Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

আগের ম্যাচের সেরা ব্যাটসম্যান, সেরা বোলারই নেই ফাইনালে!

আগের ম্যাচের সেরা ব্যাটসম্যান, সেরা বোলারই নেই ফাইনালে!
দলে নেই আবু জায়েদ ও লিটন দাস
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ফাইনালের আগে খেলা বাংলাদেশের শেষ ম্যাচের স্কোরকার্ডে একবার চোখ বুলিয়ে নিন।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ সেই ম্যাচ জিতে ৬ উইকেটে। দলের ২৯৪ রানের স্কোরে সবচেয়ে বেশি রান লিটন দাসের। সবচেয়ে বেশি বাউন্ডারিও তার, ৯টি। সেই ম্যাচে দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৬৭টি বলও খেলেন লিটন। তামিম ইকবালের সঙ্গে ব্যাটিং ওপেন করতে নেমেছিলেন। ৯ বাউন্ডারি ১ ছক্কায় ৬৭ রানে ৭৬ রান। পিঠ চাপড়ে দেয়ার মতোই পারফরমেন্স।

অথচ সেই লিটন দাস পরের ম্যাচের একাদশ থেকে বাদ!

এতো গেলো ব্যাটিংয়ের কথা। এবার গেলো ম্যাচের বোলিং পারফরমেন্সের দিকে এক নজর।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেই পেসার আবু জায়েদ রাহী চমক দেখান। ৯ ওভারে ৫৮ রান খরচায় তার শিকার ৫ উইকেট। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই পাঁচ উইকেট! চার বছর পর ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো বোলার এক ম্যাচে পাঁচ উইকেট পেলেন। দুর্দান্ত পারফরমেন্স দেখানো আবু জায়েদ রাহী হলেন ম্যান অব দ্যা ম্যাচ।

পরের ম্যাচেই সেই ম্যান অব দ্যা ম্যাচ একাদশ থেকে বাদ!

তাহলে হিসেব কি দাড়ালো? যে দুই জন আগের ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে সেরা ব্যাটসম্যান হলেন সেই তিনি পরের ম্যাচেই বাদ। ঠিক একইভাবে আগের ম্যাচের সেরা বোলারও পরের ম্যাচেই বাদ!

সাধারণের হিসেবে এই সিদ্ধান্তে তো রাগ, বিস্ময় বা অবাক হওয়ার কথা। কিন্তু ফাইনালে এভাবে আগের ম্যাচের সেরা পারফর্মার লিটন দাস ও আবু জায়েদ রাহী বাদ পড়ার মধ্যে দোষারোপের কিছু নেই।

ক্রিকেটে এমনকিছু সময় আসে যখন অতীতের পারফরমেন্স দিয়ে নয়, বর্তমানের বাস্তবতা মেনে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। লিটন ও রাহীর ফাইনালে না খেলাটা সেই সংজ্ঞায় পড়ছে। এই বাদ পড়ায় কারো রাগ করার কিছু নেই। আবেগ ম্যাচ জেতায় না। দলীয় শক্তির সঠিক সমীকরণ ম্যাচ জেতায়।

ক্রিকেটে একাদশ গড়তে শুধু পারফরমেন্স নয়, কম্বিনেশন বলে একটা কথা আছে। সেটা ঠিক রাখতে না পারলে একাদশ এলোমেলো হয়ে পড়ে। সাকিব আল হাসান ফাইনালে না থাকায় একাদশের কম্বিনেশন সাজানো এমনিতেই দলের জন্য কঠিন হয়ে দাড়ায়। ফাইনালে সাকিবের ব্যাটিংয়ের সঙ্গে তার ১০ ওভার তাহলে কে সামাল দেবে- সেই চিন্তায় দলের শক্তির ভারসাম্য ঠিক রাখতে মোসাদ্দেকের স্পিনকে ‘সাকিবের স্পিন’ বলে মেনে নেয়া হলো। সেই সূত্রেই মোসাদ্দেক চলে এলেন ফাইনালের একাদশে। মোসাদ্দেকের জায়গায় যদি লিটন দাসকে খেলানো হতে তাহলে ফাইনালে ৫০ ওভারের বোলিং কোটা পুরুন করতে গিয়ে বড় বিপদে পড়তো বাংলাদেশ। নিশ্চিত থাকুন এই ফাইনালে সাকিব যদি খেলতেন তাহলে লিটন দাসও অবশ্যই একাদশে সুযোগ পেতেন। তখন মোসাদ্দেকই হতেন ফাইনালের দ্বাদশ ব্যক্তি!

সহজ আরেকটি হিসেব আছে। আগের ম্যাচে লিটন দাস খেলেছিলেন সৌম্য সরকারের জায়গায়। যে সৌম্য সরকার টুর্নামেন্টে দারুণ ফর্মে আছেন ব্যাট হাতে। দুটি ম্যাচ খেলেছেন দুটিতেই হাফসেঞ্চুরি। তাই সৌম্য দলে ফেরায় লিটনকে জায়গা ছাড়তেই হয়েছে।

আবু জায়েদ রাহীর ক্ষেত্রেও হিসেবটা অমনই। মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় তিনি আগের ম্যাচের একাদশে ছিলেন। মুস্তাফিজ একাদশে ফেরায় ফাইনালের ডাগআউটে আবু জায়েদ রাহী।

পারফরমেন্স। একাদশ। বাদ পড়া। দলে ফেরা-কি সব হিসেব মিললো তো এখন?

আপনার মতামত লিখুন :

শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনার টেস্ট জিতলো ইংল্যান্ড! নায়ক বেন স্টোকস

শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনার টেস্ট জিতলো ইংল্যান্ড! নায়ক বেন স্টোকস
ইংল্যান্ডের নাটকীয় জয়ের নায়ক বেন স্টোকস

আহ্ টেস্ট ম্যাচ! কি দুর্দান্ত ম্যাচ! টান টান লড়াই! ব্যাট-বলের জমাট লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জিতলো ইংল্যান্ড। তাও আবার মাত্র ১ উইকেটে! ন্যূনতম ব্যবধানে ইংল্যান্ডের এই জয়ই জানান দিচ্ছে কি দারুণ জমেছিলো এই ম্যাচ!

জয়ের জন্য ইংল্যান্ড শেষ রান না নেয়া পর্যন্ত বোঝাই যাচ্ছিলো না এই টেস্ট কে জিতবে- ইংল্যান্ড নাকি অস্ট্রেলিয়া?

বেন স্টোকসের ব্যাটে সব সন্দেহ, দ্বিধা দূর করে ইংল্যান্ড জিতলো তাদের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক ম্যাচ। স্টোকসের অপরাজিত ১৩৫ রানের ইনিংস হেডিংলির মাঠে ইয়ান বোথামের ১৯৮১ সালের অ্যাশজের হার না মানা ১৪৯ রানের সেই ম্যাচ জয়ী ইনিংসের কথাই মনে করিয়ে দিলো। বোথামের মতো এই টেস্টও পুরোপুরি একা হাতে ইংল্যান্ডকে জেতালেন বেন স্টোকস।

শেষ উইকেটে হার না মানা ৭৬ রানের ইংল্যান্ডের অবিশ্বাস্য জুটিই সব হিসেবের সমাধান করে দিলো। এই ৭৬ রানের মধ্যে মাত্র ১ রান করলেন শেষ ব্যাটসম্যান জ্যাক লিচ। বাকি সব স্টোকের কৃতিত্ব।

ম্যাচ জিততে শেষ ইনিংসে ইংল্যান্ডের সামনে টার্গেট ছিলো ৩৫৯ রানের। শেষ ইনিংসে এরচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড আছে ইংল্যান্ডের। কিন্তু সেই ম্যাচ তারা জিততে পারেনি। ড্র করেছিলো। এই প্রথম চতুর্থ ইনিংসে এতো বেশি রান তাড়া করে ম্যাচ জিতলো ইংল্যান্ড। তাও আবার যে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে তারা গুটিয়ে গিয়েছিলো ৬৭ রানে!

হোঁচট খেয়েও কিভাবে উঠে দাঁড়াতে হয়? কিভাবে ফিরে আসতে হয়? কিভাবে প্রায় শূন্য অবস্থান থেকে জিততে হয়? সেই সব প্রশ্নের উত্তর দিলো ইংল্যান্ড হেডিংলি টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে।

১১ বাউন্ডারি ও ৮ ছক্কায় ২১৯ বলে বেন স্টোকসের হার না মানা ১৩৫ রান অ্যাশেজের ইতিহাসে সেরা ইনিংসের একটি হয়ে রইলো। এই জয়ের সুবাদে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ এখন ১-১ ড্র। সিরিজের চতুর্থ টেস্ট শুরু হবে ৪ সেপ্টেম্বর, ওল্ড ট্রাফোর্ডে।

চতুর্থদিনে জস বাটলার আউট হওয়ার পর এই ম্যাচের পাল্লা অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ে। দলের নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে স্টুয়ার্ট ব্রড যখন আউট হলেন তখন ইংল্যান্ডের স্কোর ২৮৬ রান। ম্যাচ জিততে তখনো তাদের চাই ৭৩ রান। প্রায় অসম্ভব সেই কাজ শেষ উইকেটে করে ফেললো ইংল্যান্ড। আসলে বলা উচিত করে দিলেন বেন স্টোকস। একপ্রান্ত আঁকড়ে রেখে অন্যপ্রান্তের ব্যাটসম্যানকে বাঁচিয়ে খেলার যে দুর্দান্ত ব্যাটসম্যানশিপ উপহার দিলেন বেন স্টোকস এই টেস্টে-তা হেডিংলির দর্শকরা অনেক অনেকদিন মনে রাখবে।

শেষের দিকে এসে অবশ্য কিছুটা ভাগ্যেরও সহায়তা পায় ইংল্যান্ড। জয়ের জন্য ১৭ রান দুরে থাকতে বেন স্টোকের ক্যাচ মিস করেন মার্কাস লাবুসানে। ইংল্যান্ড যখন জয় থেকে ৯ রান দুরে তখন নাথান লায়নের এক ওভারে জোড়া আফসোসে মন ভাঙ্গলো অস্ট্রেলিয়ার। জ্যাক লিচকে রান আউটের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন নাথান লায়ন। পরের বলেই বেন স্টোকস এলবিডব্লু ছিলেন। কিন্তু আম্পায়ার তাতে সম্মত হলেন না। অস্ট্রেলিয়া তাদের রিভিউ আগেই নষ্ট করে ফেলেছে! রিপ্লেতে পরিস্কার দেখা গেলো বেন স্টোকস এলবি। কিন্তু রিভিউ যে নেই!

শেষের এই টেনশনের মধ্যে কামিন্সের বলে এক রান নিয়ে স্কোর সমান করে দিলেন লিচ। সম্ভবত তার টেস্ট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মুল্যবান সিঙ্গেল রান নিলেন লিচ। পরের বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বেন স্টোকস ইংল্যান্ডকে এনে দিলেন অবিস্মরণীয় এক জয়!

সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিং: ১৭৯/১০ (৫২.১, ওয়ার্নার ৬১, লাবুসচাঙ্গে ৭৪, পাইন ১১, আর্চার ৬/৪৫, ব্রড ২/৩২)। দ্বিতীয় ইনিংস: ২৪৬/১০ (৭৫.২ ওভারে, খাজা ২৩, লাবুশানে ৮০, হেড ২৫, ওয়েড ৩৩, স্টোকস ৩/৫৬, আর্চার ২/৪০, ব্রড ২/৫২)।
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস ৬৭/১০ (২৭.৫ ওভারে, জো ডেনলি ১২, হ্যাজেলউড ৫/৩০, কামিন্স ৩/২৩, প্যাটিসন ২/৯)। দ্বিতীয় ইনিংসে: ৩৬২/৯ (১২৫.৪ ওভারে, জো রুট ৭৭, জো ডেনলি ৫০, বেয়ারস্টো ৩৬, স্টোকস ১৩৫*, হ্যাজেলউড ৪/৮৫)। ফল: ইংল্যান্ড ১ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা: বেন স্টোকস।

আগুয়েরো ম্যাজিকে সিটির জয়

আগুয়েরো ম্যাজিকে সিটির জয়
ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলের পর আগুয়েরোর বিশেষ উদযাপন, ছবি: সংগৃহীত

সার্জিও আগুয়েরোর জোড়া গোলে এফসি বোর্নমাউথকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি।

ভিটালিটি স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১৫তম মিনিটেই আগুয়েরোর গোলে এগিয়ে যায় কোচ পেপ গার্দিওলার সিটি। ৪৩তম মিনিটে গোল ব্যবধান ২-০ তে নিয়ে যান অতিথি দলের তারকা প্লেমেকা রাহিম স্টারলিং।

প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে (৪৫+৩ মিনিটে) বোর্নমাউথের হয়ে একটি গোল শোধ করেন হ্যারি উইলসন।

বোর্নমাউথের মাঠে ৬৪তম মিনিটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন আর্জেন্টাইন তারকা স্ট্রাইকার আগুয়েরো।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র