Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

কুষ্টিয়ায় সেমাই তৈরিতে ব্যস্ত শ্রমিকরা

কুষ্টিয়ায় সেমাই তৈরিতে ব্যস্ত শ্রমিকরা
কুষ্টিয়ার বিখ্যাত সাদা সেমাই, ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
কুষ্টিয়া


  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের মত মহোৎসবে সেমাইয়ের যেন বিকল্প নেই। দেশের বিভিন্ন স্থানে সেমাই তৈরি হলেও কুষ্টিয়া এর জন্য সুখ্যাত। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে তাই মহাব্যস্ত স্থানীয় সেমাই কারখানাগুলোর শ্রমিকরা।

কুষ্টিয়ার বিভিন্ন সেমাই কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, ময়দা মাখানো, মেশিনের মাধ্যমে মিশ্রণ তৈরি করা, অতঃপর সেমাই তৈরি করে রোদে শুকানোর কাজে ব্যস্ত শ্রমিকরা। ঈদ যতই কাছে আসছে, তাদের ব্যস্ততা যেন ততই বাড়ছে। সময়মত সেমাই সরবরাহ করতে হবে তাদের।

কুষ্টিয়ার সাদা সেমাইয়ের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়। রমজান মাস যত শেষ হয়ে যাচ্ছে ততই এই সেমাই বিক্রির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। সেমাই বেচাকেনা নিয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরাও আড়তে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

কুষ্টিয়ার সেমাই

কুষ্টিয়ার বিখ্যাত সাদা সেমাই ঈদ উপলক্ষে বিপুল পরিমাণে উৎপাদিত হচ্ছে। দম ফেলানোর যেন ফুরসত নেই শ্রমিকদের। উন্নতমানের সেমাই তৈরির চ্যালেঞ্জ রয়েছে তাদের। তবে মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাতের কারণে সেমাই তৈরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তবে, অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে সেমাই তৈরির অভিযোগ আছে অনেক কারখানার বিরুদ্ধে। এমনকি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদন না থাকারও অভিযোগ পাওয়া গেছে অনেকগুলো কারখানার বিরুদ্ধে।

জেলাটিতে ১৭টি সেমাই কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার না করেই স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সেমাই তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

কুষ্টিয়ার সেমাই

তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শহরের অলিগলিতে অস্থায়ী কারখানায় দিনরাত চলছে সেমাই তৈরির কাজ। বেশি মুনাফার আশায় নোংরা ও অপরিষ্কার কারখানায় কারিগররাও অপরিচ্ছন্নভাবে কাজ করছেন। তাছাড়া খোলা স্থানে শুকানো হচ্ছে সেমাই। যেখানে কাক বা অন্য পাখির অবাধ বিচরণ রয়েছে।

কুষ্টিয়া খাদ্য শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ বিল্লাল হোসেন বলেন, জেলার চাহিদা মিটিয়ে এখানকার সেমাই আশপাশের জেলাগুলোতেও সরবরাহ করা হয়ে থাকে। প্রতিদিন দুই থেকে তিনশ’ মণ সেমাই উৎপাদন করা হচ্ছে। এখন আবহাওয়া ভালো থাকলেও মাঝে মাঝে বৃষ্টির কারণে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে।

তিনি জানান, ১০ কেজি সেমাই একেকটি বস্তায় ভরা হয়। প্রতি বস্তার পাইকারি দাম ৩৩০ টাকা।

আপনার মতামত লিখুন :

যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার ২ আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার ২ আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত
প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার দুই আসামি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুইটি এলজি ও ৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (২৪ আগস্ট) ভোর রাতে টেকনাফের জাদিমোরা পাহাড়ে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন জাদিমোরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সব্বির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ শাহ ও একই ক্যাম্পের আব্দুল আজিজের ছেলে মোহাম্মদ শুক্কুর। তারা দীর্ঘদিন ধরে ঐ ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালনা করে আসছিল। সবশেষ বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাতে যুবলীগ নেতা হত্যার আসামি তারা।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামিদের ধরতে অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের অবস্থান টের পেয়ে গুলি চালায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে এসব অস্ত্র ও দুইজনের মৃতদেহ পাওয়া যায়।

নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি প্রদীপ কুমার।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাত পৌনে ১১টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে টেকনাফের জাদিমোরা ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুককে গুলি করে হত্যা করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।

শীতের আগে কাজে ফিরতে চান রাখাইন পল্লীর তাঁতিরা

শীতের আগে কাজে ফিরতে চান রাখাইন পল্লীর তাঁতিরা
তালতলীর রাখাইন পল্লীতে কাপড় বুনছেন এক তাঁত শিল্পী/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বরগুনা জেলার দক্ষিণে সর্বশেষ উপজেলা তালতলী। ১৭০০ সালের শেষের দিকে মিয়ানমারের আরাকানের মেঘাবতীর সান্ধ্যে জিলার ছেং ডোয়ে, রেমেত্রে, মেং অং অঞ্চল ত্যাগ করে রাখাইনরা এখানে বসবাস শুরু করেন।

তারপর থেকে জীবিকা নির্বাহের জন্য রাখাইন নারীরা তাঁতের কাপড় বোনা শুরু করেন। সেই থেকে কয়েক বছর আগেও তালতলীতে রাখাইনদের তাঁত শিল্ল ছিল জমজমাট। কিন্তু রাখাইন পল্লীতে তাঁত শিল্পের সেই সূবর্ণ দিন এখন আর নেই।

তাঁত বুনার যন্ত্রপাতি পড়ে আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। এই শিল্পের কারিগররা বেছে নিয়েছেন অন্য পেশা। গুটিকয়েক যারা আছেন, ভালো নেই তারা। এখন অনেকটা মানবেতর জীবন পার করছেন এই উপজেলার রাখাইন পল্লীর মানুষজন। বিলুপ্তির পথে এই তাঁত শিল্প।

শীতকালে জনপ্রিয় পোশাক এ তাঁতের কাপর। তাই আগামী শীত মৌসুমের আগে তাঁত শিল্পতে ফিরতে চাচ্ছেন রাখাইন পল্লীর তাঁতিরা, চাচ্ছেন সরকারি সহযোগিতা। উপজেলা প্রশাসনও বলছে, তাদের নতুন করে প্রশিক্ষণ ও ঋণ দিয়ে তাঁত শিল্পে ফিরিয়ে আনা হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566618833416.gif

জানা যায়, রাখাইন পল্লীতে এক সময় দিন রাত সমান তালে তাঁতের ঠক ঠক আওয়াজ শোনা যেত। তাঁতিদের কর্মব্যস্ততায় সরগরম ছিল রাখাইন পাড়া। উপজেলার রাখাইন মার্কেটে ছিল তাঁতের শাড়ি-কাপড় ক্রয় করার ধুম।

আর এখনে সেই মাকের্টে নেই বেচা-কেনার জট, নেই রাখাইন পল্লীতে কর্মব্যস্ততা। একদিকে যেমন সুতার সংকট, অন্যদিকে সুতার মাত্রাতিরিক্ত দাম, পাচ্ছেন না সরকারি কোনো সহায়তা, পণ্য বিক্রির পরিবেশ না থাকাসহ নানা সমস্যায় স্থবির হয়ে আছে রাখাইনদের তাঁত শিল্প।

এদিকে দুয়েকটি পাড়ায় তাঁত শিল্প দেখা গেলেও শুধু নিজেদের প্রয়োজনে কাপড় বুনছেন তারা। বাজারজাত করতে হলে সরকারি সহযোগিতা চান সাধারণ এ তাঁত শিল্পীরা।

রাখাইন তাঁত শিল্পী লাচা নো বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘সুতার দাম বেমি থাকায় এখন আর কাপড় বোনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমাদের জীবন যাপন কষ্টে কাটতেছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566618864981.gif

মনুকে পাড়ার চিং খে উই রাখানই বলেন, ‘এখন নিজেদের প্রয়োজনে দুয়েকটি কাপড় বোনা হয়। আগে কাপড় বুনে শেষ করতে পারতাম না।’

কবিরাজ পাড়ার তাঁতি খেনাচিং বলেন, ‘সুতার দাম বেশি ও কাপড় বিক্রির সুযোগ না থাকায় হারিয়ে যেতে বসেছে আমাদের প্রিয় শিল্প। আর তরুণরা ঝুঁকছে অন্য পেশায়।’

তালতলী উপজেলা তাঁতি সমিতির সভাপতি মংচিন থান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম.কে বলেন, ‘এক সময় রাখাইনদের ঐতিহ্য তাঁত শিল্প এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। সুতার দাম বেশি ও বিক্রির ব্যবস্থা না থাকায় রাখাইন পল্লির মানুষগুলো অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছেন। এ ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে দরকার সরকারি সহযোগিতা।’

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নিবার্হী অফিসার দীপায়ণ দাস শুভ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘তাঁত শিল্পিদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যাল থেকে রাখাইনের তাঁত শিল্পিদের জন্য মার্কেট বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র