সফল হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা। কম খরচে অধিক ফলনের কারণে দিন দিন ধৈঞ্চা চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জানা গেছে, মাত্র ১ বিঘা জমিতে চাষের জন্য ৩ কেজি ধৈঞ্চার বীজ প্রয়োজন হয়। প্রতি কেজি বীজের দাম ৪০ টাকা। ধৈঞ্চা চাষে বীজ ছাড়া আর তেমন কোনো খরচ হয় না। মাত্র ৫-৬ মাসের মধ্যে ধৈঞ্চা গাছের খড়ি সংগ্রহ করা যায়। আর ১ বিঘা জমির খড়ি ১৫-১৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া কোনো জমি উর্বর না থাকলে গাছগুলো কেটে ওই জমিতে ফেলে পচিয়ে ভালো সার পাওয়া যায়। যা জমির উর্বরতা বাড়ায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের জালাল উদ্দীন জানান, তিনি প্রতিবছর আড়াই থেকে ৩ বিঘা জমিতে ধৈঞ্চা চাষ করেন। ধৈঞ্চার খড়ি দিয়ে সারা বছরের জ্বালানির চাহিদা মেটান। এছাড়া ধৈঞ্চার বীজ বিক্রি করেন। এতে তার ভালোই লাভ হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561469439057.jpg

একই উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের নুরুল ইসলাম মারুফ জানান, তিনি এবার ৩ বিঘা জমিতে ধৈঞ্চা চাষ করেছেন। ধৈঞ্চা চাষে খরচ কম, লাভ বেশি।

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকতা এসএম আমিনুজ্জামান জানান, ১ বিঘা জমিতে ধৈঞ্চা চাষ করে ৫ থেকে ৬ মণ বীজ পাওয়া যায়। আর প্রায় এক হাজার টাকা মণ দরে সেই বীজ বিক্রি হয়। ফলে ধৈঞ্চা চাষ করে সবুজ সার, খড় ও বীজ পাওয়া যায়। এতে চাষি লাভবান হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হোদা জানান, ধৈঞ্চা চাষে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীরা কাজ করছেন। চলতি বছরে জেলায় প্রায় আড়াইশ হেক্টর জমিতে ধৈঞ্চা চাষ হয়েছে। যা আগামীতে আরও বাড়বে।

মানিকগঞ্জে কৃষি জমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

মানিকগঞ্জে কৃষি জমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন
ঘিওরে কৃষি জমি রক্ষার দাবিতে এলাবাসীর মানববন্ধন/ ছবি: বার্তা২৪.কম

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় কৃষি জমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়নের কেল্লাই বাজারে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আলী মনসুর, আব্দুর রউফ ও কায়কোবাদ সহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বক্তব্য রাখেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ঘিওর উপজেলার গাংডুবী এলাকার ফসলি কৃষি জমি থেকে ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে আসছে একটি মহল। এতে করে এলাকার কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে এবং ড্রাম ট্রাকে করে মাটি আনা নেওয়ার ফলে গ্রামীণ রাস্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ এসব বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, স্থানীয় আরজু খান ও সাদ্দাম এই এলাকায় ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করেন। তারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কৃষকরা ব্যক্তিগতভাবে প্রতিবাদ করতে ভয় পান।  

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র