Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘অযোগ্যকে বিশেষায়িত জায়গায় বসানো যাবে না’

‘অযোগ্যকে বিশেষায়িত জায়গায় বসানো যাবে না’
সেমিনারে বক্তব্য দেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম / ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

অযোগ্য মানুষকে বিশেষায়িত জায়গায় বসানো যাবে না উল্লেখ করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ‘একজন যথাযথ যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ ডাক্তার না হয়ে অযোগ্য মানুষ ডাক্তার হলে যে সর্বনাশ হয়, তা থেকে পেছনে ফিরে আসা যায় না।’

শুক্রবার (১৭ মে) সকালে রাজধানীর মিরপুরস্থ ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করে হাইপারটেনশন কমিটি অব ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ।

মন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসাশাস্ত্রে অনেক মহামানব অনেক বড় বড় অবদান রেখে গেছেন। এর পরও কেউ কেউ এ শাস্ত্রকে কলঙ্কিত করছেন। তবে এর সংখ্যা অত্যন্ত কম। কিন্তু এরাই এই মহান পেশার সমৃদ্ধ, সম্মান ও শ্রদ্ধার জায়গাকে বিতর্কিত করে তোলে। আমরা একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতায় ছুটে চলেছি। সমাজের দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদক, নৈরাজ্য এবং অনাকাঙ্ক্ষিত অনৈতিকতা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেবা খাতে শুধু সরকার নয়, সকলের এগিয়ে আসা দরকার। ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক এর সৎ প্রচেষ্টার অনন্য-অসাধারণ প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষ সুদূরপ্রসারীভাবে উপকৃত হচ্ছে। সেজন্য সমাজে যারা বিত্তবান আছেন তারাও এগিয়ে আসুন। আর্থিক সম্পত্তি না থাকলেও যাদের হৃদয়ের সম্পদ অনেক বড় তাদেরকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছেন। প্রতিটি বিভাগে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। প্রতিটি জেলায় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। এর লক্ষ্য চিকিৎসা বিজ্ঞানে দক্ষ মানুষ তৈরি করা এবং নাগরিকের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা।’

মানুষকে বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করা যায় উল্লেখ করে চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘নীতি-নৈতিকতার কথা মানুষকে শিক্ষা দিতে হবে। অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে চাপ বেড়ে গিয়ে উচ্চ রক্তচাপে মানুষ আক্তান্ত হয়। সব সময় অপারেশন বা ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা নাও হতে পারে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে আপনাদের চিকিৎসা বিজ্ঞানের অংশে পরিণত করে বৃহৎ পরিসরে এর অনুশীলন করা দরকার। অনেক গুণগত ভূমিকা জাতির জন্য আপনারা রাখছেন এবং রাখতে পারেন।’

উল্লেখ্য, রক্তচাপ এবং উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগসমূহ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানানো, প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসার জন্য জনগণ এবং চিকিৎসকসহ সকলের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর ১৭মে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস উদযাপিত হয়ে থাকে। ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন লীগ এবং ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব হাইপারটেনশন এর যৌথ উদ্যোগে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও হাইপারটেনশন কমিটি অব ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ শুক্রবার বিভিন্ন আয়োজনে দিবসটি পালন করেছে। বিশ্ব রক্তচাপ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ছিলো ‘আপনার রক্তচাপ জানুন’।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. বার্দান জং রানা প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

সংসদ প্লাজায় অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের জনাজা

সংসদ প্লাজায় অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের জনাজা
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে প্রবীণ রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ এর একাংশের সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় অংশগ্রহণ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলাম, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সহ সর্বস্তরের রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

জানাজা পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদ ভবন মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা কারী মো. সাইফুল্লাহ। জানাজা শেষে মরহুমের কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও হুইপরা।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের কফিনে শ্রদ্ধা জানান তার সহকারী সামরিক সচিব।

আরএমপি-জেলা পরিষদ দ্বন্দ্বে দুই মন্ত্রণালয়ের কমিটি

আরএমপি-জেলা পরিষদ দ্বন্দ্বে দুই মন্ত্রণালয়ের কমিটি
জেলা পরিষদের জমিতে আরএমপির নির্মাণাধীন সদর দফতর/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজশাহী নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে পাঁচ দশমিক ৯৫ একর জমি নিয়ে ছিল জেলা পরিষদের ডাকবাংলো। এর মধ্যে জমির পশ্চিম দিক থেকে এক দশমিক ৩৯ একর রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপির) কাছে বিক্রি করে জেলা পরিষদ। আর পূর্বের অংশের ডাকবাংলো ভাড়া নিয়ে চলছিল আরএমপি সদর দফতরের কার্যক্রম। কিন্তু এখন পুরো জমিটিই দখলে নিয়েছে আরএমপি।

সেখানে এখন আরএমপির স্থায়ী সদর দফতরের ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এজন্য জেলা পরিষদের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ডাকবাংলোটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে। চলতি বছরের ৬ মে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব সহ সকল সদস্য আরএমপি কমিশনার হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে দেখা করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে কাজ বন্ধ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি মন্ত্রণালয় পর্যন্ত গড়িয়েছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বিকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা পরিষদ ও আরএমপির জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. নূর-উর-রহমানকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের গঠন করে দেওয়া এই কমিটি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মাপ-জোখ করে জমির সীমানা নির্ধারণ করবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব আজীজ হায়দার ভুঁইয়া, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইফফাত আরা মাহমুদ ও আরিফুল ইসলাম খান, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক শাহাব উদ্দীন, উপ-মহাপরিদর্শক আবু হাসান মাহমুদ, রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, আরএমপি কমিশনার হুমায়ুন কবীর, স্থানীয় সরকার বিভাগের রাজশাহীর পরিচালক শ্যাম কিশোর রায় প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোটি পুলিশ ভাড়ায় ব্যবহার করত। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ভাড়া পরিশোধ করে আরএমপি। পরবর্তীতে আর ভাড়া প্রদান করা হয়নি। তবে জেলা পরিষদের পাঁচ দশমিক ৯৫ একর জমি থেকে এক দশমিক ৩৯ একর জমি কেনার পর বাকি জমিটুকুও বিক্রির জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল।

কিন্তু তখন জেলা পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান না থাকার কারণে জমি বিক্রি করা যায়নি। ঐ সময় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নির্বাচিত চেয়ারম্যান আসার পর বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হবে। পরবর্তীতে নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান এলেও পুলিশের কাছে জমি বিক্রি করা হয়নি। কিন্তু তারপরও জেলা পরিষদের জমি দখল করে এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আরএমপির স্থায়ী সদর দফতর নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে গেছে।

জানা যায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে আরএমপি জেলা পরিষদের জায়গা দখল করে ডাকবাংলোর সামনে প্রধান ফটক নির্মাণের কাজ শুরু করে। তখনও জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশ ঠিকই সেই প্রধান ফটক নির্মাণ করেছে।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ৭ জুলাই জেলা পরিষদ আরএমপির কাছে বিক্রি করে দেওয়া জমির সীমানা বুঝিয়ে দেয়। তখন সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়। এই বিক্রি করা জমির মধ্যে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর পাঁচ শতাংশ পড়েছিল। কিন্তু ২০১৫-১৬ অর্থবছরের পর ভাড়া প্রদান না করেই পুলিশ পুরো ডাকবাংলোটি অবৈধভাবে দখলে রাখে। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডাকবাংলোটি ভাঙতে শুরু করে।

এ নিয়ে ঐ বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি এবং ১৮ মার্চ দুটি চিঠি দেয় জেলা পরিষদ। কিন্তু তারপরেও ডাকবাংলো ভাঙা বন্ধ করা হয়নি। বরং পুরো জমিটিই দখলে নিয়ে আরএমপির সদর দফতর নির্মাণের কাজ চলছে।

জানতে চাইলে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘চিঠিতে কাজ না হওয়ায় আরএমপি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে নির্মাণ কাজ বন্ধ করার অনুরোধ জানাই। তিনি বলেছিলেন- রাজশাহীতে নতুন এসেছেন, জমির বিষয়ে কিছুই জানেন না। খোঁজ-খবর নিয়ে এ বিষয়টির সমাধান করবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমাধান হয়নি। তবে এখন জমির সীমানা নির্ধারণে একটি কমিটি হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই উদ্ভুত সমস্যার সমাধান হবে।’

আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘জেলা পরিষদের কাছ থেকে মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে যে অংশটুকু ক্রয় করা হয়েছে, সেই অংশটুকুই ভাঙা হয়েছে। আর এখন যেহেতু আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বিষয়টি গেছে। তারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করব।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র