Alexa

গণতান্ত্রিক ধারা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়: শেখ হাসিনা

গণতান্ত্রিক ধারা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়: শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গণভবনে বক্তব্য দেন, ছবি: সংগৃহীত

গণতান্ত্রিক ধারা ছাড়া দেশে কখনো আর্থ-সামাজিক উন্নতি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। শুক্রবার সকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দেখা করতে গেলে তাদের উদ্দেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৮১ সালে দেশে ফিরে আসার পর ছিল পদে পদে বাঁধা। একদিকে যারা সরকারে ছিল তাদের বাধা। তবে মাথায় রেখেছিলাম, এই দেশটার জন্য কিছু করে যেতে হবে।’

‘দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে নিয়ে আসার সংগ্রামের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি গণতান্ত্রিক ধারা ছাড়া দেশে কখনো আর্থ-সামাজিক উন্নতি সম্ভব নয়।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যারা বার বার চেয়েছে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে তারা সফল হয়নি। আওয়ামী লীগ কিন্তু আওয়ামী লীগের মতই ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে। আজকে সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ এক নম্বর পলিটিক্যাল পার্টি। যে পার্টি মানুষের আস্থা, বিশ্বাস অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, ‘সেই আস্থা বিশ্বাস আমরা দেখতে পেয়েছি এবারের নির্বাচনে, নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে যারা প্রথমবারের ভোটার তারা সকলে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে তাদের আস্থা বিশ্বাসকে জানিয়েছে।’

আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জনপ্রিয়তার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমরা যে ক্ষমতায় থেকে মানুষের জন্য কাজ করেছি, মানুষের জন্য উন্নয়ন করেছি, মানুষের ভাগ্য গড়ার জন্য যে কাজগুলো করেছি। সেটা মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছে। এটা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো রাজনৈতিক নেতার জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে মানুষের আস্থা বিশ্বাসটা অর্জন করা।

নইলে ক্ষমতায় থাকলে সাধারণত মানুষের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় এসে মানুষের আস্থা বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি বলেই মানুষের ভোট আমরা পেয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, ৩৮ বছরে বাংলাদেশের মানুষের মর্যাদা ক্ষুন্ন হোক, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হোক, এমন কোনো কাজ আমি বা আমার পরিবারের কোনো সদস্য কখনো করিনি। নিজেদের চাওয়া পাওয়ার জন্য কাজ করিনি, কাজ করেছি দেশের মানুষের জন্য। সব সময় চিন্তা করেছি মানুষকে কি দিতে পারলাম, মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলাম। আমরা যত বার ক্ষমতায় এসেছি, মানুষের জন্য কাজ করেছি তত মানুষের আস্থা বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি।

এই দেশটা যেন আবার স্বাধীনতা বিরোধী, যুদ্ধাপরাধী এদের হাতে আর ক্ষমতা না যায়, কেউ যেন দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে,সেদিকে সবাইকে সর্তক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমাদের প্রচেষ্টাই হচ্ছে কিভাবে এদেশটাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব। ব্যক্তিগত জীবনে কি পেলাম, না পেলাম সে চিন্তা করি না। দেশের মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলাম, কতটুকু দিতে পারলাম সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/17/1558090249519.jpg

রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, স্কুল জীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। তারপর কলেজে গিয়ে.. তারপর ইউনিভার্সিটিতে তখনো ছাত্রলীগেরই সদস্য ছিলাম। আওয়ামী লীগের না। আওয়ামী লীগের হলাম ৮১ সালে।

তিনি বলেন, আমার রাজনীতি ছাত্ররাজনীতি থেকেই শুরু। তবে কখনো কোনো বড় পোস্টে ছিলাম না, বড় পোস্ট চাইওনি কখনো। যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির একজন সদস্য ছিলাম। কখনো পদ নিয়ে চিন্তা করিনি, পদ আমরা চাইওনি। আমরা পদ সৃষ্টি করে এবং সবাইকে পদে বসানোর দায়িত্বটাই পালন করতাম। প্রত্যেকটা কনফারেন্সে হাজির থাকতাম। ৭৫ এর পর এত বড় দায়িত্ব আমাকে নিতে হবে এটা কখনো আমি ভাবিনি, চাইওনি, এটা চিন্তাও ছিল না।

এ সময় আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার ইঙ্গিত দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, একটা দলের সভানেত্রী হিসেবে ৩৮ বছর এটা বোধয় একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে। (এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা সমস্বরে না বলে ওঠেন) আমার মনে হয় আপনাদেরও সময় এসেছে, তাছাড়া বয়সও হয়েছে। … এ বিষয়গুলো তো দেখতে হবে। ক্ষমতায় থেকেও মানুষের আস্থা বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি এটাও কিন্তু বিশাল অর্জন। নেতা-কর্মীদের কাছে এইটুকু চাইব, এই আস্থা বিশ্বাস যেন আমরা ধরে রাখতে পারি।

এর আগে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফুল দিয়ে শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ আরও অনেকে।

আপনার মতামত লিখুন :