Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ভুয়া ডিগ্রির বড় ডাক্তার ‘নুর নাহার’

ভুয়া ডিগ্রির বড় ডাক্তার ‘নুর নাহার’
দালালের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালে আসা রোগীদের নিজের চেম্বারে নিয়ে আসেন ভুয়া চিকিৎসক নুর নাহার চৌধুরী/ ছবি: বার্তা২৪.কম
মুহিববুল্লাহ মুহিব
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
কক্সবাজার
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করেই হয়ে গেছেন চিকিৎসক। প্রাতিষ্ঠানিক বিডিএস ডিগ্রি নেই। চেম্বার সাজিয়ে নিজেই শুরু করেন অবৈধ চিকিৎসা ব্যবসা। রোগী দেখতে নিয়ে থাকেন চড়া ফি। বিভিন্ন রোগের জটিল অপারেশনেও করছেন তিনি। কক্সবাজার শহরের এই ভুয়া চিকিৎসক নুর নাহার চৌধুরী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শহরের বাজারঘাটা এলাকায় অবৈধভাবে রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছেন এই ভুয়া চিকিৎসক। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসা রোগীদের ফাঁদে ফেলে দালাল চক্র নিয়ে আসে নুর নাহারের চেম্বারে। এরপর চিকিৎসার নামে হাতিয়ে নেওয়া হয় লাখ লাখ টাকা। নুর নাহারের রয়েছে আট জনের একটি দালাল সিন্ডিকেট। যারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে রোগীদের ফাঁদে ফেলে এখানে আনেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ‘হাজী ওলা মিয়া ভবন’ নামে একটি ভবনে চেম্বার খুলেছেন ভুয়া চিকিৎসক নুর নাহার। সেখানে রয়েছে একটি বেড। যেখানে রোগীর চিকিৎসা করা হয় সরু একটি কক্ষে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/17/1555501441098.gif
ভুয়া ডাক্তার নুর নাহার চৌধুরী

 

প্রথমে সেখানে সাংবাদিক প্রবেশে বাধা দিলেও পরে সমঝোতার চেষ্টা করেন নুর নাহার। তিনি নিজেকে চিকিৎসক দাবি করলেও চিকিৎসক হিসেবে তার কোনো সঠিক কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। নাম সর্বস্ব একটি ট্রেনিং নিয়েছেন চিকিৎসার উপর। তার একটি সার্টিফিকেট রয়েছে তার কাছে। এটির ভিত্তিতেই তিনি নিজেকে চিকৎসক পরিচয় দিচ্ছেন।

এদিকে, গত ৯ মার্চ টিউমার যন্ত্রণা নিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসেন ঈদগাঁওয়ের নতুন অফিস এলাকার সেলিম উদ্দিনের স্ত্রী মিনু আরা বেগম (২৮)। অপারেশনের কথা বলে দালালরা ফাঁদে ফেলে নুর নাহারের কাছে নিয়ে আসেন। অপারেশনের নামে পেট কেটে চিকিৎসা করেন নুর নাহার। তারপর মিনু আরাকে বলেন ১৫ দিন পর্যন্ত কোনো ডাক্তারের কাছে না যেতে। ১৫ দিন পর পরীক্ষা করাতে বলেন। কিন্তু ১৫ দিন পরে এসে পরীক্ষা করা হলে তার টিউমার পেটের মধ্যে রয়ে গেছে বলে জানতে পারেন মিনু আরা। এখন যন্ত্রণায় চটপট করছেন এই হতভাগা নারী।

অসুস্থ মিনু আরা বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমাকে ফাঁদে ফেলে তারা নিয়ে অপারেশনের নাম করে টাকা নিয়েছেন। কোনো অপারেশন করেননি। আমি যখন তার কাছে এটা বলতে যাই, তখন তিনি আমাকে তার চেম্বার থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন।’

মিনু আরার স্বামী সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘এখন আর কী করবো। পুলিশের কাছে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আল্লাহ যদি সহায় হয়। অপারেশনের নামে আমাদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/17/1555501290740.gif
নুর নাহারের একমাত্র সার্টিফিকেট

 

নিজের দোষ স্বীকার করে ভুয়া চিকিৎসক নুর নাহার চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমার নাম কামরুন নাহার চৌধুরী। চিকিৎসাপত্রে ভুল নাম ব্যবহার করেছি। আমার যা করতে পারেন করেন গা। আমার কোনো সমস্যা নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমি নিয়মিত চিকিৎসা দেয়, কিন্তু কেউ অভিযোগ করেনি। অতিরিক্ত ফি নেয়ার বিষয়টিও সত্য নয়।’

এদিকে, মিনু আরার বর্তমান চিকিৎসকরা বলছেন, টিউমারের স্থানে উল্টো এখন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত যদি এখন উন্নত চিকিৎসা করা না হয়, তাহলে বিপদ হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পার্কে কেউ অভিযোগ দেয়নি। যদি কেউ জানায়, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

তীব্র স্রোতে ভেঙে গেল ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক

তীব্র স্রোতে ভেঙে গেল ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

বানের পানির তীব্র স্রোতে শেষমেষ ভেঙে গেল টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর-তারাকা‌ন্দি সড়‌ক। বৃহস্প‌তিবার (১৮ জুলাই) রাত পৌনে ৮টার দিকে সড়কটির বেশ কিছু অংশ ভেঙে পানি ঢুকে যায়।

এদিকে যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৯১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার শতাধিক গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রাম, তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। বন্যার পানি প্রবেশ করে পৌরসভার টেপিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পানির স্রোত বইছে। তীব্র স্রোতে নদীর পানি প্রবেশ করায় ভেঙে গেছে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর। বন্যাকবলিত মানুষজন গবাদি পশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাঁচটি মাদরাসা ও ৪৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করায় সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মাঝে ২০০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে বানভাসি বেশিরভাগ মানুষ ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঝোটন চন্দ জানান, বন্যাকবলিতদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধির ফলে অর্জুনা ইউনিয়নের তাড়াই বাঁধ ভেঙে গেছে। এছাড়া ভাঙন অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কাজ করছে।

টাঙ্গাইলের পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, ভূঞাপুরে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৯১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পরিস্থিতি শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকাল পর্যন্ত অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন অংশে ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ চলছে।

আরও পড়ুন: হুমকির মুখে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক

নেত্রকোনায় ছেলে ধরা সন্দেহে যুবক আটক

নেত্রকোনায় ছেলে ধরা সন্দেহে যুবক আটক
আটককৃত যুবক, ছবি: সংগৃহীত

ছেলে ধরা সন্দেহে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ফারুক মিয়া নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার হিরণপুর বাজার থেকে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে। আটককৃত ফারুক কুমিল্লার লাঙ্গলকোট উপজেলার ঢুবাই বাজার গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানান, হিরণপুর বাজারে ফারুক মিয়ার ঘোরাফেরায় স্থানীয়দের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে। শ্যামগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশকে খবর দিলে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে শ্যামগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শন) আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আটক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেত্রকোনায় পাঠানো হয়েছে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র