Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

`কাপ্তাই হ্রদকে দখলমুক্ত করা হবে’

`কাপ্তাই হ্রদকে দখলমুক্ত করা হবে’
মাছের পোনা অবমুক্তকরণের উদ্বোধন করেন / ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদকে দূষণমুক্ত রাখতে এবং অবৈধ দখলের কবল থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরু।

শুক্রবার (১৭ মে) রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় সব রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার। যেকোনো মূল্যে কাপ্তাই হ্রদকে দখল মুক্ত করা হবে। এ জন্য সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।‘

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান দিলদার আহম্মেদ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. ইয়াহিয়া খান, রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ প্রমুখ।

এর আগে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে কাপ্তাই হ্রদে বিএফডিসির সার্বিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন রাঙামাটি মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক নৌ কমান্ডার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান।
পরে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিরা বিএফডিসি রাঙামাটির কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো উৎপাদিত কার্প জাতীয় মাছের পোনা কাপ্তাই হ্রদের পানিতে অবমুক্ত করেন।

বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বছর নিজস্ব হ্যাচারি উৎপাদিত ৩০ মেট্রিক টন কার্প জাতীয় মাছের পোনা কাপ্তাই হ্রদে অবমুক্ত করা হবে।

এদিকে, বিগত বছরগুলোতে কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণের সঙ্গে জড়িত ২২ হাজার জেলে পরিবারকে আপদকালীন খাদ্য শস্য হিসেবে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হলেও এবছর এখনো পর্যন্ত কোনো চাল বরাদ্দ দেয়নি সরকারের ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে বেশ কয়েকবার চিঠি দিয়েও কোনো উত্তর পাননি জানিয়ে এ ব্যাপারে জেলেদের জন্য পূর্ব প্রতিশ্রুতিকৃত মাথাপিছু চালগুলো বরাদ্দে মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ।

উল্লেখ্য, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করাসহ পোনা অবমুক্তকরণ পরবর্তী সময়ে সেগুলো আহরণ উপযোগী করতে বিগত পহেলা মে থেকে পরবর্তী তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। বন্ধকালীন এ সময়ে কাপ্তাই হ্রদ থেকে যেকোনো মৎস্য সম্পদ আহরণ-বিপনন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন :

যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার ২ আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার ২ আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত
প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার দুই আসামি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুইটি এলজি ও ৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (২৪ আগস্ট) ভোর রাতে টেকনাফের জাদিমোরা পাহাড়ে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন জাদিমোরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সব্বির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ শাহ ও একই ক্যাম্পের আব্দুল আজিজের ছেলে মোহাম্মদ শুক্কুর। তারা দীর্ঘদিন ধরে ঐ ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালনা করে আসছিল। সবশেষ বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাতে যুবলীগ নেতা হত্যার আসামি তারা।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামিদের ধরতে অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের অবস্থান টের পেয়ে গুলি চালায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে এসব অস্ত্র ও দুইজনের মৃতদেহ পাওয়া যায়।

নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি প্রদীপ কুমার।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাত পৌনে ১১টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে টেকনাফের জাদিমোরা ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুককে গুলি করে হত্যা করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।

শীতের আগে কাজে ফিরতে চান রাখাইন পল্লীর তাঁতিরা

শীতের আগে কাজে ফিরতে চান রাখাইন পল্লীর তাঁতিরা
তালতলীর রাখাইন পল্লীতে কাপড় বুনছেন এক তাঁত শিল্পী/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বরগুনা জেলার দক্ষিণে সর্বশেষ উপজেলা তালতলী। ১৭০০ সালের শেষের দিকে মিয়ানমারের আরাকানের মেঘাবতীর সান্ধ্যে জিলার ছেং ডোয়ে, রেমেত্রে, মেং অং অঞ্চল ত্যাগ করে রাখাইনরা এখানে বসবাস শুরু করেন।

তারপর থেকে জীবিকা নির্বাহের জন্য রাখাইন নারীরা তাঁতের কাপড় বোনা শুরু করেন। সেই থেকে কয়েক বছর আগেও তালতলীতে রাখাইনদের তাঁত শিল্ল ছিল জমজমাট। কিন্তু রাখাইন পল্লীতে তাঁত শিল্পের সেই সূবর্ণ দিন এখন আর নেই।

তাঁত বুনার যন্ত্রপাতি পড়ে আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। এই শিল্পের কারিগররা বেছে নিয়েছেন অন্য পেশা। গুটিকয়েক যারা আছেন, ভালো নেই তারা। এখন অনেকটা মানবেতর জীবন পার করছেন এই উপজেলার রাখাইন পল্লীর মানুষজন। বিলুপ্তির পথে এই তাঁত শিল্প।

শীতকালে জনপ্রিয় পোশাক এ তাঁতের কাপর। তাই আগামী শীত মৌসুমের আগে তাঁত শিল্পতে ফিরতে চাচ্ছেন রাখাইন পল্লীর তাঁতিরা, চাচ্ছেন সরকারি সহযোগিতা। উপজেলা প্রশাসনও বলছে, তাদের নতুন করে প্রশিক্ষণ ও ঋণ দিয়ে তাঁত শিল্পে ফিরিয়ে আনা হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566618833416.gif

জানা যায়, রাখাইন পল্লীতে এক সময় দিন রাত সমান তালে তাঁতের ঠক ঠক আওয়াজ শোনা যেত। তাঁতিদের কর্মব্যস্ততায় সরগরম ছিল রাখাইন পাড়া। উপজেলার রাখাইন মার্কেটে ছিল তাঁতের শাড়ি-কাপড় ক্রয় করার ধুম।

আর এখনে সেই মাকের্টে নেই বেচা-কেনার জট, নেই রাখাইন পল্লীতে কর্মব্যস্ততা। একদিকে যেমন সুতার সংকট, অন্যদিকে সুতার মাত্রাতিরিক্ত দাম, পাচ্ছেন না সরকারি কোনো সহায়তা, পণ্য বিক্রির পরিবেশ না থাকাসহ নানা সমস্যায় স্থবির হয়ে আছে রাখাইনদের তাঁত শিল্প।

এদিকে দুয়েকটি পাড়ায় তাঁত শিল্প দেখা গেলেও শুধু নিজেদের প্রয়োজনে কাপড় বুনছেন তারা। বাজারজাত করতে হলে সরকারি সহযোগিতা চান সাধারণ এ তাঁত শিল্পীরা।

রাখাইন তাঁত শিল্পী লাচা নো বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘সুতার দাম বেমি থাকায় এখন আর কাপড় বোনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমাদের জীবন যাপন কষ্টে কাটতেছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566618864981.gif

মনুকে পাড়ার চিং খে উই রাখানই বলেন, ‘এখন নিজেদের প্রয়োজনে দুয়েকটি কাপড় বোনা হয়। আগে কাপড় বুনে শেষ করতে পারতাম না।’

কবিরাজ পাড়ার তাঁতি খেনাচিং বলেন, ‘সুতার দাম বেশি ও কাপড় বিক্রির সুযোগ না থাকায় হারিয়ে যেতে বসেছে আমাদের প্রিয় শিল্প। আর তরুণরা ঝুঁকছে অন্য পেশায়।’

তালতলী উপজেলা তাঁতি সমিতির সভাপতি মংচিন থান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম.কে বলেন, ‘এক সময় রাখাইনদের ঐতিহ্য তাঁত শিল্প এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। সুতার দাম বেশি ও বিক্রির ব্যবস্থা না থাকায় রাখাইন পল্লির মানুষগুলো অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছেন। এ ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে দরকার সরকারি সহযোগিতা।’

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নিবার্হী অফিসার দীপায়ণ দাস শুভ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘তাঁত শিল্পিদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যাল থেকে রাখাইনের তাঁত শিল্পিদের জন্য মার্কেট বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র