Alexa

আগের ম্যাচের সেরা ব্যাটসম্যান, সেরা বোলারই নেই ফাইনালে!

আগের ম্যাচের সেরা ব্যাটসম্যান, সেরা বোলারই নেই ফাইনালে!

দলে নেই আবু জায়েদ ও লিটন দাস

ফাইনালের আগে খেলা বাংলাদেশের শেষ ম্যাচের স্কোরকার্ডে একবার চোখ বুলিয়ে নিন।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ সেই ম্যাচ জিতে ৬ উইকেটে। দলের ২৯৪ রানের স্কোরে সবচেয়ে বেশি রান লিটন দাসের। সবচেয়ে বেশি বাউন্ডারিও তার, ৯টি। সেই ম্যাচে দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৬৭টি বলও খেলেন লিটন। তামিম ইকবালের সঙ্গে ব্যাটিং ওপেন করতে নেমেছিলেন। ৯ বাউন্ডারি ১ ছক্কায় ৬৭ রানে ৭৬ রান। পিঠ চাপড়ে দেয়ার মতোই পারফরমেন্স।

অথচ সেই লিটন দাস পরের ম্যাচের একাদশ থেকে বাদ!

এতো গেলো ব্যাটিংয়ের কথা। এবার গেলো ম্যাচের বোলিং পারফরমেন্সের দিকে এক নজর।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেই পেসার আবু জায়েদ রাহী চমক দেখান। ৯ ওভারে ৫৮ রান খরচায় তার শিকার ৫ উইকেট। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই পাঁচ উইকেট! চার বছর পর ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো বোলার এক ম্যাচে পাঁচ উইকেট পেলেন। দুর্দান্ত পারফরমেন্স দেখানো আবু জায়েদ রাহী হলেন ম্যান অব দ্যা ম্যাচ।

পরের ম্যাচেই সেই ম্যান অব দ্যা ম্যাচ একাদশ থেকে বাদ!

তাহলে হিসেব কি দাড়ালো? যে দুই জন আগের ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে সেরা ব্যাটসম্যান হলেন সেই তিনি পরের ম্যাচেই বাদ। ঠিক একইভাবে আগের ম্যাচের সেরা বোলারও পরের ম্যাচেই বাদ!

সাধারণের হিসেবে এই সিদ্ধান্তে তো রাগ, বিস্ময় বা অবাক হওয়ার কথা। কিন্তু ফাইনালে এভাবে আগের ম্যাচের সেরা পারফর্মার লিটন দাস ও আবু জায়েদ রাহী বাদ পড়ার মধ্যে দোষারোপের কিছু নেই।

ক্রিকেটে এমনকিছু সময় আসে যখন অতীতের পারফরমেন্স দিয়ে নয়, বর্তমানের বাস্তবতা মেনে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। লিটন ও রাহীর ফাইনালে না খেলাটা সেই সংজ্ঞায় পড়ছে। এই বাদ পড়ায় কারো রাগ করার কিছু নেই। আবেগ ম্যাচ জেতায় না। দলীয় শক্তির সঠিক সমীকরণ ম্যাচ জেতায়।

ক্রিকেটে একাদশ গড়তে শুধু পারফরমেন্স নয়, কম্বিনেশন বলে একটা কথা আছে। সেটা ঠিক রাখতে না পারলে একাদশ এলোমেলো হয়ে পড়ে। সাকিব আল হাসান ফাইনালে না থাকায় একাদশের কম্বিনেশন সাজানো এমনিতেই দলের জন্য কঠিন হয়ে দাড়ায়। ফাইনালে সাকিবের ব্যাটিংয়ের সঙ্গে তার ১০ ওভার তাহলে কে সামাল দেবে- সেই চিন্তায় দলের শক্তির ভারসাম্য ঠিক রাখতে মোসাদ্দেকের স্পিনকে ‘সাকিবের স্পিন’ বলে মেনে নেয়া হলো। সেই সূত্রেই মোসাদ্দেক চলে এলেন ফাইনালের একাদশে। মোসাদ্দেকের জায়গায় যদি লিটন দাসকে খেলানো হতে তাহলে ফাইনালে ৫০ ওভারের বোলিং কোটা পুরুন করতে গিয়ে বড় বিপদে পড়তো বাংলাদেশ। নিশ্চিত থাকুন এই ফাইনালে সাকিব যদি খেলতেন তাহলে লিটন দাসও অবশ্যই একাদশে সুযোগ পেতেন। তখন মোসাদ্দেকই হতেন ফাইনালের দ্বাদশ ব্যক্তি!

সহজ আরেকটি হিসেব আছে। আগের ম্যাচে লিটন দাস খেলেছিলেন সৌম্য সরকারের জায়গায়। যে সৌম্য সরকার টুর্নামেন্টে দারুণ ফর্মে আছেন ব্যাট হাতে। দুটি ম্যাচ খেলেছেন দুটিতেই হাফসেঞ্চুরি। তাই সৌম্য দলে ফেরায় লিটনকে জায়গা ছাড়তেই হয়েছে।

আবু জায়েদ রাহীর ক্ষেত্রেও হিসেবটা অমনই। মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় তিনি আগের ম্যাচের একাদশে ছিলেন। মুস্তাফিজ একাদশে ফেরায় ফাইনালের ডাগআউটে আবু জায়েদ রাহী।

পারফরমেন্স। একাদশ। বাদ পড়া। দলে ফেরা-কি সব হিসেব মিললো তো এখন?

আপনার মতামত লিখুন :