Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

জামিনে থাকা জঙ্গিদের খুঁজছে পুলিশ

জামিনে থাকা জঙ্গিদের খুঁজছে পুলিশ
প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত
শাহরিয়ায় হাসান
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশে জঙ্গিদের অপতৎপরতা দেখা গেলেও বাংলাদেশ এই ঝুঁকিতে নেই বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে ঝুঁকি না থাকলেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জঙ্গি দমনে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিট।

সতর্কতার অংশ হিসেবে জামিনে বেরিয়ে লাপাত্তা হওয়া জঙ্গিদের অবস্থান শনাক্ত করতে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

পাশাপাশি যেকোনো ধরণের ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে র‍্যাব পুলিশের সদস্যরা।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য বলছে, ২০১৬ সালে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আর এ সময় তাদের হাতে গ্রেফতার হয় এক হাজারেরও বেশি বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্য।

এই সদস্যদের মধ্যে এখন প্রায় চার শতাধিক জঙ্গি সদস্য জামিনে রয়েছে। জামিনে থাকা এমন অনেক জঙ্গির অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাদের কাছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/17/1558087176249.jpg

এদিকে এসব ঘটনায় পুলিশ সদরদফতর থেকে বলা হচ্ছে, জামিনে বের হওয়া জঙ্গিদের চিহ্নিত করে, নজরদারির আওতায় আনতে হবে। সম্প্রতি ডিআইজি ও পুলিশ সুপারদের এ সম্পর্কিত বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ও এলিট ফোর্স র‍্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, ‘জঙ্গিবাদ থেকে বর্তমান কোনো দেশই পুরোপুরিভাবে নিরাপদ নয়।’

র‍্যাব সদরদফতরের তথ্য বলছে, ২০১৬ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছে ৫৮৪ জন জঙ্গি। এদের মধ্যে ১৬৭ জন জামিনে রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ রয়েছে ১৫৯ জন, নারী আট জন।

সংস্থাটি বলছে, মূল ধারার জঙ্গি বাদ  বাইরে শুধু হিজবুত তাহরীরের জামিনে থাকা সদস্যদের সংখ্যা হবে প্রায় আট শতাধিক। তাই কোনো ধরণের ঝুঁকি না নিয়ে, জামিনে থাকা জঙ্গিদের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব জঙ্গি লাপাত্তা, তাদের খুঁজে বের করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সম্প্রতি আইএস-এর হয়ে যুদ্ধ করতে সিরিয়ায় যাওয়া এক জঙ্গিকে রাজধানী থেকে গ্রেফতার করেছে সিটিটিসি। গ্রেফতারের পর বিভিন্ন ধরণের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে ৩৩ বছরের মুতাজ আবদুল মজিদ কফিল।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট সূত্রে জানা যায়, মুতাজ তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় গিয়ে আইএসের পক্ষে প্রায় পাঁচ মাস যুদ্ধ করেছেন। তারপর তিনি সেখান থেকে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় আসেন। ঢাকায় নব্য জেএমবির কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

পুলিশ বলছে, মুতাজের বাবা বাংলাদেশি, মা পাকিস্তানি, সৌদি আরবে জন্ম ও বেড়ে উঠা। দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ পাসপোর্ট বানায় মুতাজ। আরবি আর ইংরেজিতে দক্ষ থাকলেও বাংলা ভাষা জানেন না তিনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/17/1558087146066.jpg

মুতাজের বাংলাদেশে আসা ও উগ্রপন্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার তথ্য কিছুটা ভাবিয়ে তুলেছে জঙ্গি দমনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

আর এসবের প্রেক্ষিতেই, যেকোনো পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সার্বিক নিরাপত্তা ঢেলে সাজানো ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যদিও তারা বলছে, সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি নেই।

এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যেকোনো দেশেই, কোনো ঘটনা ঘটতে পারে। এমন টার্গেট আমাদের দেশেও থাকতে পারে। তবে দেশের জঙ্গিদের সক্ষমতা নেই। তারা চাইলেও কোন ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারবে না।’

একই বিষয়ে র‍্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘সারা বছর এই জঙ্গিদের কোনো না কোনো গ্রুপ সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় তাদের অনেকেই আবার ধরা পড়ে।’

আপনার মতামত লিখুন :

বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের দিনপঞ্জিকা গুরুত্বপূর্ণ দলিল

বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের দিনপঞ্জিকা গুরুত্বপূর্ণ দলিল
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন বিশ্লেষণ করে তার আদর্শ থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন অকুতোভয়, অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করেননি। বঙ্গবন্ধু আদর্শকে ধারণ করে এগিয়ে গেছেন। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন করা।’

রোববার (২৫ আগস্ট) জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি ঢাকা আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস-২০১৯ উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্পিকার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারসহ সকল শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন- সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন গোপালগঞ্জ জেলা সমিতির প্রধান সমন্বয়ক অ্যাড. মোল্লা মো. আবু কাওছার।

স্পিকার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনের প্রতিটি দিন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়- তিনি মানুষকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন এবং বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। তার সংগ্রামী জীবনের দিনপঞ্জিকা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল।’

স্পিকার আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জনগণের অধিকার আদায়ে দীর্ঘ ২৩ বছর আপসহীন থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। বঙ্গবন্ধু সবসময় পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার কঠোর নজরদারিতে ছিলেন। পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিটি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসের পরতে পরতেই মিশে আছে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য ত্যাগ।’

তিনি বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির জন্য আজীবন আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছেন। জনগণের অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপসহীন। তিনি অসীম সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়ে বাঙালি জাতিকে উপহার দিয়েছেন স্বাধীনতা এবং সংবিধান।’

স্পিকার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। বিশ্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সকল সূচকে উন্নয়নের রোলমডেল।’ এ সময় জাতির জনকের আদর্শকে ধারণ করে তারই স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ায় আত্মনিয়োগ করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গোপালগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মো. আবদুল্লাহ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য বাবু মুকুল বোস এবং নার্গিস রহমান এমপি বক্তব্য দেন।

পরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারসহ সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

কাঁচা চামড়ার সঠিক প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণের তাগিদ

কাঁচা চামড়ার সঠিক প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণের তাগিদ
কাঁচা চামড়া, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রফতানিযোগ্য চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের গুণগতমান বজায় রাখার লক্ষ্যে কাঁচা চামড়া মানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে প্রক্রিয়াকরণ এবং সংরক্ষণের তাগিদ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

রোববার (২৫ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে চামড়া শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের দ্রুত এ নিয়ে একটি সভা করা হবে বলে জানানো হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র অফিসার ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ বকসী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রফতানির সম্ভাবনাময় চামড়া খাতের উন্নয়নে করণীয় পর্যালোচনার লক্ষ্যে রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মফিজুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো, প্রাণিসম্পদ অধিদফতর পরিবেশ অধিদফতর বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র