Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ছয় মাসে ৭০০ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ছয় মাসে ৭০০ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
ইয়াবা, ছবি: সংগৃহীত
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
কুষ্টিয়া
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

গত ছয় মাসে ৭০০ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ। নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে প্রায় ৭০০ জন। আর মামলা দেয়া হয়েছে পাঁচ শতাধিক। কঠোর পরিণতির কথা ভেবে অনেক মাদক ব্যবসায়ী কারাগার থেকে জামিন পর্যন্ত নিচ্ছেন না।

পুলিশ সুপার হিসেবে কুষ্টিয়ায় যোগ দেয়ার পর কয়েকটি এজেন্ডা নিয়ে কাজ শুরু করেন এসএম তানভীর আরাফাত।

তার মধ্যে সব থেকে বেশি অগ্রাধিকার দেন মাদক দমনকে। সেই মোতাবেক ৬ মাসের একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগে নিজের ঘরে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেন। এখন পর্যন্ত মাদকের সাথে সম্পর্কের কারণে প্রায় অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্যকে জেলা ছাড়া করেছেন। আর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের যে কোন মূল্য আইনের আওতায় আনতে ওসিদের নির্দেশ দেন। এখন পর্যন্ত পুলিশের নেয়া পদক্ষেপের কারণে মাদকের যে সিন্ডিকেট ছিল তা অনেকটা গুড়িয়ে গেছে।

সীমান্ত ঘেরা কুষ্টিয়া জেলায় মাদকের থাবা নিয়ে সব মহল কমবেশি উদ্বিগ্ন। কোনভাবেই মাদক বন্ধ করা যাচ্ছে না। তবে আগে মাদকের যে রমরমা উপস্থিতি ছিল তা আর এখন নেই। হাত বাড়ালেই এখন আর মাদক মেলে না। তারপরও সীমান্তসহ আশেপাশের জেলা দিয়ে মাদক কমবেশি জেলায় প্রবেশ করছে। আর ফেনসিডিল, গাঁজা ও ইয়াবা না পেয়ে অনেকে বিকল্প মাদক হিসেবে টাপেন্টা নামক এক প্রকার ওষুধ সেবন করছে।

সম্প্রতি দৌলতপুরে এক মাদক বিরোধী সমাবেশে পুলিশ সুপার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘মাদক নির্মূল করতে না পারলে চুরি পড়ে জেলা থেকে চলে যাব।’ এ সময় মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান তিনি। না হলে চূড়ান্ত পরিণতির জন্য অপেক্ষা করতে বলেন।’

এ ঘোষণার পর বদলে গেছে চিত্র।

সচেতন মহল মনে করেন, জেলার তিন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এনকাউন্টারে নিহত হওয়ার পর কাঁপন ধরেছে মাদক সিন্ডিকেটে। এরপর জান বাঁচাতে শীর্ষরা গা ঢাকা দেয়া শুরু করে। অনেকে পালিয়ে ভারতে অবস্থান করছে। যেসব রাজনৈতিক নেতারা শেল্টার দিতেন তারাও সাবধান হয়েছেন।

পুলিশের গোপন সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি গোয়েন্দা পুলিশের টিম দৌলতপুর ও ভেড়ামারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন সময়ে ২ হাজার বোতল ফেনসিডিল, এক মণ গাঁজা, ১২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। মামলা দেয়া হয়েছে ৫ শতাধিক। একই সময় মাদক ব্যবসা, পরিবহণ ও সেবনের অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে প্রায় ৭ শতাধিক ব্যক্তিকে।

এর মধ্যে ফেনসিডিল সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আনা হয়। পরে অন্য জেলায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ভেড়ামারা ও দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, পুলিশ সম্প্রতি মাদক ব্যবসায়ীদের নতুন তালিকা প্রস্তুত করেছে। সেই তালিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ও নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা পুলিশ মাদক নির্মূলে কাজ করছে। বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে পুলিশ মাঠে মাঠে কাজ করছে। মাদকের বিষয়ে কোনো অবহেলা সহ্য করা হবে না। সব শ্রেণী পেশার মানুষকে সচেতন করতে উপজেলাগুলোতে সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। জেলায় কোন মাদক থাকবে না। আর যারা মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করবে তাদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :

কমছে তিস্তার পানি, ভাঙছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ

কমছে তিস্তার পানি, ভাঙছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ
বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সপ্তাহব্যাপী বন্যা শেষে তিস্তার পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধনে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ স্প্যার-২ এর ভাঙন শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকালে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মাটির শ্যাংকের ১০ মিটার এলাকার সিসি ব্লকের ভাঙন শুরু হয়। পরে বিকেল থেকেই জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকৌশলীরা।

এদিকে, তবে ওই বাঁধের আরসিসি পার্টেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। পানির তোড়ে বসে গেছে শিট প্লেট। ফলে আরসিসি পার্টের নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় আরসিসি পার্ট মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বাঁধের সামনের অংশের আরসিসি পার্ট ভেসে গিয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563465531946.jpg

বাঁধটির বাসিন্দা মুকুল ও আনেচ আলী বলেন, হঠাৎ ভাঙন দেখা দিলে বাঁধের সিসি ব্লকগুলো মুহূর্তে ভেসে গেছে। বাঁধের নিকটবর্তী একটি দোকান ও বাড়ি ধসে পড়ে নদীতে ভেসে গেছে। পাউবোর জিও ব্যাগে বালু ভরে বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে ভাঙন রোধ করা হয়েছে। তবে বাঁধের সামনের অংশে আরসি পার্টের নিচে স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে। যা মেরামত করা হয়নি। এটা ভেসে গেলে কয়েক হাজার পরিবার ভাঙনের মুখে পড়বে।

গোবর্দ্ধন স্প্যার বাঁধ-২ এর দায়িত্ব থাকা পাউবোর উপ সহকারী প্রকৌশলী লিটন আলী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘বাঁধের সিসি ব্লক বসে গেলে জরুরিভাবে ৫০০ জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন রক্ষা করা হয়। এ বাঁধের জন্য আরও দুই হাজার জিও ব্যাগ মজুদ রয়েছে। তবে বাঁধে আরসিসি পার্টে শিট প্লেটে সমস্যা হওয়ায় নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানিতে এটা মেরামত করা সম্ভব নয়।’

লালমনিরহাট পাউবোর উপ বিভাগিয় প্রকৌশলী এটিএম বজলে করিম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘ভাঙন কবলিত এলাকার বাঁধগুলো রক্ষায় জরুরিভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। আমাদের প্রকৌশলীরা নিরবিচ্ছিন্নভাবে নদী তীরবর্তী এলাকায় কাজ করছে। পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ মজুদ রয়েছে।’

টাঙ্গাই‌লে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু

টাঙ্গাই‌লে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের পৃথক এলাকায় বজ্রপাতে কলেজ ছাত্রসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছে আরও ছয়জন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলম জানান, বিকেল সাড়ে ৫টায় জামুরিয়া ইউনিয়নের নবরত্নবাড়ি গ্রামের আব্দুল ছালামের ছেলে শাহাদৎ হোসেন (৩৫) পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান।

তিনি আরও জানান, অন্য‌দি‌কে একই সময় বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলা শেষে উপজেলার গুণ গ্রাম থেকে নিজ বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে সরকারি জিবিজি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র রনি (২০) মারা যান। সে উপজেলার মধ্যকর্ণ গ্রামের আবু হানিফের ছেলে।

এছাড়া উপ‌জেলায় বজ্রপাতে আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। এরা হলেন- উপজেলার মধ্যকর্ণ গ্রামের আনিস আলীর ছেলের খোরশেদ আলম (৩২),আব্দুর রহমানের ছেলে রমজান আলী(৩০), নবরত গ্রামের জুব্বার আলীর ছেলে আবেদ আলী (৩০), কান্দুলিয়া গ্রামের বেলাল হোসেন (৫৫), ও লিমন(২৭)। তাদের স্থানীয় হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি করা হ‌য়ে‌ছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র