Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পে বোরোর বাম্পার ফলন

তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পে বোরোর বাম্পার ফলন
সড়কে ধান মাড়াইয়ের কাজ করছেন কৃষকরা / ছবি: বার্তা২৪
মাহমুদ আল হাসান (রাফিন)
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
নীলফামারী


  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারেজ (ডালিয়া) সেচ প্রকল্পের আওতায় নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর আগাম বৃষ্টি বা নদীতে ভারতীয় পানির ঢল না আসায় কোনো ঝামেলা ছাড়াই ধান ঘরে তোলা যাবে বলে আশা করছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা। আগাম জাতের ধান কাটা ও মাড়াই করার কাজ কেবল শুরু হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নীলফামারী সদর উপজেলার সাইফন এলাকায় তিস্তার প্রধান সেচ খালের পাশ্ববর্তী সড়কে অনেক কৃষক ধান মাড়াই করছেন। আবার অনেকে জমি থেকে ধান নিয়ে আসছেন।

ওই এলাকার কৃষক তাফিউল আলম বার্তা২৪.কমকে জানান, বিআর-২৮ জাতের ধানে প্রতি বিঘায় ২৫-২৮ মণ পর্যন্ত ধান পেয়েছেন। তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় তারা পর্যাপ্ত সেচের পানি পাওয়ায় গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/17/1558086745264.jpg

জলঢাকা উপজেলার চাওড়াডাঙ্গী গ্রামের কৃষক প্রেমচরন রায় বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমি দুই বিঘা জমিতে ক্যানেলের পানি দিয়ে আবাদ করেছি। বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্র বা ডিজেলচালিত পাম্পের মালিক বিঘাপ্রতি খরচ নেয় দুই হাজার ৪০০ টাকা। আমার দুই বিঘা জমিতে খরচ হতো চার হাজার ৮০০ টাকা। সেখানে ক্যানেলের সেচে আমাকে দিতে হয়েছে দুই বিঘায় ৩০০ টাকা।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের সেচ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এবার রংপুর কৃষি অঞ্চলের তিন জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৯ হাজার হেক্টর। তিস্তা ব্যারেজের সেচ কমান্ড এলাকায় নীলফামারী সদর, জলঢাকা, ডিমলা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর, রংপুর সদর, তারাগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, বদরগঞ্জ ও দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর, পাবর্তীপুর ও খানসামা উপজেলাসহ ১২টি উপজেলায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়ার প্রস্ততি থাকলেও পরবর্তীতে ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচের মাধ্যমে বোরো আবাদ করা হয়।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/17/1558086798236.jpg

পাউবোর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন বার্তা২৪.কমকে জানান, বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্রে এক হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করতে সেচ খরচ হয় ১০ হাজার ৫০০ টাকা। আবার ডিজেল চালিত সেচ পাম্পে এক হেক্টর জমিতে বোরো চাষে কৃষকের খরচ হয় প্রায় ১৪ হাজার টাকা। অপরদিকে, তিস্তা ব্যারাজের আওতায় (কমান্ড এলাকায়) এক হেক্টর জমিতে কৃষকের খরচ হয় মাত্র ১ হাজার ২০০ টাকা।

তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ ও ডিজেল চালিত পাম্পের সেচে এক হেক্টরে কৃষক ধান ফলায় গড়ে ৫ দশমিক ৪ মেট্রিক টন। সেচ ক্যানেলে কৃষক প্রতি হেক্টরে ধান উৎপাদন করছে ৬ মেট্রিক টন। এতে ব্যারাজ কমান্ড এলাকায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে তিস্তার সেচে ধান উৎপাদন হবে ১১৯ কোটি টাকার।

আপনার মতামত লিখুন :

হেলে পড়া বিদ্যুতের খুঁটি বাঁশ দিয়ে রক্ষার চেষ্টা!

হেলে পড়া বিদ্যুতের খুঁটি বাঁশ দিয়ে রক্ষার চেষ্টা!
হেলে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বাঁশের ঠেক, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ময়মনসিংহের গৌরীপুরের রামগোপালপুর ইউনিয়নের বর্ধনপাড়া গ্রামে হেলে পড়া জরাজীর্ণ লোহার বৈদ্যুতিক খুঁটির পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেক দেওয়া হয়েছে। তবে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে বাঁশের খুঁটি শুকিয়ে যাওয়ায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ- দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংস্কার কিংবা নতুন খুঁটি স্থাপনে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।

ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের শিবপুর পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের পাশ দিয়ে শিবপুর-পুম্বাইল সড়কের মাঝামাঝি স্থানে বর্ধনপাড়া বাজার। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পিডিবি কার্যালয় থেকে এখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এই বাজারের সড়ক ঘেঁষে ও ফসলি জমিতে পিডিবির উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন রয়েছে। কিন্তু সঞ্চালন লাইনের একাধিক লোহার খুঁটি মরচে পড়ে জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়ায় এগুলো হেলে পড়েছে।

এই অবস্থায় বিদ্যুৎ বিভাগ হেলে পড়া লোহার খুঁটি রক্ষায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেক দিয়েছে। এদিকে লোহার খুঁটি হেলে পড়ায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের তার নিচের দিকে ঝুলে পড়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎবিভাগ সঞ্চালন লাইন মেরামত না করে বাঁশের খুঁটি দিয়ে আশের পাশে গ্রামাঞ্চলের বাড়িঘরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সরবরাহ করেছে।

বর্ধনপাড়া গ্রামের কৃষকরা জানান, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ঝুলে পড়ার কারণে ঝুঁকি নিয়ে জমিতে চাষাবাদ করতে হয়। ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়লে কিংবা সঞ্চালন লাইন ছিড়ে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবি- দ্রুত যেনো নতুন খুঁটি স্থাপন করে ঝুঁকিপূর্ণ সঞ্চালন লাইন সংস্কার করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ বিভাগ (বিদ্যুৎ) কার্যালয়ের প্রকৌশলী প্রশান্ত ধর বলেন, 'বর্ধনপাড়া গ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি সরিয়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ লাইন সংস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।'

লাউ ফুলে লুকিয়ে রয়েছে কৃষকের স্বপ্ন

লাউ ফুলে লুকিয়ে রয়েছে কৃষকের স্বপ্ন
লাউ গাছে হলুদ রংয়ের ফুল ধরেছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

চলছে শরৎ, আসছে শীত। কুয়াশা আচ্ছন্ন এই শীত বাজারে আসবে বাহারি জাতের সবজি। এর মধ্যে পাওয়া যাবে জনপ্রিয় সবজি লাউ। শীত মৌসুমে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে ইতোমধ্যে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় লাউ চাষ করা হয়েছে। সম্প্রতি সেই লাউগাছে দেখা দিয়েছে হলুদ রংয়ের ফুল। এ ফুলেই লুকিয়ে রয়েছে কৃষকদের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন।

ধাপেরহাট এলাকার কৃষক শাহাদাত হোসেন জানান, শীতের সময় লাউ বিক্রির প্রস্তুতি নিয়ে এবার ৩০ শতক জমিতে লাউ চাষ করা হয়েছে। কিছুদিন আগে মাটির নিচে বপন করা হয়েছিল লাউ বীজ। এরপর মাটি ফেটে বের হয়েছে লাউগাছ।

চিকন-পাতলা খুঁটি বেয়ে লাউ গাছগুলো ধীরে ধীরে মাচায় (জাঙ্গলায়) উঠেছে। এসব গাছে দেখা দিয়েছে হলুদ রংয়ের ফুল। মাস খানেক পর ওই ফুল থেকেই লাউ হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি বিঘা জমিতে লাউ চাষে খরচ হয় ১০-১২ হাজার টাকা। সম্ভাব্য দাম পাওয়া গেলে প্রায় ৩৫-৪০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করা সম্ভব। শুধু লাউ নয়, এর ডগা ও পাতাগুলোও বাজারে বিক্রি করা হয়।’

আরেক কৃষক এন্তাজ আলী বলেন, ‘এখনকার বাজারে সারা বছরই লাউ পাওয়া যায়। তবে সেইসব লাউ সুস্বাদু না হওয়ায় ত্রেতা চাহিদা অনেক কম। শীতকালীন লাউ সবার কাছেই প্রিয় খাবার। এই লাউয়ের ক্রেতা চাহিদা অনেক অনেক বেশি। তাই শীত মৌসুমে লাউ চাষ করে বেশ লাভবান হওয়া যায়।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খাজানুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘শীতকালীন সবজি হিসেবে কৃষকরা ইতোমধ্যে লাউ চাষ শুরু করেছে। মাসখানেক পরই বাজারে পাওয়া যাবে লাউ। মানুষের প্রিয় সবজি লাউ। এই সবজি সহজে হজম হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ফলে এর চাহিদা অনেক বেশি।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র