Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

হবিগঞ্জে প্ল্যাটফর্মে টং দোকান বসিয়ে দখল

হবিগঞ্জে প্ল্যাটফর্মে টং দোকান বসিয়ে দখল
হবিগঞ্জের মনতলা রেল স্টেশনে দোকান বসিয়ে প্লাটফর্ম দখল করেছেন অবৈধ দখলদারা, ছবি: বার্তা২৪
কাজল সরকার
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
হবিগঞ্জ


  • Font increase
  • Font Decrease

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা রেল স্টেশনটি এখন অবৈধ দখলদারদের কবলে| প্রতিদিনই দখল হচ্ছে রেলের জায়গা। এমনকি প্ল্যাটফর্মেও বসেছে অবৈধ টং দোকান। প্ল্যাটফর্মের ভেতরে বসার ও হাটা-চলার জায়গায় রাখা হয়েছে দোকানের মালামাল। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন  যাত্রীরা।

স্থানীয়রা জানায়, মাধবপুর উপজেলার মনতলা স্টেশন দিয়ে উপজেলার অন্তত ৩০-৪০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ নিয়মিত ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন। স্টেশনটিতে আন্তঃজেলা জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসসহ প্রতিদিন ৪টি ট্রেন ৮ বার যাত্রাবিরতি করে। অথচ এই স্টেশনটির প্ল্যাটফর্মে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি টং দোকান। আবার যাত্রীদের বসার ও হাটা-চলার জায়গায় দোকানের মালামাল রেখে সৃষ্টি করা হয়েছে প্রতিবন্ধকতা।

শুধু প্ল্যাটফর্মেই নয়, রেলেও বিভিন্ন জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে অবৈধ স্থাপনা। অথচ রেল কর্তৃপক্ষ অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে স্টেশন মাস্টার আব্দুল মন্নানের যোগসাজশে ও কমিশন দিয়েই গড়ে উঠেছে এসব দোকান। এতে রেল কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা তনু মিয়া বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে প্ল্যাটফর্মের ওপরে অবৈধভাবে টং দোকান বসিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ রেল কর্তৃপক্ষ তাদের উচ্ছেদ করছে না।’

তিনি বলেন, ‘ট্রেন এলে যাত্রীদের মধ্যে তাড়াহুড়া লেগে যায় ট্রেনে উঠতে। এর মধ্যে এসব টং দোকান ও তাদের রাখা মালামালের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রী মো. রহমত আলী বার্তা২৪.কম-কে বলেন- ‘ব্যবসার সুবাধে আমি নিয়মিত ট্রেনে যাতাযাত করি। কিন্তু এই স্টেশনটির অবস্থা খুবই খারাপ। যেখানে সেখানে নিজেদের ইচ্ছেমতো দোকান বসিয়ে রেখেছে লোকজন। প্ল্যাটফর্মের ভেতরে ও হাটা চলার রাস্তায় রাখা হয়েছে মালামাল। অথচ রেল কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। রেল কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অভিযোগ দিলে উল্টো তারাই আমাদের বিভিন্ন কথা শোনায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/17/1558076024877.jpg

এ ব্যাপারে স্টেশন মাস্টার আব্দুল মান্নান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আমি অনেকবার তাদের এখান থেকে সরে যেতে বলেছি। এছাড়া চলাচলের রাস্তায় যেন মালামাল না রাখে সে জন্যও বলেছি। কিন্তু তারা আমার কথা শোনে  না।’

তিনি বলেন- ‘আমি আর একবার বলব, এরপরও যদি তারা না সড়ে তাহলে আমি প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেব।’

প্ল্যাটফর্মের ওপর বসানো টং দোকান থেকে কমিশনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা। আমি কোনো দোকান থেকে কমিশন নেই না।’

 

আপনার মতামত লিখুন :

যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার ২ আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার ২ আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত
প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার দুই আসামি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুইটি এলজি ও ৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (২৪ আগস্ট) ভোর রাতে টেকনাফের জাদিমোরা পাহাড়ে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন জাদিমোরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সব্বির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ শাহ ও একই ক্যাম্পের আব্দুল আজিজের ছেলে মোহাম্মদ শুক্কুর। তারা দীর্ঘদিন ধরে ঐ ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালনা করে আসছিল। সবশেষ বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাতে যুবলীগ নেতা হত্যার আসামি তারা।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামিদের ধরতে অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের অবস্থান টের পেয়ে গুলি চালায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে এসব অস্ত্র ও দুইজনের মৃতদেহ পাওয়া যায়।

নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি প্রদীপ কুমার।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাত পৌনে ১১টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে টেকনাফের জাদিমোরা ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুককে গুলি করে হত্যা করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।

শীতের আগে কাজে ফিরতে চান রাখাইন পল্লীর তাঁতিরা

শীতের আগে কাজে ফিরতে চান রাখাইন পল্লীর তাঁতিরা
তালতলীর রাখাইন পল্লীতে কাপড় বুনছেন এক তাঁত শিল্পী/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বরগুনা জেলার দক্ষিণে সর্বশেষ উপজেলা তালতলী। ১৭০০ সালের শেষের দিকে মিয়ানমারের আরাকানের মেঘাবতীর সান্ধ্যে জিলার ছেং ডোয়ে, রেমেত্রে, মেং অং অঞ্চল ত্যাগ করে রাখাইনরা এখানে বসবাস শুরু করেন।

তারপর থেকে জীবিকা নির্বাহের জন্য রাখাইন নারীরা তাঁতের কাপড় বোনা শুরু করেন। সেই থেকে কয়েক বছর আগেও তালতলীতে রাখাইনদের তাঁত শিল্ল ছিল জমজমাট। কিন্তু রাখাইন পল্লীতে তাঁত শিল্পের সেই সূবর্ণ দিন এখন আর নেই।

তাঁত বুনার যন্ত্রপাতি পড়ে আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। এই শিল্পের কারিগররা বেছে নিয়েছেন অন্য পেশা। গুটিকয়েক যারা আছেন, ভালো নেই তারা। এখন অনেকটা মানবেতর জীবন পার করছেন এই উপজেলার রাখাইন পল্লীর মানুষজন। বিলুপ্তির পথে এই তাঁত শিল্প।

শীতকালে জনপ্রিয় পোশাক এ তাঁতের কাপর। তাই আগামী শীত মৌসুমের আগে তাঁত শিল্পতে ফিরতে চাচ্ছেন রাখাইন পল্লীর তাঁতিরা, চাচ্ছেন সরকারি সহযোগিতা। উপজেলা প্রশাসনও বলছে, তাদের নতুন করে প্রশিক্ষণ ও ঋণ দিয়ে তাঁত শিল্পে ফিরিয়ে আনা হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566618833416.gif

জানা যায়, রাখাইন পল্লীতে এক সময় দিন রাত সমান তালে তাঁতের ঠক ঠক আওয়াজ শোনা যেত। তাঁতিদের কর্মব্যস্ততায় সরগরম ছিল রাখাইন পাড়া। উপজেলার রাখাইন মার্কেটে ছিল তাঁতের শাড়ি-কাপড় ক্রয় করার ধুম।

আর এখনে সেই মাকের্টে নেই বেচা-কেনার জট, নেই রাখাইন পল্লীতে কর্মব্যস্ততা। একদিকে যেমন সুতার সংকট, অন্যদিকে সুতার মাত্রাতিরিক্ত দাম, পাচ্ছেন না সরকারি কোনো সহায়তা, পণ্য বিক্রির পরিবেশ না থাকাসহ নানা সমস্যায় স্থবির হয়ে আছে রাখাইনদের তাঁত শিল্প।

এদিকে দুয়েকটি পাড়ায় তাঁত শিল্প দেখা গেলেও শুধু নিজেদের প্রয়োজনে কাপড় বুনছেন তারা। বাজারজাত করতে হলে সরকারি সহযোগিতা চান সাধারণ এ তাঁত শিল্পীরা।

রাখাইন তাঁত শিল্পী লাচা নো বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘সুতার দাম বেমি থাকায় এখন আর কাপড় বোনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমাদের জীবন যাপন কষ্টে কাটতেছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566618864981.gif

মনুকে পাড়ার চিং খে উই রাখানই বলেন, ‘এখন নিজেদের প্রয়োজনে দুয়েকটি কাপড় বোনা হয়। আগে কাপড় বুনে শেষ করতে পারতাম না।’

কবিরাজ পাড়ার তাঁতি খেনাচিং বলেন, ‘সুতার দাম বেশি ও কাপড় বিক্রির সুযোগ না থাকায় হারিয়ে যেতে বসেছে আমাদের প্রিয় শিল্প। আর তরুণরা ঝুঁকছে অন্য পেশায়।’

তালতলী উপজেলা তাঁতি সমিতির সভাপতি মংচিন থান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম.কে বলেন, ‘এক সময় রাখাইনদের ঐতিহ্য তাঁত শিল্প এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। সুতার দাম বেশি ও বিক্রির ব্যবস্থা না থাকায় রাখাইন পল্লির মানুষগুলো অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছেন। এ ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে দরকার সরকারি সহযোগিতা।’

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নিবার্হী অফিসার দীপায়ণ দাস শুভ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘তাঁত শিল্পিদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যাল থেকে রাখাইনের তাঁত শিল্পিদের জন্য মার্কেট বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র