Alexa

'কর্মসংস্থান আছে বলেই ধান কাটার লোক পাওয়া যায় না'

'কর্মসংস্থান আছে বলেই ধান কাটার লোক পাওয়া যায় না'

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছবি: সংগৃহীত

দেশে কর্মসংস্থান আছে বলেই ধান কাটার লোক পাওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, 'এবার দেশের ধানের অনেক উৎপাদন হয়েছে। তবে ধান কাটার লোক পাওয়া যাচ্ছে না। তারা অনেক বেশি টাকা চায়। শ্রমের যে মূল্য বেড়ে গেছে, কারণ তাদের ডিমান্ড বেড়ে গেছে। আজকে বেকার লোকের অভাব আছে বলেই তো মূল্য বেড়েছে। সেটাও একটু বিবেচনা করে দেখেন।'

শুক্রবার (১৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থ থাকায় তার পরিবর্তে এ সংবাদ সম্মেলন করছেন প্রধানমন্ত্রী।

২০৩০ সালের মধ্যে তিন কোটি মানুষের কর্মসংস্থান কীভাবে সম্ভব- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'কর্মসংস্থানের কথা আমরা বলেছি, চাকরি দেওয়ার কথা বলেছি। ১০০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রেখেছি, শিক্ষার কথা বলেছি, প্রযুক্তি শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের কথা বলছি। আমরা চাই, মানুষ শিক্ষিত হয়ে ট্রেনিং নিক। নিজের কাজ নিজে করার একটা সুযোগ পাক। '

শেখ হাসিনা বলেন, 'কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এখন কিন্তু আছে। আছে বলেই ধান কাটার লোক পাওয়া যাচ্ছে না। লোক পাওয়া যাচ্ছে না কেন? যদি এত বেশি বেকার থাকে তাহলে ধান কাটলে দিনে ৪০০-৫০০ টাকা পাবে। প্লাস তিন বেলা খাবার। দুই বেলা খাবে এক বেলার খাবার বাড়ি নিয়ে যাবে। তারপরও কেন লোক পাওয়া যাচ্ছে না? এটা কী একবারও বিবেচনা করেছেন। যেহেতু কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে তাই ধান কাটার লোকের অভাব।'

তিনি বলেন, 'আমরা কর্মসংস্থানের কথা বললেই সবার ধারণা হয়ে যায় চাকরি দেওয়ার কথা। ১৬ কোটি মানুষকে কি চাকরি দেওয়া যায়? পৃথিবীর কোনও দেশ দেয়? আর কোনও মানুষ কি একটা চাকরি নিয়ে বসে থাকে সারাজীবন। মানুষ যাতে কাজ করতে পারে সেই সুযোগটা সৃষ্টি করাই কর্মসংস্থান। আমার ১০০টা অঞ্চল তৈরি করছি বা প্রতিনিয়ত প্রজেক্টগুলো করছি। একটা প্রজেক্ট সম্পন্ন হলে কত মানুষের কাজ হবে, চাকরি হবে। তারা নিজেরা সেখানে কাজ করতে পারবেন, চাকরি হবে। কাজেই আপনার ওই অংকতো ভুল। সরকারি চাকরির হিসেব করলে তো কর্মসংস্থান হলো না। আপনাকে নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। যাতে নিজের কাজ নিজে করতে পারেন পাশাপাশি অন্যের কাজেরও ব্যবস্থা হবে। সেটাই আমরা বলতে চাইছি।'

বাজেট বক্তৃতায় সোনার বাংলার সোনালি যুদ্ধ বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রী কী বোঝাতে চেয়েছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার জন্য যে যুদ্ধ, সেটাই সোনালি যুদ্ধ। দেশের কল্যাণ ও মঙ্গলের জন্য যে যুদ্ধ, সেটিই সোনালি যুদ্ধ। এই যুদ্ধ কোনও অকল্যাণের যুদ্ধ নয়।'

ধান উৎপাদনে কৃষকের ব্যয় সম্পর্কে তিনি বলেন, 'কৃষকের চেয়ে ধান উৎপাদনে সরকারের বেশি খরচ হয়। কারণ ধান উৎপাদন করতে কৃষকেদের প্রতিবছর প্রণোদনা দেওয়া হয়। এবার আরও বেশি প্রণোদনা রাখা হয়েছে।'

এ সময় অনেকের মধ্যে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির উপস্থিত আছেন।

আপনার মতামত লিখুন :