Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

ওয়াসার সেবায় গ্রাহকরা অসন্তুষ্ট: টিআইবি

ওয়াসার সেবায় গ্রাহকরা অসন্তুষ্ট: টিআইবি
বক্তব্য রাখছেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা ওয়াসার পানি ও পয়নিষ্কাশন সেবার নিম্নমানের কারণে এক তৃতীয়াংশেরও বেশি সেবাগ্রহীতা অসন্তুষ্ট বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একইসঙ্গে ঢাকা ওয়াসাকে অধিকতর কার্যকর ও সেবাধর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে ১৩ দফা সুপারিশ দিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে সংস্থাটির কার্যালয়ে ‘ঢাকা ওয়াসা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক’ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় টিআইবি।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘উদ্বেগের বিষয় হলো, ওয়াসা তার ভিশন-মিশন অনুযায়ী এখনো পানির চাহিদা পূরণে সুপেয়, নিরাপদ, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পানির উৎপাদন ও সরবরাহ এবং পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সন্তোষজনক অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। ফলে ওয়াসার কাছ থেকে ঢাকাবাসীর প্রত্যাশিত সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনো অনেক ঘাটতি বিদ্যমান। এর অন্যতম কারণ, ঢাকা ওয়াসার সুশাসন ও শুদ্ধাচারে ঘাটতি এবং সেবাপ্রদান পর্যায় থেকে প্রাতিষ্ঠানিক ও বিশেষ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট ক্রয় খাতে চলমান দুর্নীতি।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি বেশ কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও সেগুলো এগিয়ে নেয়ার জন্য আরো পরিবর্তন দরকার, যেক্ষেত্রে আমরা বেশ কিছু সুপারিশ করেছি। আমরা মনে করি, আমাদের এই সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে ঢাকা ওয়াসার সুশাসন ও শুদ্ধাচারের ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি হবে।

টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, প্রতিবেদনে যে কথাগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই এ অভিজ্ঞতাগুলো রয়েছে। আমরা কখনো অত্যন্ত অযৌক্তিকভাবে পানির অভাব বোধ করেছি আবার কখনো বাড়ি থেকে বের হয়ে পয়নিষ্কাশনের সমস্যায় পড়েছি। যে সুপারিশগুলো করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি সেগুলো কার্যকর করতে পারে তাহলে সমস্যাগুলি সমাধানের একটা উপায় বের হয়ে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি’র পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা ওয়াসার বিবেচনার জন্য ১৩ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: পানি ও পয়নিষ্কাশন সেবার মূল্য নির্ধারণে স্বতন্ত্র রেগুলেটরি কমিশন গঠন করতে হবে; ওয়াসা বোর্ডের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে বোর্ড গঠন করতে হবে; জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা একটি একক কর্তৃপক্ষের নিকট ন্যস্ত করতে হবে, শূন্য পদগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ করতে হবে, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পানির উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিতে বৃষ্টির পানি ধারণ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়াও ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতিরোধে ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রণোদনার ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং অসাধু কর্মচারীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে, সেবার মান যাচাই ও উন্নতিপ্রকল্পে একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেবার মান মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে, যা নিয়মিত গণশুনানির মাধ্যমে করা যেতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান।

আপনার মতামত লিখুন :

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার বেড়েছে

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার বেড়েছে
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের গত তিন মাসে (এপ্রিল থেকে জুন) মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার আগের তুলনায় বেড়েছে।

সোমবার (২৬ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

গত তিন মাসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৮১ দশমিক ৯৪ শতাংশ, তার আগের তিন মাস জানুয়ারি থেকে মার্চে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। গত তিন মাসে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার আগের তিন মাসের তুলনায় ১৫ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে সাতটি, সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৭২টি, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে ৫৯টি (৮১.৯৪ শতাংশ), বাস্তবায়নাধীন সিদ্ধান্তের সংখ্যা ছিল ১৩টি (১৮.০৬ শতাংশ)।

তিনি আরও জানান, উল্লেখিত সময়ে নীতি বা কর্মকৌশল নেওয়া হয়েছিল একটি, সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল একটি ও সংসদে আইন পাস হয়েছিল ৬টি।

বিশ্বজুড়ে রোহিঙ্গারা গণহত্যার বিচার চাইছে

বিশ্বজুড়ে রোহিঙ্গারা গণহত্যার বিচার চাইছে
কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের দু’বছর পূর্তি উপলক্ষে স্বজনদের গণহত্যার বিচার চেয়েছে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গারা।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত নৃশংসতার বিচার নিশ্চিত করার জন্য দেশটি থেকে নিপীড়িত রোহিঙ্গারা বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এ বিচার আহ্বান করে।

ডাচ-ভিত্তিক রোহিঙ্গা গোষ্ঠী ইইউ রোহিঙ্গা কাউন্সিলরকে টুইট করে মিয়ানমারের গণহত্যার অপরাধীদের বিচারের জন্য জাতিসংঘ, ইইউ, মার্কিন, ওআইসি (ইসলামী সহযোগী সংস্থা) এবং দক্ষিণ পূর্ব এশীয় জাতিসংঘের সমর্থন চায়।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নৃশংসতা বন্ধে কাজ না করার অভিযোগ তুলে তারা বলেছে, বিশ্ব মিয়ানমারে গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া লোকদের অধিকার অর্জনে নীরব ভূমিকা পালন করছে। তবুও রোহিঙ্গারা তাদের অধিকার পেতে সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। কিন্তু বিশ্ব অন্যদিকে চোখ ফিরিয়ে রেখেছে।

নির্বাসিত রোহিঙ্গা কর্মী রো জা জা নইং টুইট করে বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা চালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। দুঃখের বিষয় হলো মিয়ানমারে এই জালিম মানুষদের সংখ্যা এখন অনেক বেশি।

আরও পড়ুন: রাখাইনে বিদ্রোহী দমন নামে শিশু হত্যায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী

আইরিশ-ভিত্তিক রোহিঙ্গা অ্যাডভোকেসি গ্রুপ স্টেটলেস রোহিঙ্গা এবং রোহিঙ্গা অ্যাকশন আয়ারল্যান্ডও রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারের দাবিতে টুইট করেছে।

রোহিঙ্গা অ্যাকশন আয়ারল্যান্ড রোহিঙ্গাকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মিয়ানমারের একটি অনন্য জাতিগোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছে। তারা বলেছে, রোহিঙ্গা মূলত মুসলিম জাতিগোষ্ঠী, যারা বহু শতাব্দী ধরে স্বাধীন আরাকান রাজ্যের বাসিন্দা ছিল। তাদের আলাদা ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং বিশ্বাস বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে একটি অনন্য সংখ্যালঘু জাতী হিসেবে গড়ে তোলে।

ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের প্রধান মং জার্নি মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে দায়মুক্তির রায় ঘোষণা করার জন্য দেশটির প্রধান নেতাকে অপরাধী বলে অভিহিত করেছেন। তিনি টুইট করে জানান, রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মৃতি দিবসের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে একটি নোবেলজয়ী ব্যাক্তি অং সান সু চি’কে নুরেমবার্গ-যোগ্য অপরাধী হিসেবে দাঁড় করানো উচিৎ।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ভিত্তিক ফরটিফাই রাইটস রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যে তাদের অপরাধের জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক জবাবদিহিতার আহ্বান জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গা পুরুষ, মহিলা ও শিশুদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, গণধর্ষণ ও অন্যান্য নির্যাতন করেছিল।

গত সপ্তাহে প্রায়ি ৩ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের ব্যর্থ প্রচেষ্টা উল্লেখ করে গবেষক আজিম ইব্রাহিম টুইট করেছেন, ‘কোনো রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়নি। কারণ, তারা তাদের ভাগ্য নিয়ে কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। জাতিসংঘে তাদের নিয়ে যে চিন্তাভাবনা ও কাজ করেছে তাতেও তারা কোনো আশা রাখতে পারেনি।’

গণহত্যার বেঁচে থাকা এবং ব্রিটিশ ভিত্তিক বার্মিজ রোহিঙ্গা সংস্থার প্রধান তুন খিন ২০১৭ সাল থেকে দুই বছরের রোহিঙ্গাদের কষ্টের জীবন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে টুইটারে লিখেছেন, সংকট দেখা দেওয়ার শেষ নেই।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র