Alexa

অপেক্ষায় তামিম, আশায় বাংলাদেশ!

অপেক্ষায় তামিম, আশায় বাংলাদেশ!

ব্যর্থতা কাটিয়ে রানে ফিরতে চাইছেন তামিম ইকবাল

প্রথম ম্যাচে ২৯ বলে ১৬। পরের ম্যাচে ৩৮ বলে ২৪। তৃতীয় ম্যাচে ২৯ বলে ১৫ রান। সবমিলিয়ে তিন ম্যাচে বাউন্ডারি মাত্র ৬টি।

ব্যাটসম্যানের নাম যখন তামিম ইকবাল খান, তখন এই রান মোটেও মানানসই কিছু নয়। তামিম নিজেও ভালোই জানেন-তিনি যা করতে চাচ্ছেন, তা হচ্ছে না। দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড-চলতি বিশ্বকাপে শুরুর এই তিন ম্যাচেই তামিম ইকবাল উইকেটে গেঁথে যাওয়ার পর আউট হন।

দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড ম্যাচে তার আউটের ধরনটা প্রায় একই ধরনের। পুল শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ। নিউজিল্যান্ড ম্যাচে পেসে পরাস্ত হয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। কোনো সন্দেহ নেই বাংলাদেশের ১৫ জনের বিশ্বকাপ দলের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। নতুন করে এটি প্রমাণের কোনো প্রয়োজন নেই তার। কিন্তু বিশ্বকাপ হলো এত বড়ো মঞ্চ, এখানে টানা দুটি বা তিনটি ম্যাচে কোনো পারফর্মার পারফর্ম করতে না পারলে, আশপাশ থেকে উসখুশ শব্দ শুরু হয়ে যায়!

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা বাইরের এসব ‘বাতাস’ গায়ে লাগাতে নারাজ তামিম ইকবাল এবং পুরো বাংলাদেশ দল। এই দলের সবাই জানে-সমালোচকের ‘বুদ্ধি’ ক্রিকেট ম্যাচ জেতায় না, বা কোনো খেলোয়াড়কে ফর্মে ফেরায় না। কাজটা তাকে নিজেই করতে হয় মাঠে। এবং প্রস্তুতিটা নিতে হয় মাঠের বাইরে।

ব্রিস্টলে ম্যাচটা হলে হয়তো সেই ম্যাচেই তামিম ইকবাল তার এই বিশ্বকাপের পেছনের তিন ম্যাচের দুঃখ ভুলতে পারতেন। শ্রীলঙ্কা ম্যাচের আগের দিনের অনুশীলন নেটে তার হোমওয়ার্ক, নিবেদন এবং পরিশ্রমের প্রতি বিন্দু ঘামেই প্রমান; নিজের সেরাটা খেলতে মরিয়া বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা এই ওপেনার। 

ব্রিস্টলের বৃষ্টিতে নষ্ট সেই সুযোগ!

টন্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দলের হাতে প্রচুর সময়। সেই সময়ের পুরোটাই শুধু ক্রিকেটে না কাটিয়ে বিশ্রামে থাকার পরিকল্পনাও নিয়েছে দল। আরো দুজন সতীর্থের সঙ্গে তামিম বিশ্রাম নিতে লন্ডনে চলে যান। মানসিকভাবে আরো স্থিরতা আনতেই সূচিতে এই খানিকটা বদল।

১৭ জুন টন্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সামনের চলা পথ নির্ধারিত হবে। সেই পথের নিদের্শনা ঠিক করে দিতে পারে তামিম ইকবালের ব্যাটই। ক্যারিয়ারের ১১ টি সেঞ্চুরির শেষ দুটিই তামিম ইকবালের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই। তালিকাটা কি আরেকটু সমৃদ্ধ হবে টন্টনের ম্যাচে?

ব্যাট হাতে নীরব সময় কাটানো তামিমের হয়ে অবশ্য সরব হয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা- ‘সবসময় তো সব খেলোয়াড়ের সমান যায় না। টুর্নামেন্টের শুরুর পর্যায়ে নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়দের কাছ থেকে খুব বেশি কিছু আশা করা বা তার ওপর চার তৈরি করা ঠিক কোনো কাজ নয়। সবাই সবার সেরাটা দেয়ারই চেষ্টা করছে। কখনো হচ্ছে। কখনো হচ্ছে না। একজন খেলোয়াড় যা চায় সেটা যদি সে একটা দুটো ম্যাচে পেয়ে যায় তবে সামনের সময়ের জন্য তার আত্মবিশ্বাস আরো অনেক বেড়ে যায়।’

-মা, আমার রানে দল জিতেছে; বিশ্বকাপের মঞ্চে এমনকিছু বলার অপেক্ষায় আছেন তামিম ইকবালও!

আপনার মতামত লিখুন :