Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘বাজেট জানলে আমগর কী লাভ?’

‘বাজেট জানলে আমগর কী লাভ?’
বাজেটের চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে, ময়মনসিংহের একটি রেস্তোরাঁ থেকে তোলা/ ছবি: বার্তা২৪.কম
উবায়দুল হক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ময়মনসিংহ


  • Font increase
  • Font Decrease

বাজেট নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে চারদিকে। চায়ের দোকানি থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের মানুষ কিংবা রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী সবার মাঝেই রয়েছে বাজেট ভাবনা। বাজেট কেমন হয়েছে, কোন জিনিসের দাম বেড়েছে, কোন জিনিসের দাম কমেছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন নাভিশ্বাস হয়ে উঠবে কিনা- কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে এসব আলোচনা।

সরকারি দলের নেতারা বাজেটকে গণমুখী ও উন্নয়নের বাজেট হিসেবে আখ্যা দিলেও তরুণরা মনে করছেন, ‘স্মার্ট’ হিসেবে জাহির করা এ বাজেটে নতুনত্ব নেই খুব একটা। তবে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের চেয়ে আ হ ম মুস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামাল গ্রহণযোগ্য একটি বাজেট উপস্থাপন করেছেন।

তরুণদের মতে, সবচেয়ে ভালো দিক এ বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে না। মুহিত প্রতিবার যেখানে ভুল করতেন সেখানেই সংশোধন করেছেন লোটাস কামাল। তবে নির্জীব বিরোধীদল কোনো ছায়া বাজেট প্রস্তাব না করায় সমালোচনাও করেছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাতে ময়মনসিংহ নগরীর সি. কে. ঘোষ রোডস্থ সারিন্দা রেস্টুরেন্টে বসে বাজেট আলোচনা নিয়ে মুখর ছিলেন একদল তরুণ-যুবা। তাদেরই একজন জাহাঙ্গীনর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী এহসানুল হক। বাজেট কেমন হয়েছে, জানতে চাইলেই সোজাসাপ্টা উত্তর দিলেন এ তরুণ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/14/1560504432076.jpg

এহসান বলেন, ‘গতানুগতিক বাজেট হয়েছে। নতুনত্ব নেই খুব একটা। তবে মুহিত সাহেবের চেয়ে কামাল সাহেবের বাজেট গ্রহণযোগ্যতা পাবে। দেশে উন্নয়নের জোয়ার না ঘটলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের উন্নয়ন ঘটবে। কারণ, এ বাজেটে সাধারণ মানুষের স্বার্থ পুরোপুরি না হলেও বেশ রক্ষা করা হয়েছে।’

যদিও বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা আদৌ পুরোপুরি অর্জিত হবে কি-না এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

এহসানুল হকের কথার সঙ্গে বিপরীত মত প্রকাশ করে স্থানীয় একটি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক মিয়াদাদ হক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এ বাজেট গরিববান্ধব বলে মনে করি না। সবকিছুতেই করের পাল্লা ভারী করা হয়েছে। তবে একটি দিক ভালো, যেসব জিনিস আমাদের সব সময় লাগে, সেসব জিনিসের দাম বাড়েনি।’

অবশ্য চিনি আমদানির উপর কর বাড়ানোকে যৌক্তিক উল্লেখ করে এ শিক্ষক বলেন, ‘অতীতে দেশের কৃষকরা আখ চাষ করে লোকসান গুণেছেন। এবার চিনি আমদানির উপর কর বাড়ানোর ফলে কৃষক উপকৃত হবে। সাবেক অর্থমন্ত্রীর চেয়ে বর্তমান অর্থমন্ত্রী এ জায়গাতে নিজের বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।’

বাজেট নিয়ে আলোচনার সময়েই রুটি-নানের অর্ডার নিচ্ছিলেন রেস্টুরেন্টটির এক ওয়েটার। কাজ থামিয়ে ‘হা’ করে শুনছিলেন তাদের কথা। দৃষ্টি দিতেই হেসে উঠে এ ওয়েটার বললেন, ‘আমরা বাজেট বুঝি না। কোন রকম খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে চাই। আমরা চাই বাজেটে সাধারণ মানুষের কাজের সুযোগ সুবিধা বাড়বে। গরিবকে মূল্যায়ন করা হবে।’

রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে রিকশায় চড়ে নগরীর গাঙ্গিনারপাড় মোড় থেকে সানকিপাড়ায় যাওয়ার পথে কথা হয় রিকশাচালক হাসমত মিয়ার সঙ্গে। ব্রক্ষপুত্র নদের ওপারের এ বাসিন্দার বাজেট নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই। এমনকি বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) যে ঘটা করে সংসদে বাজেট পেশ হয়েছে এ সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল নন এ শ্রমজীবী।

তিনি বলেন, ‘সরকারের বাজেট জানি না। আমি জানি আমার সংসারের প্রতিদিনের বাজেট চাল-ডাল, তেল-নুন। এজন্য আমার দরকার প্রতিদিন ৪০০ টাকা। মালিককে আমদানি দেওয়া শেষে এ টাকা উঠলেই আমার কোনো চিন্তা নেই। সরকারের বাজেট নিয়া কথা কইলে বা জানলে আমগর আর কী লাভ অইবো?’

আপনার মতামত লিখুন :

বিপজ্জনক রোহিঙ্গা যুবকেরা!

বিপজ্জনক রোহিঙ্গা যুবকেরা!
রোহিঙ্গা সমাবেশ

দুই বছর আগে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখো রোহিঙ্গা। কক্সবাজার জেলার তিন উপজেলায় আশ্রয় নেওয়া এই রোহিঙ্গারা এখন দেশের জন্য বিপজ্জনক। বিশেষ করে রোহিঙ্গা যুবকরা। কোনোভাবেই যেন তাদের লাগাম টেনে ধরে রাখতে পারছে না দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।  

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো যেন অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। ইয়াবা ব্যবসা, মানব পাচার, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, খুন, গুম, ধর্ষণসহ নানা অপরাধের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত এই রোহিঙ্গা যুবকরা।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার মোহাম্মদ ওমর ফারুক (৩০) নামের স্থানীয় যুবলীগের এক নেতা খুন হন। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, এই খুনের সঙ্গে রোহিঙ্গা দুই যুবক সরাসরি জড়িত।

এছাড়াও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ পর্যন্ত ৩৮ জন খুন হয়েছেন।

অন্যদিকে বিভিন্ন উপায়ে ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছে রোহিঙ্গারা। তাদের কেউ কেউ আবার সাগর পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

অনেকে আবার বিভিন্ন গ্রামে ঢুকে বাংলাদেশিদের সঙ্গে মিশে গিয়ে কৌশলে পাসপোর্ট তৈরি করে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

সূত্র বলছে, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টাকালে বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশের পৃথক ২৭টি অভিযানে গত দুই মাসে প্রায় ৭০০ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে। 

তবে শুধু সাগর পথে না, বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বৈধভাবে বিদেশ পাড়ি দেওয়ারও চেষ্টা করছে তারা। গত ১০ মে রাজধানীর খিলক্ষেত থেকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে পালানোর সময় ২৩ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে র‌্যাব। তবে সবচেয়ে বেশি এমন ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজার জেলা পাসপোর্ট অফিসে।

কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আবু নাঈম নাসিম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, পাসপোর্টের জন্য রোহিঙ্গাদের করা প্রায় ৪০০ টি আবেদন আমরা জব্দ করেছি।

অন্যদিকে রোহিঙ্গা যুবকদের টার্গেট করছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলো। ভয় ডরহীন এই যুবকদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করছে জামা‘আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), আনসার আল ইসলাম বা আনসারুল্লা বাংলা টিম মতো জঙ্গি সংগঠনগুলো। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা একাধিক আইনশৃঙ্খলার বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার সূত্রে এই সব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

একই কথা বলেছেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) এক কর্মকর্তা। তিনি বার্তা টোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, রোহিঙ্গা যুবকদের মধ্য যারা তুলনামূলক শিক্ষিত ও ধর্মীয় জ্ঞানসম্পন্ন তাদের টার্গেট করছে জেএমবির সদস্যরা। 

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ অবশ্য বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, টেকনাফের চারটি ও উখিয়ার ২৪টি ক্যাম্পকে আট ভাগ করে প্রতিটি অঞ্চলের জন্য একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে আট সদস্যের পুলিশ টিম কাজ করছে। রোহিঙ্গা যুবকরা বেপরোয়া হতে চাইলে বা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে হাত মেলাতে চাইলে আমরা সে সুযোগ দিবো না। তবে  জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা নিয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই।

রোহিঙ্গাদের বিপজ্জনক হয়ে উঠার বিষয়ে পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, রোহিঙ্গারা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। কক্সবাজার জেলার বাইরে শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার জন্য প্রায় এক হাজার ১০০ পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সঙ্গে রয়েছে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তারপরও রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না।

কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্যকে সংশোধনাগারে প্রেরণ

কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্যকে সংশোধনাগারে প্রেরণ
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর রায়েরবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘স্টার বন্ড’ নামের এক কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্যকে এক বছর করে কারাদণ্ড দিয়ে সংশোধনাগারে প্রেরণ করেছেন র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (২৪ আগস্ট) রাতে অভিযান পরিচালনা করে তাদের কারাদণ্ড দেন র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।

এদিকে র‍্যাব জানায়, গতকাল সন্ধ্যায় র‍্যাব-২ এর কাছে তথ্য আসে, একদল কিশোর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য রায়েরবাজার এলাকায় জড়ো হয়েছে। এ সময় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্যকে আটক করে র‍্যাব।

তাদের কাছে মাদক পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাদক ও ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই কিশোরদের দোষী সাব্যস্ত করেন। প্রত্যেককে এক বছর করে কারাদণ্ড দিয়ে সংশোধনাগারে পাঠান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র