Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

‘মাছ না ধরলে খামু কী, চুলার মাডি?’

‘মাছ না ধরলে খামু কী, চুলার মাডি?’
সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা/ ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
পটুয়াখালী


  • Font increase
  • Font Decrease

‘আমরা তো আর কোনো কাম কাইজ জানি না। এই মাছ ধরাই হিখছি (শিখেছি)। মাছ ধইরা যে দুইডা টাহা পাই হেইয়া দিয়া গুরাগারা লইয়া কোনো রহম বাইচ্চা আছি। মোগো এমন কোন ক্যাশ কেবিটাল (ক্যাপিটাল) নাই যে হেইয়া ভাইঙ্গা ভাইঙ্গা খামু। ৬৫ দিন মাছ না ধড়লে খামু কী, চুলার মাডি?’

এভাবেই নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর মৎস্য বন্দরের পঞ্চাশোর্ধ্ব জেলে সোবাহান ফকির। আগামী ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মোট ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে সব ধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। দেশের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সুরক্ষায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ইতোমধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

নিষিদ্ধকালে জেলে পরিবারগুলো কিভাবে চলবে, সে বিষয়ে পটুয়াখালীতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে এ কর্মসূচির সফলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে জেলেদের প্রণোদনার বিষয়টি সরকারের সদয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

পটুয়াখালী জেলায় প্রায় ৭০ হাজার জেলে সরাসরি মাছ ধরা পেশার সাথে জড়িত। এর বাইরেও মৎস্য শিল্পের সাথে কয়েক লাখ মানুষ কাজ করছেন। সাগরে যে ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে, এই সময়ে জেলে পরিবারগুলোর সংসার কিভাবে চলবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/17/1558101460434.jpg

যেহেতু অধিকাংশ জেলের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই, সেই কারণে অনেকেই হয়তো পেটের তাগিদে আইন অমান্য করে সাগরে মাছ শিকারে যেতে পারেন। এ কারণে এই কর্মসূচির সফলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

অপরদিকে নিষিদ্ধ সময়ে ভারত ও মিয়ানমারের জেলেরা বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানায় মাছ শিকার করবে বলে অভিযোগ কুয়াকাটার আলিপুর,মহিপুর মৎস্য বন্দরের জেলেদের। তারা বলছেন, বিগত বছরগুলোতে ইলিশের প্রজনন মওসুমেও পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেরা বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানায় ঢুকে অবাধে মাছ শিকার করেছে।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোঃ মতিউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘সমুদ্র উপকূলে নৌ বাহিনী ও কোস্টগার্ডের পর্যাপ্ত নজরদারি নিশ্চিত করার বিষয়ে ইতোমধ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই বিদেশি ট্রলার যাতে মাছ শিকার করতে না পারে সে জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলেদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় কিভাবে তাদের সহযোগিতা প্রদান করা যায় সে বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে।’

আপনার মতামত লিখুন :

হেলে পড়া বিদ্যুতের খুঁটি বাঁশ দিয়ে রক্ষার চেষ্টা!

হেলে পড়া বিদ্যুতের খুঁটি বাঁশ দিয়ে রক্ষার চেষ্টা!
হেলে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বাঁশের ঠেক, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ময়মনসিংহের গৌরীপুরের রামগোপালপুর ইউনিয়নের বর্ধনপাড়া গ্রামে হেলে পড়া জরাজীর্ণ লোহার বৈদ্যুতিক খুঁটির পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেক দেওয়া হয়েছে। তবে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে বাঁশের খুঁটি শুকিয়ে যাওয়ায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ- দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংস্কার কিংবা নতুন খুঁটি স্থাপনে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।

ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের শিবপুর পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের পাশ দিয়ে শিবপুর-পুম্বাইল সড়কের মাঝামাঝি স্থানে বর্ধনপাড়া বাজার। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পিডিবি কার্যালয় থেকে এখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এই বাজারের সড়ক ঘেঁষে ও ফসলি জমিতে পিডিবির উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন রয়েছে। কিন্তু সঞ্চালন লাইনের একাধিক লোহার খুঁটি মরচে পড়ে জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়ায় এগুলো হেলে পড়েছে।

এই অবস্থায় বিদ্যুৎ বিভাগ হেলে পড়া লোহার খুঁটি রক্ষায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেক দিয়েছে। এদিকে লোহার খুঁটি হেলে পড়ায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের তার নিচের দিকে ঝুলে পড়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎবিভাগ সঞ্চালন লাইন মেরামত না করে বাঁশের খুঁটি দিয়ে আশের পাশে গ্রামাঞ্চলের বাড়িঘরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সরবরাহ করেছে।

বর্ধনপাড়া গ্রামের কৃষকরা জানান, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ঝুলে পড়ার কারণে ঝুঁকি নিয়ে জমিতে চাষাবাদ করতে হয়। ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়লে কিংবা সঞ্চালন লাইন ছিড়ে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবি- দ্রুত যেনো নতুন খুঁটি স্থাপন করে ঝুঁকিপূর্ণ সঞ্চালন লাইন সংস্কার করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ বিভাগ (বিদ্যুৎ) কার্যালয়ের প্রকৌশলী প্রশান্ত ধর বলেন, 'বর্ধনপাড়া গ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি সরিয়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ লাইন সংস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।'

লাউ ফুলে লুকিয়ে রয়েছে কৃষকের স্বপ্ন

লাউ ফুলে লুকিয়ে রয়েছে কৃষকের স্বপ্ন
লাউ গাছে হলুদ রংয়ের ফুল ধরেছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

চলছে শরৎ, আসছে শীত। কুয়াশা আচ্ছন্ন এই শীত বাজারে আসবে বাহারি জাতের সবজি। এর মধ্যে পাওয়া যাবে জনপ্রিয় সবজি লাউ। শীত মৌসুমে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে ইতোমধ্যে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় লাউ চাষ করা হয়েছে। সম্প্রতি সেই লাউগাছে দেখা দিয়েছে হলুদ রংয়ের ফুল। এ ফুলেই লুকিয়ে রয়েছে কৃষকদের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন।

ধাপেরহাট এলাকার কৃষক শাহাদাত হোসেন জানান, শীতের সময় লাউ বিক্রির প্রস্তুতি নিয়ে এবার ৩০ শতক জমিতে লাউ চাষ করা হয়েছে। কিছুদিন আগে মাটির নিচে বপন করা হয়েছিল লাউ বীজ। এরপর মাটি ফেটে বের হয়েছে লাউগাছ।

চিকন-পাতলা খুঁটি বেয়ে লাউ গাছগুলো ধীরে ধীরে মাচায় (জাঙ্গলায়) উঠেছে। এসব গাছে দেখা দিয়েছে হলুদ রংয়ের ফুল। মাস খানেক পর ওই ফুল থেকেই লাউ হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি বিঘা জমিতে লাউ চাষে খরচ হয় ১০-১২ হাজার টাকা। সম্ভাব্য দাম পাওয়া গেলে প্রায় ৩৫-৪০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করা সম্ভব। শুধু লাউ নয়, এর ডগা ও পাতাগুলোও বাজারে বিক্রি করা হয়।’

আরেক কৃষক এন্তাজ আলী বলেন, ‘এখনকার বাজারে সারা বছরই লাউ পাওয়া যায়। তবে সেইসব লাউ সুস্বাদু না হওয়ায় ত্রেতা চাহিদা অনেক কম। শীতকালীন লাউ সবার কাছেই প্রিয় খাবার। এই লাউয়ের ক্রেতা চাহিদা অনেক অনেক বেশি। তাই শীত মৌসুমে লাউ চাষ করে বেশ লাভবান হওয়া যায়।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খাজানুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘শীতকালীন সবজি হিসেবে কৃষকরা ইতোমধ্যে লাউ চাষ শুরু করেছে। মাসখানেক পরই বাজারে পাওয়া যাবে লাউ। মানুষের প্রিয় সবজি লাউ। এই সবজি সহজে হজম হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ফলে এর চাহিদা অনেক বেশি।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র