Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

জলকেলিতে মেতেছে কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায়

জলকেলিতে মেতেছে কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায়
জলকেলি উৎসব / ছবি: বার্তা২৪
মুহিববুল্লাহ মুহিব
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
কক্সবাজার
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে কক্সবাজার শহরের পল্লীগুলোতে রাখাইন নববর্ষ পালন করছে এ সম্প্রদায়ের মানুষ। পুরনো বছর ১৩৮০ রাখাইন বর্ষকে বিদায় জানিয়ে তারা ১৩৮১ বর্ষকে বরণ করছে। এ উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা প্রতিবছর তিন দিনব্যাপী সাংগ্রেং পোয়ে (মৈত্রিময় জলকেলি) উৎসব পালন করে আসছে। এতে নতুন রঙে সেজে নাচ গান আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে তরুণ-তরুণীরা। 

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে শহরের ১২টি কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে জলকেলি উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে রাখাইনদের পাশাপাশি আনন্দ-উল্লাসে মেতেছে পর্যটকরাও।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/17/1555502314009.jpg

রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দরা জানান, বুধবার থেকে থেকে আগামী শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) পর্যন্ত জাকঝমকভাবে অনুষ্ঠিত হবে জলকেলি উৎসব। নববর্ষে রাখাইন প্রবীণ ব্যক্তিরা উপবাসও করে থাকেন। এ সময় প্রাণী হত্যা, মিথ্যা বলাসহ কমপক্ষে আটটি দুষ্কর্ম থেকে দূরে থাকতে হয়।

শহরছাড়াও মহেশখালী, টেকনাফ, সদর, হ্নীলা, চৌধুরী পাড়া, রামু, পানিরছড়া, হারবাং, চকরিয়ার মানিক পুরসহ রাখাইন অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সপ্তাহ জুড়ে নববর্ষ পালনে নানা অনুষ্ঠান পালিত হবে। ইতোমধ্যে শহরের টেকপাড়া, হাঙর পাড়া, বার্মিজ স্কুল এলাকা, চাউল বাজার, পূর্ব-পশ্চিম মাছ বাজার, ক্যাং পাড়া ও বৈদ্যঘোনাস্থ থংরো পাড়ায় তৈরি করা হচ্ছে জলকেলির ২০টি নান্দিক প্যান্ডেল। রঙিন ফুল আর নানা কারুকার্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্যান্ডেলের চারপাশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/17/1555502331625.jpg

রাখাইন শিক্ষার্থীরা বলেন, আদিকাল থেকে রাখাইন নববর্ষ উপলক্ষে সামাজিকভাবে সাংগ্রেং পোয়ে উৎসব পালন হয়ে আসছে। এবারও ব্যতিক্রম ঘটবে না। আনন্দ-উল্লাসে নতুন বছরকে বরণ করে নেব আমরা। আমরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটানোর মধ্য দিয়ে পুরনো দিনের সব ব্যথা, বেদনা, হিংসা বিদ্বেষ ভুলে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি। এটি আমাদের কাছে খুবই পবিত্র।

চট্টগ্রাম পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর উ থুয়েন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘সাংগ্রাই পোয়ে বা জলকেলি রাখাইনদের সামাজিক উৎসব। বুদ্ধের মূর্তিকে স্নান করানোর মাধ্যমে সামাজিক এ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ১৯ এপ্রিল এই উৎসব শেষ হবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/17/1555502357461.jpg

রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতা ক্যাতিন অং বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আদিকাল থেকে রাখাইন নববর্ষ উপলক্ষে সামাজিকভাবে সাংগ্রাই পোয়ে উৎসব পালন হয়ে আসছে। এবারও ব্যতিক্রম ঘটবে না। আনন্দ-উল্লাসে নতুন বছরকে বরণ করে নেব আমরা। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের যে উন্নয়ন চলছে আমরা তারও অগ্রতি প্রত্যাশা করছি।’

কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘রাখাইনদের জলকেলি উৎসব উপলক্ষে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ-র‌্যাবের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/17/1555502384377.jpg

আপনার মতামত লিখুন :

মানিকগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার

মানিকগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার
ছবি: প্রতীকী

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রাম থেকে রুপালী বেগম (৩০) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে লাশ উদ্ধার করা হয়। রুপালী বেগম ওই এলাকার প্রবাসী রাজা মিয়ার স্ত্রী।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, স্থানীয়দের দেওয়া খবরের উপর ভিত্তি করে লাশটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে- ওই নারী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

মানিকগঞ্জে ডেঙ্গু রোগীর চাপে বিপাকে অন্যান্য রোগীরা

মানিকগঞ্জে ডেঙ্গু রোগীর চাপে বিপাকে অন্যান্য রোগীরা
রোগীদের চাপে দিশেহারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ছবি: সংগৃহীত

কাগজে কলমে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতাল। তবে চিকিৎসক রয়েছে মাত্র একশো শয্যার। অন্যান্য জনবলও প্রায় একই রকম। এই জনবল দিয়েই চিকিৎসা সেবা চলছে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে। বহির্বিভাগ আর ভর্তি রোগী মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার রোগীর চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে।

এতো রোগী একসঙ্গে চিকিৎসা দিতে যেয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে ডেঙ্গু রোগের কারণে এই চাপ দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেঙ্গু রোগ নিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে ৮০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষা করাতে প্রতিদিন শতশত রোগী হাসপাতালে ভিড় করছেন।

ডেঙ্গু রোগীদের স্বাস্থ্য সেবার মান নিশ্চিত করতে পৃথকভাবে তিনটি ডেঙ্গু কর্নার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ৪ জন চিকিৎসকের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসা সেবা নিয়ে ডেঙ্গু রোগীরা সন্তুষ্ট থাকলেও অভিযোগের শেষ নেই অন্যান্য রোগীদের।

সোমবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নারী ও পুরুষের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। প্রতিটি চিকিৎসকের কক্ষের সামনেও রয়েছে দীর্ঘ সারি। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে কোন সিট না পেয়ে বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন অর্ধশত রোগী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566810260683.jpg
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সারি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নয়াকান্দি এলাকার মজিবুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম’কে জানান, অসুস্থ স্ত্রী রংমালাকে রোববার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করান তিনি। হাসপাতালে সিট না পেয়ে তার ঠাই হয়েছে বারান্দায়। তবে ভর্তির পর থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত কোনো চিকিৎসকের দেখা পাননি তিনি। বরং হাসপাতালের অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় তার স্ত্রী আরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা রিপন মিয়া নামের এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘নার্সরা সবসময় চিকিৎসা সেবার খোঁজ খবর নেন। তবে প্রয়োজনে চিকিৎসকদেরও পাওয়া যায় না।' চিকিৎসা সেবার মান মোটামুটি ভাল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মানিকগঞ্জ মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মাহবুবুল হাসান জানান, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৭৫ জন। এর মধ্যে ভর্তি রয়েছে ৩০ জন। আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে একজন। বাকিরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে বলেও জানান তিনি।

মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমিন আখন্দ জানান, মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬৭৬ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০০ জন। আর ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে ৬২ জন। বাকিরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে বলে জানান তিনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566810318945.jpg
ডেঙ্গু রোগীদের মশারির ভেতর রাখা হয়েছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ এরফান জানান, মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালটি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হলেও জনবল রয়েছে ১০০ শয্যার। এর মধ্যে ডেঙ্গু রোগীদের প্রচুর চাপ রয়েছে হাসপাতালে। তবে এতোকিছুর পরও সাধ্য অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র