Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বাতাসে দুলছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন

বাতাসে দুলছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন
খলায় ধানের স্তূপ, ছবি: বার্তা২৪
মনিরুজ্জামান বাবলু
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
চাঁদপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় ফসলের মাঠজুড়ে বাতাসে দুলছে কৃষকের সোনালি স্বপ্নের আমন ধান। চলতি বছর প্রচুর ঝড়বৃষ্টি, পোকা মাকড়ের আক্রমণ আর নানা রোগ বালাইয়ের পরও এবার ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সুবাস পাচ্ছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ।

উপজেলার কৃষক পরিবারের মাঝে এখন ধানের মৌ মৌ গন্ধ। ধান কাটা আর মাড়াইয়ে যেন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা।

সরকারি হিসেবে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা এ বছর ব্যাহত হবে না বলে ধারনা করা যায়। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরাও দারুণ খুশি। তবে গত কয়েক বছরের ন্যায় এবারও নানা কারণে বাড়তি খরচ হওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ধানের ন্যায্য দাম আশা করেছেন তারা।

হাজীগঞ্জ উপজেলায় একটি পৌরসভা ও বারটি ইউনিয়নের কৃষি মাঠে এ বছর প্রায় সাড়ে নয় হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা চলতি বছরের শুরুতে কৃষকরা জমিতে ইরি-বোরো চাষাবাদ করেছে।

হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৯ হাজার পাঁচশ হেক্টর জমিতে এবার ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিগত বছরে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ইরি আবাদে বাম্পার ফলন হয়। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর প্রায় ৫০ হেক্টর জমি কম থাকলেও বাম্পার ফলনের আশাবাদী বলে জানায় কৃষি অধিদফতর।

কিন্তু খরচের তুলনায় ধানের ন্যায্য মূল্য না থাকার ফলে এবার কৃষকরা ইরি-বোরো আবাদে কম ঝুঁকতে দেখা যায়। তার পরেও শেষ দিকে এসে আলু, সরিষার মতো রবি শস্যের ফলন উঠার পর কৃষকরা জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করেছে।

বাতাসে দুলছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন

কেউ জমিতে খলা বানিয়ে, কেউবা বাড়ির আঙিনা বা উঠানে খলা বানিয়ে সেখানে ধানের ঘের তৈরি করে মিশিন ও মটকার উপর ধান ঝরিয়ে উত্তোলন করতে দেখা যায়। বিশেষ করে এ বছর বৃষ্টি আর ঝড়ের তীব্রতা দেখে অনেকে আগে-বাগে ধান কাটা শুরু করে দিয়েছে। অনেক কৃষকের ঘরে চাউল না থাকায় দেখা যায় নতুন ধান পেয়ে ভাফ দেওয়া শুরু করেছে। ধান কাটা থেকে শুরু করে খড়ের স্তূপ পর্যন্ত যেসকল শ্রমিক প্রয়োজন সে তুলনায় সংকট দেখা দেওয়ায় উত্তর বঙ্গ থেকে কিছু মৌসুমি শ্রমিদেরকেও কাজ করতে দেখা যায়।

কৃষি অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, উপজেলায় প্রায় ছোট বড় দেড় শতাধিক কৃষি মাঠ রয়েছে। যা থেকে এ বছরেও ফসল উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় দশ হাজার মেট্রিক টন। তবে এ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গত কয়েক বছর ধরে সমান ভাবে থাকলেও চলতি বছর অনেক কৃষকই সার ও কীটনাশক বৃদ্ধিসহ নানা কারণে ইরি-বোরো চাষাবাদ না করে রবি শস্য উৎপাদনে মনোনিবেশ হয়েছে বেশি।

এর কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় কৃষকরা চলমান চাষাবাদের খরচের সাথে ধান বিক্রয় কালে ন্যায্য মূল্য না পাওয়া। তাছাড়া দক্ষিণ অঞ্চলের কৃষি মাঠগুলো থেকে একাধারে ব্রিক ফিল্ড মালিকরা মাটি উত্তোলনের কারণেও চাষাবাদে ব্যাঘাত ঘটতেছে। এছাড়াও প্রাকৃতিকসহ নানা প্রতিকূলতার কারণে দিন দিন ধান উৎপাদন কমে যাচ্ছে এ উপজেলায়।

এদিকে গত কয়েক যুগ ধরে উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ মাঠে দুই ধরনের ফসল উৎপাদন হয়ে আসছে। উত্তর মাঠে দেখা যায় বর্ষার সময় আউশ ধানের ফলনসহ খরা মৌসুমে ইরি ধানের ফলনও উৎপাদন করছে এ অঞ্চলের কৃষকরা। আর দক্ষিণ অঞ্চলের মাঠগুলো নিচু হত্তয়ার কারণে ও একাধিক ব্রিক ফিল্ড গড়ে উঠায় শুধু মাত্র খরা মৌসুমে ইরি-বোরো চাষাবাদ ছাড়া অন্য কোন ফসল উৎপাদন করতে দেখা যায় না।

কথা হয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মনি সূত্রধর বলেন, 'চলতি মৌসুমে হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রায় সাড়ে নয় হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষাবাদ হয়েছে। সেই লক্ষে কৃষকরা জমি পরিচর্যার কাজ থেকে শুরু করে পোকা দমনে ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে ভাল ফলনের আশাবাদ রয়েছে।' সে সাথে সরকারি বীজের প্রজেক্টগুলোতেও ভাল ফলন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকারি প্রাপ্তি সাপেক্ষে আনুমানিক ৪০টি প্রদর্শনী হয়েছে। এই ৪০টি প্রজেক্টের মাধ্যমে আমরা পুরো উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে একেক টি ইউনিয়নে ২/৩টি করে প্রদর্শনীতে কাজ করেছি।

আপনার মতামত লিখুন :

টাঙ্গাই‌লে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু

টাঙ্গাই‌লে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের পৃথক এলাকায় বজ্রপাতে কলেজ ছাত্রসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছে আরও ছয়জন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলম জানান, বিকেল সাড়ে ৫টায় জামুরিয়া ইউনিয়নের নবরত্নবাড়ি গ্রামের আব্দুল ছালামের ছেলে শাহাদৎ হোসেন (৩৫) পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান।

তিনি আরও জানান, অন্য‌দি‌কে একই সময় বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলা শেষে উপজেলার গুণ গ্রাম থেকে নিজ বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে সরকারি জিবিজি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র রনি (২০) মারা যান। সে উপজেলার মধ্যকর্ণ গ্রামের আবু হানিফের ছেলে।

এছাড়া উপ‌জেলায় বজ্রপাতে আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। এরা হলেন- উপজেলার মধ্যকর্ণ গ্রামের আনিস আলীর ছেলের খোরশেদ আলম (৩২),আব্দুর রহমানের ছেলে রমজান আলী(৩০), নবরত গ্রামের জুব্বার আলীর ছেলে আবেদ আলী (৩০), কান্দুলিয়া গ্রামের বেলাল হোসেন (৫৫), ও লিমন(২৭)। তাদের স্থানীয় হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি করা হ‌য়ে‌ছে।

তীব্র স্রোতে ভেঙে গেল ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক

তীব্র স্রোতে ভেঙে গেল ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

বানের পানির তীব্র স্রোতে শেষমেষ ভেঙে গেল টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর-তারাকা‌ন্দি সড়‌ক। বৃহস্প‌তিবার (১৮ জুলাই) রাত পৌনে ৮টার দিকে সড়কটির বেশ কিছু অংশ ভেঙে পানি ঢুকে যায়।

এদিকে যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৯১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার শতাধিক গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রাম, তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। বন্যার পানি প্রবেশ করে পৌরসভার টেপিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পানির স্রোত বইছে। তীব্র স্রোতে নদীর পানি প্রবেশ করায় ভেঙে গেছে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর। বন্যাকবলিত মানুষজন গবাদি পশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাঁচটি মাদরাসা ও ৪৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করায় সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।

Flood

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মাঝে ২০০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে বানভাসি বেশিরভাগ মানুষ ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঝোটন চন্দ জানান, বন্যাকবলিতদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধির ফলে অর্জুনা ইউনিয়নের তাড়াই বাঁধ ভেঙে গেছে। এছাড়া ভাঙন অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কাজ করছে।

টাঙ্গাইলের পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, ভূঞাপুরে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৯১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পরিস্থিতি শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকাল পর্যন্ত অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন অংশে ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ চলছে।

আরও পড়ুন: হুমকির মুখে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র