Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

জেতার বিশ্বাস নিয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছেন তামিম

জেতার বিশ্বাস নিয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছেন তামিম
তামিম ইকবাল, ছবি: সংগৃহীত
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বকাপ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই শুরু হচ্ছে আরেকটি হিসেব গোনা- কে ফেভারিট? এই প্রশ্নে আপাতত কোনো ক্রিকেট পণ্ডিত বাংলাদেশের নাম রাখেননি। তবে কে বাংলাদেশকে ফেভারিট বললো আর কে বললো না-তা নিয়ে বিতর্কে যেতে রাজি নন তামিম ইকবাল। নিজের বিশ্বাসটা নিজের কাছেই তার। সেই বিশ্বাস নিয়েই তামিম বললেন- ‘দেখুন এই বিশ্বকাপে ১০টা দল খেলছে। কোনো দলই কিন্তু স্রেফ অংশগ্রহণ করার জন্যই খেলছে না সবাই যাচ্ছে জেতার জন্য। আমরাও যাচ্ছি জেতার জন্যই।’

জেতার বিশ্বাসটা যদি নিজের মধ্যেই না থাকে তবে জিতবো কেমন করে? তাই বাংলাদেশ দলকে নিয়ে অন্যরা কে কি হিসেব করলো সেটা গোনায় না ধরে নিজের আস্থা নিয়েই সামনে বাড়তে চান তামিম- ‘আমি যদি বলি যে শুধু অংশগ্রহণ করার জন্য যাচ্ছি তাহলে যাওয়ার কোনো মানেই হয় না। আমরা পারি বা না পারি, আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে আমরা জিততে পারি। এই বিশ্বাস নিয়েই আমাদের যেতে হবে।’

মঙ্গলবার নির্বাচকরা যখন বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করে সংবাদ সম্মেলন থেকে বেরিয়ে আসছিলেন তামিম ইকবাল তখন মিরপুরের সেন্টার উইকেটে ব্যাটিং অনুশীলনে ব্যস্ত। শেষের দিকে ধুমধাম কিছু ছক্কা হাঁকিয়ে বিশ্রাম নিতে ড্রেসিংরুমে ফিরলেন। বাউন্ডারি লাইনের কাছে এসে গ্লাভস-প্যাড খুলে রাখছিলেন।

-তামিম কংগ্রাচুলেসন!

নাটুকে ভঙ্গিতে চমকে উঠে তামিমের স্বস্তি- ‘দলে আছি তাহলে আমি!’ মুখে দুষ্টামির হাসি নিয়ে ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটা দিলেন।

বুধবার আরেকবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন তামিম। এবার গল্পের সময়টা আরও বাড়লো।

-কেমন হলো বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল?

এই প্রশ্নে নির্বাচকদের হয়েই ব্যাট করলেন তামিম- ‘ আমার মনে হয় যেই স্কোয়াডই দেয়া হোক না কেন, যেই খেলোয়াড়কে নেয়া হোক বা কেন, সবারই কিছু না কিছু যদি-কিন্তু থাকবেই। কিছু পছন্দ-অপছন্দ তো থাকবেই। এটাই নিয়ম। আমার মনে হয় এখন দলে কে থাকা উচিত ছিল বা কে থাকলে ভালো হতো, এই আলোচনা না করে যেই ১৫ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে তাদের পুরোপুরি সমর্থন করা। অমুকের জায়গায় অমুক থাকলো ভালো হতো, এমনসব প্রশ্ন এখন তুললে, যারা সুযোগ পেয়েছে তারা মন ছোট করবে। আমরা চার বছর অপেক্ষা করেছি বিশ্বকাপের জন্য। এখন আমাদের সবার উচিত হবে পুরো দলের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করা।’

২০০৭ সাল থেকে বিশ্বকাপ খেলছেন তামিম ইকবাল। এটি হতে যাচ্ছে তার চতুর্থ বিশ্বকাপ। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের মাঠেই তামিম ইকবালকে প্রথম চিনেছিল ক্রিকেট বিশ্ব। ভারতের বিরুদ্ধে তার সেই মারকুটো হাফসেঞ্চুরিতেই ঘোষিত হয়েছিলো নতুন এক তারকার জন্ম কাহিনী। সেদিনের তরুণ তামিম ইকবাল এখন পরিণত এক ক্রিকেটার। সেই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই জানালেন-‘আমি কখনো টার্গেট সেট করতে পছন্দ করি না। আমার লক্ষ্য একটাই দলের চাহিদা মেটানো। দল আমার কাছ থেকে যা চায় সেটা যেন পুরো করতে পারি।’

তামিম আপনার কাছ থেকে দল একটা জিনিষই চায়-জয়!

আপনার মতামত লিখুন :

ইউএস ওপেনে শুরু তারকা লড়াই

ইউএস ওপেনে শুরু তারকা লড়াই
বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম আসরে মুখোমুখি টেনিস তারকারা, ছবি: সংগৃহীত

ফ্লাশিং মিডোসে আজ সোমবার (২৬ আগস্ট ) গড়াচ্ছে বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম আসর ইউএস ওপেন। টেনিসের এ মেজর টুর্নামেন্টটি সেরেনা উইলিয়ামসের জন্য দারুণ এক সুযোগডোসে আজ সোমবার (২৬ আগস্ট ) গড়াচ্ছে বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম আসর ইউএস ওপেন। টেনিসের এ মেজর টুর্নামেন্টটি সেরেনার জন্য দারুণ এক সুযোগ। সুযোগটা অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি মার্গারেট কোর্টকে ছোঁয়ার।

মেয়ের মা হওয়ার পর থেকে অনেক দিন ধরেই মেজর শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে কোর্টে লড়ে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের এ টেনিস সুপারস্টার। কিন্তু ভাগ্যের শিকে খুলছে না কিছুতেই। মার্গারেট কোর্টের ২৪তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের রেকর্ড স্পর্শ করতে সেরেনার দরকার আর মাত্র একটি শিরোপা।

২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফি আগেই এসে ধরা দিয়েছে যুক্তরাষ্টের উইলিয়ামস পরিবারের এ ছোট মেয়ের হাতে। তার লক্ষ্য এখন ২৪তম মেজর ট্রফি। এবারের ইউএস ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলেই তার অনেক দিনের এ স্বপ্নটা আলোর মুখ দেখবে।

শিরোপা জয়ের স্বপ্ন জিইয়ে রাখতে হলে প্রথম রাউন্ডেই রুশ গ্ল্যামার গার্ল মারিয়া শারাপোভাকে বিদায় করতে হবে সেরেনাকে। ভয় নেই অবশ্য এ মার্কিন তারকার। জয়ের রেকর্ড তার পক্ষেই ভারী। দুজনের ২১ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে ১৯ বারই জয়ের দেখা পেয়েছেন সেরেনা। প্রথম রাউন্ডে যেই হারুক। আসরের সৌন্দর্য কমবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

সেরেনার স্বপ্ন ভেঙে দিতে তৈরী আছেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জাপানের নাওমি ওসাকা। ট্রফি জয়ের দৌড়ে লড়তে প্রস্তুত রোমানিয়ান তারকা সিমোনা হ্যালেপও।

ছেলেদের এককে ১৬ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন নোভাক জোকোভিচ কোর্টে নামছেন শিরোপা ধরে রাখার মিশনে। বিশ্বের নাম্বার ওয়ান এ সার্বিয়ান তারকার সঙ্গে লড়াইয়ে আছেন ১৮ মেজর ট্রফি জেতা বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা তারকা স্পেনের রাফায়েল নাদাল। অস্ত্রে শাণ দিয়ে রেখেছেন ২০ গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক সুইস মহাতারকা রজার ফেদেরারও।

 

ইতিহাসের অন্যতম সেরা ইনিংস, প্রশংসা বৃষ্টিতে বেন স্টোকস

ইতিহাসের অন্যতম সেরা ইনিংস, প্রশংসা বৃষ্টিতে বেন স্টোকস
মহাকাব্যিক সেই ইনিংস শেষে ড্রেসিংরুমে বেন স্টোকস

বিশেষণের শব্দ হারিয়ে ফেলেছেন সবাই। কোনো প্রশংসা বাক্যই বুঝি যথেষ্ট নয়! ২৮৬ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে হারের দ্বারপ্রান্তে ছিল ইংল্যান্ড। মনে হচ্ছিল হেডিংলিতে জিতে অ্যাশেজে আরও এগিয়ে যাবে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু একজন জানতেন ম্যাচটা তারই হবে!

জিততে হলে দশম উইকেট জুটিতে ইংল্যান্ডের চাই ৭৩ রান।  মিশন ইমপসিবল হয়ে উঠেছিল ম্যাচ। কিন্তু তিনি জানতেন জিতবে তারই দল। শেষ পর্যন্ত সেই ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তারই জয় হলো। দেখা গেল বেন স্টোকস বীরত্ব। শেষ উইকেট জুটিতে জ্যাক লিচকে নিয়ে গড়লেন ৭৬* রানের জুটি। বিস্ময়কর হলেও সত্য যেখানে লিচের অবদান মাত্র ১ রান! আর এখানেই লুকিয়ে স্টোকসের বীরত্ব। অনেকটাই একাই হেডিংলি টেস্টে ইংল্যান্ডকে এনে দিয়েছেন ১ উইকেটের অনবদ্য এক জয়।

২১৯ বলে ১১ চার ও ৮ ছক্কায় অপরাজিত ১৩৫ রান! প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো টেস্ট ইতিহাসের সেরা ইনিংসের একটি!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566800539241.jpg

রোববার এমন রূপকথার জন্ম দিয়ে বেন স্টোকস ভাসছেন প্রশংসার বৃষ্টিতে। আর নিজে জানাচ্ছিলেন, ‘দেখুন, লিচ যখন এল উইকেটে, তখনো হাল ছাড়িনি। কারণ জানতাম কী করতে হবে আমাকে। অবশ্য লিচ এর আগেও এমনটা করেছে। নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে নেমে ৯২ রান তুলতে দেখেছি ওকে। এটা ঠিক শেষ দিকে এসে আমি তাকাতেই পারছিলাম না।’

পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত রান তোলাতেই ব্যস্ত ছিলেন স্টোকস। জানতেন এখানে প্রতিটি বলকেই কাজে লাগাতে হবে। শেষ ১০ ওভারে তুলেন ৭৬ রান। ইংল্যান্ডের এই অতি মানব বলছিলেন, ‘শুরুতে পরিস্থিতি বুঝে ধীর গতিতে খেলেছি। তবে লিচ নামতেই বুঝলাম এবার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের দ্রুত শেষ করতে হবে। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলগুলো লিচ খেলেছে। সত্যিই এটা অসাধারণ।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566800560846.jpg

আর এভাবেই ৩৫৯ রান তাড়া করে জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। টেস্টে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড এটিই।  এই অর্জনের পর খোদ অজিরাই মেতেছেন স্টোকস বন্দনায়। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাদের ফেসবুক পেজে লিখেছে, ‘টুপিখোলা অভিনন্দন বেন স্টোকস আর ইংল্যান্ড ক্রিকেটকে। দুর্দান্ত খেলে সিরিজে ১-১ সমতা এনেছে তারা।’

বিস্মিত জিওফ বয়কটও। ইংল্যান্ডের এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার বললেন, ‘আমার দীর্ঘ জীবনে বেশ কিছু অসাধারণ মুহূর্ত দেখেছি। কিন্তু ৫০ বছরেরও বেশি সময়ে এটাই সেরা! জাদুকরি এক ইনিংসে স্টোকস অ্যাশেজ বাঁচিয়ে দিল। বিশ্বকাপের চেয়েও এটি সেরা পারফরম্যান্স ছিল।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566800626647.jpg

এইতো কিছুদিন আগেই বিশ্বকাপের ফাইনালে তারই ব্যাটে জয়ের দেখা পেয়েছিল ইংল্যান্ড। প্রথমবারের মতো তাদের হাতে উঠে বিশ্বকাপ ট্রফি!

ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটার যুবরাজ সিংও বিস্মিত। তিনি টুইটারে লিখলেন, ‘অ্যাশেজে অবিশ্বাস্য দৃশ্য। ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না, স্টোকস তুমি ব্যাট হাতে কী করেছ। তোমাকে টুপিখোলা অভিনন্দন।’ 

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার জেসন গিলেস্পির মতে এটি টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ইনিংস। একই কথা বললেন কোচ টম মুডি। তার টুইট, ‘দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন স্টোকস। টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ইনিংস এটি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566800688608.jpeg

কেভিন পিটারসেনও মুগ্ধ স্টোকসের ইনিংসে। ইংল্যান্ডের সাবেক এই তারকা ক্রিকেটারের টুইট, ‘হাই, মাই নেম ইজ স্টোকস, বেন স্টোকস!’ সবার কাছেই আসলে এমন ইনিংস রীতিমতো আরাধ্য! তবে শেষ দিকে এসে লেগ বিফোর উইকেট থেকে স্টোকসের বেঁচে যাওয়ার প্রসঙ্গটাও এসেছে। যেখানে আম্পায়ার অজিদের আবেদন এড়িয়ে যান। স্টোকসের প্রশংসার ফাঁকে অস্ট্রেলিয়ান গ্রেট মার্ক ওয়াহ এই কথাটিও মনে করিয়ে দিলেন!

মজার টুইট করলেন গ্রায়েম সোয়ান। ইংল্যান্ডের সাবেক এই স্পিনার লিখেছেন, ‘আমার কোনো বোন নেই। থাকলে বেন স্টোকসের সঙ্গে বিয়ে দিতাম।’

ঠিক তাই, সবার কাছে এখন এতোটাই প্রিয় বেন স্টোকস!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র