Alexa

‘বাজেট জানলে আমগর কী লাভ?’

‘বাজেট জানলে আমগর কী লাভ?’

বাজেটের চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে, ময়মনসিংহের একটি রেস্তোরাঁ থেকে তোলা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

বাজেট নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে চারদিকে। চায়ের দোকানি থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের মানুষ কিংবা রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী সবার মাঝেই রয়েছে বাজেট ভাবনা। বাজেট কেমন হয়েছে, কোন জিনিসের দাম বেড়েছে, কোন জিনিসের দাম কমেছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন নাভিশ্বাস হয়ে উঠবে কিনা- কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে এসব আলোচনা।

সরকারি দলের নেতারা বাজেটকে গণমুখী ও উন্নয়নের বাজেট হিসেবে আখ্যা দিলেও তরুণরা মনে করছেন, ‘স্মার্ট’ হিসেবে জাহির করা এ বাজেটে নতুনত্ব নেই খুব একটা। তবে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের চেয়ে আ হ ম মুস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামাল গ্রহণযোগ্য একটি বাজেট উপস্থাপন করেছেন।

তরুণদের মতে, সবচেয়ে ভালো দিক এ বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে না। মুহিত প্রতিবার যেখানে ভুল করতেন সেখানেই সংশোধন করেছেন লোটাস কামাল। তবে নির্জীব বিরোধীদল কোনো ছায়া বাজেট প্রস্তাব না করায় সমালোচনাও করেছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাতে ময়মনসিংহ নগরীর সি. কে. ঘোষ রোডস্থ সারিন্দা রেস্টুরেন্টে বসে বাজেট আলোচনা নিয়ে মুখর ছিলেন একদল তরুণ-যুবা। তাদেরই একজন জাহাঙ্গীনর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী এহসানুল হক। বাজেট কেমন হয়েছে, জানতে চাইলেই সোজাসাপ্টা উত্তর দিলেন এ তরুণ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/14/1560504432076.jpg

এহসান বলেন, ‘গতানুগতিক বাজেট হয়েছে। নতুনত্ব নেই খুব একটা। তবে মুহিত সাহেবের চেয়ে কামাল সাহেবের বাজেট গ্রহণযোগ্যতা পাবে। দেশে উন্নয়নের জোয়ার না ঘটলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের উন্নয়ন ঘটবে। কারণ, এ বাজেটে সাধারণ মানুষের স্বার্থ পুরোপুরি না হলেও বেশ রক্ষা করা হয়েছে।’

যদিও বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা আদৌ পুরোপুরি অর্জিত হবে কি-না এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

এহসানুল হকের কথার সঙ্গে বিপরীত মত প্রকাশ করে স্থানীয় একটি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক মিয়াদাদ হক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এ বাজেট গরিববান্ধব বলে মনে করি না। সবকিছুতেই করের পাল্লা ভারী করা হয়েছে। তবে একটি দিক ভালো, যেসব জিনিস আমাদের সব সময় লাগে, সেসব জিনিসের দাম বাড়েনি।’

অবশ্য চিনি আমদানির উপর কর বাড়ানোকে যৌক্তিক উল্লেখ করে এ শিক্ষক বলেন, ‘অতীতে দেশের কৃষকরা আখ চাষ করে লোকসান গুণেছেন। এবার চিনি আমদানির উপর কর বাড়ানোর ফলে কৃষক উপকৃত হবে। সাবেক অর্থমন্ত্রীর চেয়ে বর্তমান অর্থমন্ত্রী এ জায়গাতে নিজের বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।’

বাজেট নিয়ে আলোচনার সময়েই রুটি-নানের অর্ডার নিচ্ছিলেন রেস্টুরেন্টটির এক ওয়েটার। কাজ থামিয়ে ‘হা’ করে শুনছিলেন তাদের কথা। দৃষ্টি দিতেই হেসে উঠে এ ওয়েটার বললেন, ‘আমরা বাজেট বুঝি না। কোন রকম খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে চাই। আমরা চাই বাজেটে সাধারণ মানুষের কাজের সুযোগ সুবিধা বাড়বে। গরিবকে মূল্যায়ন করা হবে।’

রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে রিকশায় চড়ে নগরীর গাঙ্গিনারপাড় মোড় থেকে সানকিপাড়ায় যাওয়ার পথে কথা হয় রিকশাচালক হাসমত মিয়ার সঙ্গে। ব্রক্ষপুত্র নদের ওপারের এ বাসিন্দার বাজেট নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই। এমনকি বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) যে ঘটা করে সংসদে বাজেট পেশ হয়েছে এ সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল নন এ শ্রমজীবী।

তিনি বলেন, ‘সরকারের বাজেট জানি না। আমি জানি আমার সংসারের প্রতিদিনের বাজেট চাল-ডাল, তেল-নুন। এজন্য আমার দরকার প্রতিদিন ৪০০ টাকা। মালিককে আমদানি দেওয়া শেষে এ টাকা উঠলেই আমার কোনো চিন্তা নেই। সরকারের বাজেট নিয়া কথা কইলে বা জানলে আমগর আর কী লাভ অইবো?’

আপনার মতামত লিখুন :