Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

ফাইনালের দুঃখ ঘুচিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

ফাইনালের দুঃখ ঘুচিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
ট্রফি নিয়ে আনন্দে মেতেছে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দল- ছবি: বিসিবি
এম. এম. কায়সার
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

এতদিন ফাইনাল ছিলো বাংলাদেশের দুঃখ। লম্বা সময় ধরে রাখা সেই দুঃখ অবশেষে ভুললো বাংলাদেশ। ফাইনাল জিতলো বাংলাদেশ পাঁচ উইকেটে। হলো চ্যাম্পিয়ন। আয়ারল্যান্ডে তিনজাতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন। শেষ ১৮ বলে বাংলাদেশের জয়ের টার্গেট দাড়ায় ২৭ রান। স্পিনার অ্যালেনের করা সেই ওভারে মোসাদ্দেক হোসেন যা করার সব একাই করে দিলেন। সবমিলিয়ে সেই ওভারে বাংলাদেশ পেলে ২৫ রান। এই ২৫ রানের সবগুলোই মোসাদ্দেকের! তিন ছক্কা ও বাউন্ডারিতে মোসাদ্দেক আদায় করলেন সেই ওভারে ২৫ রান। মাত্র ২০ বলে পেলেন হাফসেঞ্চুরি। আর তাতেই বাংলাদেশ জয়ের বন্দরে।

 শেষ ১২ বলে তখন ম্যাচ জিততে বাংলাদেশের চাই মাত্র ২ রান। জয়ের শেষ বাউন্ডারিটাও পরের ওভারে এলো সিনিয়র ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে উড়ে! অন্যপ্রান্ত মোসাদ্দেক তখন বুম বুম ব্যাটসম্যান! মাত্র ২৪ বলে ৫ ছক্কা ও ২ বাউন্ডারিতে অপরাজিত ৫২ রানের আগুনে ইনিংস তার।

একেই বলে ব্যাটিং দাপট। একেই বলে ক্লিনিক্যাল ফিনিশিং!

শুরুটা হলো যাকে বলে ধামাকা, তাই! পাঁচ ওভারের পাওয়ার প্লে’তে সত্যিকার অর্থেই ‘পাওয়ার’ দেখালো বাংলাদেশ। আরেকটু সুনির্দিষ্ট করে বললে- সৌম্য সরকার! প্রথম পাঁচ ওভারেই বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে জমা কোনো ক্ষতি ছাড়াই ৫১ রান। শুরুর এই ৫১ রানের মধ্যে সৌম্যর একারই রান ৩৯! দলের রান রেট ১০ এর ওপর। মাত্র ২৭ বলে হাফসেঞ্চুরি পেলেন সৌম্য। ৮ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায়।

অন্যপ্রান্তে তখন তামিম ইকবাল বেশি খেলার সুযোগই পাচ্ছেন কই? ১৩ বলে ১৮ রান করে তামিম ফিরলে ব্যাটিংয়ে প্রমোশন পেয়ে তিনে এলেন সাব্বির রহমান। কিন্তু ভেতরে আসা বল পেছনের পায়ে খেলতে গিয়ে বিপদ বাড়ান সাব্বির। এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। বলটা লেগস্ট্যাম্প মিস করছিলো কিনা- সেই দাবি জানানোর উপায় যে নেই। এই সিরিজে ডিআরএস যে ছিলো না!

একই ওভারে তামিম ও সাব্বিরকে হারিয়ে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। তবে সেই সমস্য খুব একটা বুঝতে দিলো না সৌম্যের ব্যাট। মুশফিকের সঙ্গে জুটিতে সৌম্য রুখে দাড়ালেন। কিন্তু শুরুতে যে গতিতে রান তুলছিলেন তাতে কিছুটা রাশ টানলেন। হাফসেঞ্চুরির পর খেলা ১৪ বলে সৌম্যর রান মাত্র ১৬! শুরুর ঝড়ের সঙ্গে মাঝের এই গুটিয়ে যাওয়াটা ঠিক মানিয়ে উঠতে পারলেন না সৌম্য। রানরেট বাড়ানোর তাগিয়ে ভুল বলকে শট খেলার জন্য বেছে নিলেন। ৩ ছক্কা ৯ বাউন্ডারিতে ৪১ বলের তার ইনিংসটা শেষ হলো ৬৬ রানে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/18/1558121720719.jpg

 সৌম্য ফেরার পর মুশফিকের ব্যাট সাহস ছড়াচ্ছিলো। স্বপ্ন দেখাচ্ছিলো। কিন্তু আম্পায়ার রিচার্ড ক্যাটেলব্রো তাকে যে বলে এলবিডব্লিউ দিলেন তা দেখে মুশফিকের আফসোস করারই কথা। বলটা যে লেগস্ট্যাম্প মিস করছিলো নিশ্চিতভাবেই!

শেষ ৫৪ বলে জিততে চাই ৬৮ রান। হাতে জমা ৬ উইকেট। খুব কি কঠিন কোনো কাজ? কিন্তু সহজ বল জটিল ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে মোহাম্মদ মিঠুন ১৭ রানে আউট হয়ে দলের বিপদ যে বাড়িয়ে দিলেন। সোজা আসা বলে হঠাৎ তার মনে হলো রিভার্স সুইপ খেলি। বলের লাইন মিস করলেন। পরিস্কার এলবি।

 শেষের ব্যাটিংয়ের ভরসা হয়ে দাড়িয়ে তখন শুধু মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এই দুজনে শেষে যে ব্যাটিং করলেন সেটা বাংলাদেশ ক্রিকেটে অনেক দিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মাত্র ৪৩ বলে এই দুজনের জুটি এলো ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ৭০ রান।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা হয় দুর্দান্ত। ওপেনিং জুটিতেই তারা ২০.১ ওভারে ১৩১ রান তোলার পর বৃষ্টি নামে। বৃষ্টির সেই তোড়ে ম্যাচের প্রায় পাঁচ ঘন্টা সময় নষ্ট হয়। উভয় দলের জন্য ম্যাচের ওভার কমিয়ে আনা হয় ২৪ ওভারে। নির্ধারিত সেই ২৪ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ উইকেট তোলে ১৫১ রান। কিন্তু বৃষ্টি আইনের গিট্টুতে পড়া বাংলাদেশের জন্য ২৪ ওভারে ম্যাচ জয়ের টার্গেট দাড়ায় ২১০ রান।

যা পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ ৭ বল হাতে রেখেই। বহুজাতিক ক্রিকেটের ফাইনাল মানেই এতদিন ছিলো বাংলাদেশের জন্য হতাশা এবং কষ্টের অন্য নাম। ওয়ানডে এবং টি-টুয়েন্টি মিলিয়ে এর আগে ছয়টি ফাইনাল হেরেছিলো বাংলাদেশ। সপ্তমবারের ফাইনালে এসে কাটলো ফাইনালের গেঁরো!

জ্বি, এখন বুক ফুলিয়ে বলতেই পারেন-বাংলাদেশও ফাইনাল জেতে!

সংক্ষিপ্ত স্কোর-
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৫২/১ (২৪ ওভারে, হোপ ৭৪, আমব্রিস ৬৯*, ব্রাভো ৩*, মিরাজ ১/২২)।
বাংলাদেশ: ২১৩/৫ (২২.৫ ওভারে, তামিম ১৮, সৌম্য ৬৬, সাব্বির ০, মুশফিক ৩৬, মিঠুন ১৭, মাহমুদউল্লাহ ১৯, মোসাদ্দেক ৫২*, গ্যাব্রিয়েল ২/২৩, অ্যালেন ১/৩৭)।
ফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
সিরিজ সেরা: শাই হোপ।

আপনার মতামত লিখুন :

হায়দরাবাদে বেলিসের সহকারী হ্যাডিন

হায়দরাবাদে বেলিসের সহকারী হ্যাডিন
সহকারী কোচ হিসেবে হায়দরাবাদে নাম লেখালেন হ্যাডিন, ছবি: সংগৃহীত

সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সহকারী কোচ হিসেবে যোগ দিলেন ব্রাড হ্যাডিন। আইপিএলের আগামী আসরে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। আজ সোমবার ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তাদের অফিসিয়্যাল টুইটার পেজে খবরটা নিশ্চিত করেছে।

হায়দরাবাদে ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ এনে দেওয়া ট্রেভর বেলিসের সহকারী হিসেবে কাজ করবেন ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বিশ্বকাপ জয়ী এ ক্রিকেটার।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলের ফিল্ডিং কোচ হিসেবে কাজ করেন সাবেক এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের বিপক্ষে সাবেক টেস্ট সতীর্থ রায়ান হ্যারিসের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান এ দলের সহকারী কোচ ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এ সহ-অধিনায়ক।

৪১ বছরের হ্যাডিন ২০০১-২০১৫ সাল পর্যন্ত ৬৬ টেস্ট, ১২৬ ওয়ানডে ও ৩৪ টি-টুয়েন্টি খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সংগ্রহ করেন ৬৭৯০ রান।

টম মুডির স্থলে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দল হায়দরাবাদের প্রধান কোচ হন বেলিস। চলতি অ্যাশেজ সিরিজ শেষে ইংল্যান্ড দলের দায়িত্ব ছাড়বেন তিনি।

মাশরাফি-মাহমুদউল্লাহদের ফিটনেস নিয়ে চিন্তিত নন ফিজিও

মাশরাফি-মাহমুদউল্লাহদের ফিটনেস নিয়ে চিন্তিত নন ফিজিও
ক্যাম্পে প্রথমদিনে হাসি-খুশি মেজাজে ইমরুল, রিয়াদ, মাশরাফি ও মুশফিক -বিসিবি

ফের মুখরিত হয়ে উঠেছে হোম অব ক্রিকেট! মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। প্রথম দিনে ফিটনেস ট্রেনিংয়েই ব্যস্ত ছিলেন মাশরাফি-মুশফিকুর রহিমরা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট আর এরপরই ত্রিদেশীয় সিরিজ। দুই মিশনের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে ৩৫ সদস্যের প্রাথমিক দল।

ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়নের অধীনে সোমবার সকালেই শুরু হয়ে যায় জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। যেখানে শুরুতেই থেকেছে ফিটনেস ট্রেনিং। কন্ডিশনিং ক্যাম্পে অবশ্য নেই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। ছুটিতে আছেন তামিম। আর সাকিব রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। মাকে নিয়ে হজ করে এসেছেন তিনি। দেশে ফিরে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে ছুটে গেছেন মার্কিন মুল্লুকে। সেখান থেকে ২৪ আগস্ট ফেরার কথা তার।

তরুণ আর অভিজ্ঞদের নিয়ে গড়া ৩৫ সদস্যের প্রাথমিক দল। এরমধ্যে শ্রীলঙ্কার ইমার্জিং দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলা বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের ১০ তরুণ ডাক পেলেন ক্যাম্পে। তারা সিরিজ শেষেই যোগ দেবেন। তার আগেই অবশ্য টাইগাররা পেয়ে যাবে তাদের নতুন হেড কোচ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566215066939.jpg

সবকিছু ঠিক থাকলে ২১ আগস্ট দলের সঙ্গে যোগ দেবেন রাসেল ডোমিঙ্গো। এরইমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকান কোচের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করেছে বিসিবি। তার অধীনেই ৫ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের সঙ্গে এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে নামবে টাইগাররা।

কন্ডিশনিং ক্যাম্পে প্রথম দিনই দেখা মিলল মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। যদিও টেস্ট ও টি-টুয়েন্টি দলে নেই তিনি। তবে ফিটনেস ঠিক রাখতে আছেন দলের সঙ্গে। তার অবসর নিয়েও আছে গুঞ্জন। এরইমধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বিসিবি থেকে দুই মাস সময় চেয়েছেন ওয়ানডে অধিনায়ক।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566215082243.jpg

ক্যাম্পে সোমবার দেখা গেল মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেও। কথা উঠল তাদের ফিটনেস নিয়েও। যদিও ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়ন এসব নিয়ে ভাবছেন না। প্রথম দিনের ক্যাম্প শেষে এই লঙ্কান বলছিলেন, ‘দেখুন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কোনো ওয়ানডে নেই। তাই মাশরাফির ফিটনেস নিয়ে আমরা খুব একটা উদ্বিগ্ন কিংবা চিন্তিত নই। হাতে ঢের সময় আছে। তাকে তার মতো করে ট্রেনিং করতে দেয়া উচিত।’

চোট ছিল জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দীনের। তাদের নিয়ে ভিল্লাভারায়ন জানালেন, ‘দু'জনই এখন অনেকটাই সুস্থ। ফিটনেস লেভেল ভালো। অবশ্য ওদের নিয়ে আরও একটু কাজ করার দরকার আছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566215094439.jpg

মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ইনডোরে সোমবার প্রথম দিন ‘ব্লিপ টেস্ট’ ও ফিটনেস ট্রেনিং করেন ক্রিকেটাররা। এভাবেই এই ক্যাম্প চলবে টানা চারদিন। যদিও এই অল্প সময় নিয়ে আপত্তি আছে ট্রেনারের।

ভিল্লাভারায়ন বলেন, ‘দেখুন, এই চারদিন মোটেও কন্ডিশনিং ক্যাম্পের জন্য যথেষ্ট নয়। কমপক্ষে চার সপ্তাহ বা ন্যূনতম ১৫ দিন হলে ভালো হতো। সামনে যেহেতু টেস্ট চারদিনেই এটা শেষ করতে হবে।’

কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ক্রিকেটাররা-
ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, সাদমান ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ মিথুন, মোসাদ্দেক হোসেন, সাব্বির রহমান, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন চৌধুরী, শফিউল ইসলাম, ফরহাদ রেজা, আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি, আবু হায়দার রনি, তাইজুল ইসলাম, মেহেদি হাসান মিরাজ, আরিফুল হক, ইয়াসির আলী চৌধুরী, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাইফ হাসান, নাইম শেখ, নাইম হাসান,শহিদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, ইয়াসিন আরাফাত মিশু, মেহেদি হাসান ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লব।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র