Alexa

অবৈধ পথে ইউরোপে পাড়ি

ভূমধ্যসাগরে ভিকটিমরাই নৌকা চালায়!

ভূমধ্যসাগরে ভিকটিমরাই নৌকা চালায়!

দালাল চক্রের গ্রেফতারকৃতদের সম্পর্কে বর্ণনা দিলেন র‍্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান, ছবি: বার্তা২৪.কম

অবৈধ পথে, যারা মানব পাচারকারী চক্রের সহযোগিতায় ইউরোপে পাড়ি জমান, লিবিয়া হয়ে তিউনিসিয়া উপকূলীয় চ্যানেল পার হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমধ্যসাগরে ভিকটিমরাই নৌকা চালায় বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান।

অবৈধভাবে ইউরোপে প্রেরণকালে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় জড়িত চক্রের তিন সদস্য সম্পর্কে শুক্রবার (১৭ মে) বর্ণনা দিতে গিয়ে এ তথ্য তিনি।

র‍্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান বলেন, 'উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে আট লাখ টাকার বিনিময়ে স্বল্প আয়ের মানুষদের ইউরোপে পাঠাতে চান মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা। দেশ থেকে নানা প্রলোভন আর সুযোগ সুবিধার কথা বলে নিয়ে যায় তারা। পরে কলকাতার পর থেকেই ভিকটিমদের নানা রকম ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়।'

র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার প্রধান মুফতি মাহমুদ খান বলেন, 'নানা চড়াই-উৎরাই পার করে ভিকটিমদের ত্রিপলির বন্দর এলাকায় একটি সিন্ডিকেটের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আর সেখান থেকেই নৌ-পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায় তারা।'

মানব পাচারকারী চক্রের গ্রেফতার হওয়া এই তিন সদস্যদের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানায়, যেহেতু ভূমধ্যসাগর নৌকা দিয়ে পাড়ি দিতে হয়। সেহেতু অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কোন এজেন্ট ও সিন্ডিকেটের সদস্য ওই নৌকায় থাকেন না।

সিন্ডিকেট দুই মাস সময় নিয়ে সমুদ্রপথে অতিক্রম করার জন্য নৌ-যান চালানো এবং দিক নির্ণয় যন্ত্র পরিচালনাসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দেন ভিকটিমদের।

প্রশিক্ষণ শেষে একটি নির্দিষ্ট দিনে ভোর রাতে, একসঙ্গে কয়েকটি নৌকা লিবিয়া হয়ে তিউনিসিয়া উপকূলীয় চ্যানেলের হয়ে ইউরোপের পথে রওনা দেয়। উত্তাল সমুদ্রে ২০ ঘণ্টার বেশি এই পথ ঝুঁকিপূর্ণ। আর এভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ পথে গমনকালে ভিকটিমরা ভূমধ্যসাগরের মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনার শিকার হয়।

উল্লেখ্য, গত ৯ মে অবৈধভাবে ইউরোপে গমনকালে ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়ায় উপকূলে নৌকাডুবিতে প্রায় ৮০/৯০ জন নিখোঁজ হয়। যার অধিকাংশ ছিল বাংলাদেশি ৩৯ জন। যার মধ্যে ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ জন বাংলাদেশের।

আপনার মতামত লিখুন :