Alexa

‘বেশি চিনি খেলে ডায়াবেটিস হয়, তাই কর বসানো হয়েছে’

‘বেশি চিনি খেলে ডায়াবেটিস হয়, তাই কর বসানো হয়েছে’

বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছবি: সংগৃহীত

বেশি চিনি খেলে ডায়াবেটিস হয়, তাই চিনির দাম বাড়াই ভালো বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রসিকতা করে তিনি বলেন, ‘সেই চিন্তা করেই চিনিতে কর (ভ্যাট) বসানো হয়েছে।’

শুক্রবার (১৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে হাসতে হাসতে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তার এ কথায় উপস্থিত সবাই হেসে ওঠেন।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থ থাকায় তার পরিবর্তে এ সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় অনেকের মধ্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে খেলাপি ঋণীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। এটা ব্যাংক সেক্টরের জন্য সুখবর নয়। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ করেন না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাংক, আর্থিক খাত ও শেয়ারবাজার সংস্কার করা হবে। সক্রিয় বন্ড মার্কেট চালু করা হবে। ব্যাংক কোম্পানি আইনেও পরিবর্তন আনা হবে।’

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীরা খুশি মনে সহায়তা করবেন। কারণ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থেই নতুন ভ্যাট আইন করা হয়েছে। এ আইন আগামী ১ জুলাই থেকে কার‌্যকর করা হবে।’

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ‘জনকল্যাণমূলক’ উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার। এর মধ্যে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এবারের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব প্রাপ্তি ও বৈদেশিক অনুদান বাবদ আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভূত কর আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কর বাদে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। বৈদেশিক অনুদান ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা।’

এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। এছাড়া এ সময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ প্রতিটি খাতের বাজেট বরাদ্দ তুলে ধরেন।

আপনার মতামত লিখুন :