Alexa

খাদ্য ভেজালমুক্ত হলে ক্যান্সার অর্ধেকে নেমে আসবে

খাদ্য ভেজালমুক্ত হলে ক্যান্সার অর্ধেকে নেমে আসবে

পবা’র গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা/ ছবি: সংগৃহীত

'খাদ্যকে ভেজালমুক্ত করা গেলে ক্যান্সার কমপক্ষে অর্ধেকে নেমে আসত। নানা ধরণের বিষাক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুতকৃত নিম্নমানের খাদ্যের কারণে আগামী প্রজন্ম বিভিন্ন গুরুতর অসুখের ঝুঁকি নিয়ে বড় হচ্ছে। দীর্ঘদিন বিষাক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে গর্ভবতী মা ও তার পেটের ভ্রুনের ক্ষতি হয়, সন্তানও ক্যান্সার, কিডনিসহ মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।’

শুক্রবার (১৭ মে) বেলা ১১টায় রাজধানীর কলাবাগানে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) আয়োজিত ‘বিষাক্ত খাদ্য: সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, ভেজাল খাবারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। কিডনি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী দেশে দুই কোটির বেশি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতি মাসে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভার রোগী দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ প্রত্যেকটি স্তরেই ভেজালের ছড়াছড়ি রয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, খাদ্যে ভেজাল আমাদেরকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইফতারিসহ সকল খাদ্য বিষ ও ভেজালমুক্ত করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সকলের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

এ সময় পবা’র পক্ষ থেকে কয়েকটি সুপারিশ করা হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ভেজাল ও বিষযুক্ত খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে সরকারকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা। ভেজালের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টের ধারা প্রয়োগ করা। খাদ্যে বিষ বা ভেজাল রোধে কোনো রকম বৈষম্য বা রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়াই আইন প্রয়োগে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ রাসায়নিক পদার্থের আমদানিকারক ও ব্যবহারকারী এবং লেবেল ছাড়া বা মিথ্যা লেবেলের অধীন কীটনাশক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সময়োপযোগী কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করা।

পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পবা’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান, মূখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাবি’র ঔষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ.ব.ম. ফারুক, ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের ডা. মো. আবু সাইদ, নাসফের সাধারণ সম্পাদক মো. তৈয়ব আলী, বানিপা’র সভাপতি প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, বিজিআরএম-এর সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. গোলাম হায়দার, হিল-এর সভাপতি মো. জেবুন নেসা প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :