Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

উচ্চ বেতনের প্রলোভনে ইউরোপে নেয় দালাল চক্র

উচ্চ বেতনের প্রলোভনে ইউরোপে নেয় দালাল চক্র
ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

স্বল্প আয়ের মানুষদের অল্প খরচে উন্নত দেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা করে আসছে মানব পাচারকারী চক্রের কয়েকটি এজেন্সি। যাদের এজেন্টরা প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে ঘুরে, উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে আট লাখ টাকায় ইউরোপে পাঠানোর নামে প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করছে।

অবৈধভাবে ইউরোপে প্রেরণকালে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় দালাল চক্রের গ্রেফতার তিন সদস্য সম্পর্কে শুক্রবার (১৭ মে) বর্ণনা দিতে গিয়ে এসব তথ্য দেন র‍্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান।

মুফতি মাহমুদ খান বলেন, 'এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত তিন মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে উচ্চ বেতনে বিদেশে কর্মসংস্থানের লোভ দেখিয়ে, দীর্ঘদিন যাবত এ ধরনের অপরাধ করে আসছে। চক্রটি বিদেশি যোগসাজশে অবৈধভাবে ইউরোপে লোক পাঠানোর চেষ্টা করে আসছে।

এই মানব পাচারকারী চক্রটির বিদেশে ভ্রমণের জন্য আট লাখ টাকা করে নেয়। যার পাঁচ লাখ টাকা লিবিয়া গমনের পূর্বে এবং বাকি তিন লাখ টাকা লিবিয়া গমনের পর ভিকটিমের আত্মীয়-স্বজনের নিকট থেকে নিচ্ছে।

র‍্যাবের এই মুখপাত্র বলেন, 'বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে পাঠানো মানব পাচারকারী এ ধরনের ৫/৬টি এজেন্সি রয়েছে। যার দুটি এজেন্সির তিন সদস্যকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।'

উচ্চ বেতনের প্রলোভনে অবৈধ রুটে ইউরোপে নেয় দালাল চক্র

তাদের বরাত দিয়ে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, 'গত (৯ মে) অবৈধভাবে ইউরোপে গমনকালে ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়ায় উপকূলে নৌকাডুবিতে প্রায় ৮০/৯০ জন নিখোঁজ হয়। যার অধিকাংশ ছিল বাংলাদেশি ৩৯ জন। যার মধ্যে ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই ৩৯ জন বাংলাদেশের মধ্যে, গ্রেফতার হওয়া দুই এজেন্সির তিন সদস্যের পাঠানো বাংলাদেশি ছিল।'

অন্যদিকে ইউরোপে মানব পাচারকারী চক্রের রুট সম্পর্কে র‍্যাব জানান, প্রথমে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়াতে পাঠানো হয়। এজন্য তারা তিনটি রুট ব্যবহার করে। সর্বপ্রথম বাসযোগে কলকাতা। কলকাতা বিমানবন্দর যোগে দিল্লিতে। দিল্লি থেকে শ্রীলঙ্কায় প্রেরণ করা হয়।

ভিকটিমরা শ্রীলঙ্কায় এজেন্টদের তত্ত্বাবধানে বেশ কয়েকদিন অবস্থান করেন। তারপর বিমানযোগে ইস্তাম্বুল তুরস্কের ট্রানজিট হয়ে ত্রিপলি লিবিয়া পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

র‍্যাব জানান, ভিকটিমরা ত্রিপলিতে পৌঁছানোর পর, সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি কথিত 'গুড লাক ভাই' সহ আরও কয়েকজন এজেন্ট তাদের গ্রহণ করে থাকে। ত্রিপলিতে আরও কয়েকদিন অবস্থানের পর ভিকটিমদের আত্মীয়-স্বজন হতে বাকি অর্থ আদায় করে সমুদ্রপথে ইউরোপে প্রেরণ করা হয়।

আর এভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ পথে গমনকালে ভিকটিমরা ভূমধ্যসাগরের মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনার শিকার হয়।

এর আগে গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে, মানব পাচারকারী চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, এনামুল হক তালুকদার, মোহাম্মদ আক্কাস মাতুব্বর, আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া।

আপনার মতামত লিখুন :

সংসদ প্লাজায় অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের জনাজা

সংসদ প্লাজায় অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের জনাজা
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে প্রবীণ রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ এর একাংশের সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় অংশগ্রহণ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলাম, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সহ সর্বস্তরের রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

জানাজা পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদ ভবন মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা কারী মো. সাইফুল্লাহ। জানাজা শেষে মরহুমের কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও হুইপরা।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের কফিনে শ্রদ্ধা জানান তার সহকারী সামরিক সচিব।

আরএমপি-জেলা পরিষদ দ্বন্দ্বে দুই মন্ত্রণালয়ের কমিটি

আরএমপি-জেলা পরিষদ দ্বন্দ্বে দুই মন্ত্রণালয়ের কমিটি
জেলা পরিষদের জমিতে আরএমপির নির্মাণাধীন সদর দফতর/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজশাহী নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে পাঁচ দশমিক ৯৫ একর জমি নিয়ে ছিল জেলা পরিষদের ডাকবাংলো। এর মধ্যে জমির পশ্চিম দিক থেকে এক দশমিক ৩৯ একর রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপির) কাছে বিক্রি করে জেলা পরিষদ। আর পূর্বের অংশের ডাকবাংলো ভাড়া নিয়ে চলছিল আরএমপি সদর দফতরের কার্যক্রম। কিন্তু এখন পুরো জমিটিই দখলে নিয়েছে আরএমপি।

সেখানে এখন আরএমপির স্থায়ী সদর দফতরের ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এজন্য জেলা পরিষদের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ডাকবাংলোটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে। চলতি বছরের ৬ মে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব সহ সকল সদস্য আরএমপি কমিশনার হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে দেখা করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে কাজ বন্ধ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি মন্ত্রণালয় পর্যন্ত গড়িয়েছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বিকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা পরিষদ ও আরএমপির জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. নূর-উর-রহমানকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের গঠন করে দেওয়া এই কমিটি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মাপ-জোখ করে জমির সীমানা নির্ধারণ করবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব আজীজ হায়দার ভুঁইয়া, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইফফাত আরা মাহমুদ ও আরিফুল ইসলাম খান, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক শাহাব উদ্দীন, উপ-মহাপরিদর্শক আবু হাসান মাহমুদ, রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, আরএমপি কমিশনার হুমায়ুন কবীর, স্থানীয় সরকার বিভাগের রাজশাহীর পরিচালক শ্যাম কিশোর রায় প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোটি পুলিশ ভাড়ায় ব্যবহার করত। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ভাড়া পরিশোধ করে আরএমপি। পরবর্তীতে আর ভাড়া প্রদান করা হয়নি। তবে জেলা পরিষদের পাঁচ দশমিক ৯৫ একর জমি থেকে এক দশমিক ৩৯ একর জমি কেনার পর বাকি জমিটুকুও বিক্রির জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল।

কিন্তু তখন জেলা পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান না থাকার কারণে জমি বিক্রি করা যায়নি। ঐ সময় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নির্বাচিত চেয়ারম্যান আসার পর বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হবে। পরবর্তীতে নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান এলেও পুলিশের কাছে জমি বিক্রি করা হয়নি। কিন্তু তারপরও জেলা পরিষদের জমি দখল করে এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আরএমপির স্থায়ী সদর দফতর নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে গেছে।

জানা যায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে আরএমপি জেলা পরিষদের জায়গা দখল করে ডাকবাংলোর সামনে প্রধান ফটক নির্মাণের কাজ শুরু করে। তখনও জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশ ঠিকই সেই প্রধান ফটক নির্মাণ করেছে।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ৭ জুলাই জেলা পরিষদ আরএমপির কাছে বিক্রি করে দেওয়া জমির সীমানা বুঝিয়ে দেয়। তখন সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়। এই বিক্রি করা জমির মধ্যে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর পাঁচ শতাংশ পড়েছিল। কিন্তু ২০১৫-১৬ অর্থবছরের পর ভাড়া প্রদান না করেই পুলিশ পুরো ডাকবাংলোটি অবৈধভাবে দখলে রাখে। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডাকবাংলোটি ভাঙতে শুরু করে।

এ নিয়ে ঐ বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি এবং ১৮ মার্চ দুটি চিঠি দেয় জেলা পরিষদ। কিন্তু তারপরেও ডাকবাংলো ভাঙা বন্ধ করা হয়নি। বরং পুরো জমিটিই দখলে নিয়ে আরএমপির সদর দফতর নির্মাণের কাজ চলছে।

জানতে চাইলে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘চিঠিতে কাজ না হওয়ায় আরএমপি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে নির্মাণ কাজ বন্ধ করার অনুরোধ জানাই। তিনি বলেছিলেন- রাজশাহীতে নতুন এসেছেন, জমির বিষয়ে কিছুই জানেন না। খোঁজ-খবর নিয়ে এ বিষয়টির সমাধান করবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমাধান হয়নি। তবে এখন জমির সীমানা নির্ধারণে একটি কমিটি হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই উদ্ভুত সমস্যার সমাধান হবে।’

আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘জেলা পরিষদের কাছ থেকে মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে যে অংশটুকু ক্রয় করা হয়েছে, সেই অংশটুকুই ভাঙা হয়েছে। আর এখন যেহেতু আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বিষয়টি গেছে। তারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করব।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র