Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

আবাহনীর জয়ের দিনে রূপগঞ্জের হার

আবাহনীর জয়ের দিনে রূপগঞ্জের হার
অলরাউন্ড নৈপুণ্যে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের সেরা মোসাদ্দেক, ছবি: সংগৃহীত
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

একইদিনে দুই স্বস্তি পেলো আবাহনী। মোহামেডানকে হারালো ৪৫ রানে। আর ম্যাচ শেষে আরেকটা খবর পেলো তারা-সুপার লিগে রূপগঞ্জ তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে হেরেছে। পয়েন্ট টেবিলে এখন আবাহনীর চেয়ে মাত্র দুই পয়েন্ট এগিয়ে রূপগঞ্জ। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেটে অন্য এক ম্যাচে এদিন মিরপুরে দুই ‘প্রাইম’ এর লড়াইয়ে দোলেশ্বর জয় পেয়েছে। প্রাইম ব্যাংককে সহজেই হারিয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে।

বিকেএসপিতে আবাহনী ব্যাটিং বেছে নিয়ে ৩০৪ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। ওপেনিংয়ে নেমেও এই ম্যাচে ফর্মে ফিরতে পারলেন না সৌম্য সরকার। ১৭ রানে শেষ হয় তার ইনিংস। ওয়ান ডাউনে প্রমোশন পেয়ে সাব্বির রহমান ঠিকই নিজেকে মেলে ধরলেন। ৫৩ বলে করলেন ৬৪ রান।

মিডলঅর্ডারে মোহাম্মদ মিঠুন, অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার আনন্দ বেশ ভালভাবেই ব্যাট হাতে উদযাপন করলেন। মিঠুন ও মোসাদ্দেক হাফসেঞ্চুরি করেন। সাইফুদ্দিন ৩৫ বলে তুললেন ৪১ রান। বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পাওয়া শফিউল ইসলাম ৬৩ রানে ৩ উইকেট পান।

রান তাড়ায় নেমে মোহামেডানের টপঅর্ডার পুরোদুস্তর ডিসঅর্ডার হয়ে পড়ে। ২০ রানে নেই শুরুর তিন উইকেট। টলমলে ইনিংসকে পথ দেখায় রকিবুল হাসান ও মোহাম্মদ আশরাফুলের ব্যাট। দুজনেই হাফসেঞ্চুরি করেন। রকিবুল হাসান যেভাবে খেলছিলেন তাতে সেঞ্চুরিটা তার পাওনাই ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় স্পেলে বোলিংয়ে এসেই রকিবুলের সেঞ্চুরির স্বপ্ন ভেঙে দিলেন মাশরাফি।

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৪০০ উইকেট শিকারের দিনে এই ম্যাচে মাশরাফি ৪০ রানে তুলে নিলেন ৩ উইকেট। বোলিং ওপেন করতে এসে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের শিকারও ৩৬ রানে ৩ উইকেট। রকিবুল ৯৬ ও আশরাফুল ৬৮ রানে ফেরার পর মোহামেডান তখন শুধু হারের অপেক্ষায়। নিজের নবম ওভারে মাশরাফি সেই অপেক্ষাও শেষ করে দিলেন। ৪৫ রানে এই ম্যাচ জিতে আবাহনী এখন লিগ শিরোপার দৌড়ে বেশ ভালভাবেই থাকলো।

ফতুল্লায় রূপগঞ্জের ব্যাটিংটাই জেতার মতো কিছু যে হলো না। গুটিয়ে যায় ১৬৯ রানে। ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম ৫৮ রান করেন। ১৭১ রানে থেমে যায় রূপগঞ্জের ইনিংস। পেসার খালেদ আহমেদ ৩১ রানে ৪ উইকেট পান। স্পিনার তাইজুল ইসলাম ১৬ রানে ২ উইকেট শিকার করেন।

৪ উইকেটে এই ম্যাচ জিতে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের তেমন লাভের কিছু না হলেও তাদের জয় আবাহনীর মুখে স্বস্তির হাসি এনে দিয়েছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: আবাহনী ৩০৪/৭ (৫০ ওভারে, সাব্বির ৬৪, মিঠুন ৫৬, মোসাদ্দেক ৫৪*, সাইফুদ্দিন ৪১, শফিউল ৩/৬৩)। মোহামেডান: ২৫৯/১০ (৪৬.৩ ওভারে, রকিবুল ৯৬, আশরাফুল ৬৮, মোসাদ্দেক ৩/৩৬, মাশরাফি ৩/৪০, সৌম্য ২/৪০)। ফল: আবাহনী ৪৫ রানে জয়ী। ম্যাচ সেরা: মোসাদ্দেক হোসেন।

রূপগঞ্জ: ১৭১/১০ (৪৯.৩ ওভারে, নাঈম ৫৮, খালেদ ৪/৩১, তাইজুল ২/১৬)। শেখ জামাল: ১৭১/৬ (৪৮.৩ ওভারে, ইলিয়াস সানি ৫৮, তানভীর হায়দার ৪৩*, নাবিল সামাদ ৩/২৭)। ফল: শেখ জামাল ধানমণ্ডি ৪ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা: ইলিয়াস সানি।

প্রাইম ব্যাংক: ১৬৯/১০ (৪৮.১ ওভারে, অলক ৬১, ফরহাদ রেজা ৪/২২, তাইবুর ২/১০)। প্রাইম দোলেশ্বর: ১৭২/৩ (৪৩.৪ ওভারে, সাঈফ ৫৫, ফরহাদ রেজা ৪১*)। ফল: প্রাইম দোলেশ্বর ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা: ফরহাদ রেজা।

আপনার মতামত লিখুন :

ফিঞ্চের সেঞ্চুরি, ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ২৮৬

ফিঞ্চের সেঞ্চুরি, ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ২৮৬
বিশ্বকাপে কথা বলছেই অ্যারন ফিঞ্চের ব্যাট। পেলেন শতরান

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শতক হাঁকানোর পর অ্যারন ফিঞ্চ বাংলাদেশের বিপক্ষে সন্তুষ্ট থাকেন হাফ-সেঞ্চুরি নিয়ে। এক ম্যাচ বিরতি দিয়ে ফের সেঞ্চুরির দেখা পেলেন এ তারকা ওপেনার। তার দুরন্ত সেঞ্চুরির সুবাদে ইংল্যান্ডের সামনে ২৮৬ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথমে ব্যাট হাতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮৫ রান তোলে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

মঙ্গলবার ক্রিকেটের তীর্থভূমি লর্ডসে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দুর্দান্ত শুরু করে অজিরা। ফিঞ্চের সঙ্গে গড়ে উঠা ডেভিড ওয়ার্নারের উদ্বোধনী পার্টনারশিপ ভাঙে ১২৩ রানে।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি (১০০) পূর্ণ করেই সাজঘরে ফেরেন অজি অধিনায়ক ফিঞ্চ। জোফরা আর্চারের বলে ক্রিস ওকসের কাছে ক্যাচ দেন তিনি। ফিঞ্চের ১১৬ বলের ইনিংসে ছিল ১১ চার ও ২ ছক্কার মার। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তার আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেন ১৫৩ রানের অনন্য এক ক্রিকেটীয় ইনিংস।

আরেক ওপেনার ওয়ার্নার বিদায় হওয়ার আগে দলীয় স্কোরে যোগ করেন ৫৩ রান। স্টিভেন স্মিথের সমান ৩৮ রান করে অপরাজিত থেকে যান অ্যালেক্স ক্যারে।

বল হাতে ইংল্যান্ডের হয়ে তেমন কেউ জ্বলে উঠতে পারেননি। ক্রিস ওকস শিকার করেন দুই উইকেট। একটি করে উইকেট নেন জোফরা আর্চার, মার্ক উড, বেন স্টোকস ও মঈন আলী।

জিতলেই সবার আগে সেমিফাইনালে উঠে যাবে অজিরা। ৬ ম্যাচে ৫ জয় (আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের বিপক্ষে) ও এক হারে (ভারতের বিপক্ষে) ১০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে এখন অস্ট্রেলিয়া। আজ জয়ের কোনো বিকল্প ভাবছে না সেমির স্বপ্নে বিভোর অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের দল।

স্বাগতিক ইংল্যান্ড জিতলে সেমিফাইনালের পথ আরো সহজ হয়ে যাবে তাদের জন্য। ৬ ম্যাচে ৪ জয় (দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে) ও ২ হারে (পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে) ৮ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে ইংল্যান্ড। শেষ চারে পৌঁছানোর রাস্তা পরিষ্কার করতে জিততে চায় আজ ক্যাপ্টেন ইয়ন মরগানের দলও।

 

রশিদে হতাশ ক্যাপ্টেন গুলবাদিন

রশিদে হতাশ ক্যাপ্টেন গুলবাদিন
রশিদ খানের কাছে আরো ভাল ক্রিকেট প্রত্যাশা ছিল গুলবাদিনের

ক্রিকেট দুনিয়াকে চমকে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়েই বিশ্বকাপে পা রেখেছিল আফগানিস্তান। কিন্তু একদিনের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরে উল্টো তারাই গেছে চমকে। অভিজ্ঞতার অভাবে টানা সপ্তম হারে আফগানরা টের পেয়েছে মেজর টুর্নামেন্টের কঠিন বাস্তবতা।

যাকে ঘিরেচলতি বিশ্বকাপে স্বপ্ন দেখেছিল আফগানরা সেই দলের প্রাণভোমরা সেই রশিদ খান যেন নিজের ছায়া হয়ে আছেন। কিছুতেই যেন ফিরতে পারছেন না নিজের সেরা ফর্মে। দলের ডামাডোলের মাঝে আবার বনে গেছেন বিশ্বকাপের সবচেয়ে খরুচে বোলার।

সোমবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ৬২ রানের হারের ম্যাচে বল হাতে দ্যুতি ছড়াতে পারেননি রশিদ। তার ফিল্ডিংও ছিল যাচ্ছেতাই। এ তারকা স্পিনারের বাজে পারফরম্যান্সে যার পর নাই হতাশ আফগান অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব, ‘রশিদ তার শতভাগ উজাড় করে দিয়ে খেলেছে। কিন্তু তার পারফরম্যান্স নিয়ে আমি কিছুটা হতাশ। তার ফিল্ডিংও হতাশাজনক।’

রশিদকে কেবল বোলিংয়ে মনোযোগী হতে পরামর্শ দিয়ে গেছেন গুলবাদিন, ‘একটা সময় সে মাঠে খুব রেগে ছিল। তাকে শুধু শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছি। মনোযোগ দিতে বলেছি তার বোলিংয়ে। ফিল্ডিংয়ের কারণে সে সুখ স্মৃতি ফিরে পাচ্ছে না।’

বিশ্বকাপে টানা সপ্তম হারে পয়েন্ট তালিকার তলানিতেই রয়ে গেল আফগানিস্তান। এখনো তাদের হাতে ধরা দেয়নি কোনো জয়। বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে উঠার স্বপ্ন শেষ অনেক আগেই।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র