Alexa

‘বাজেটের ঋণের দায় চাপবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর’

‘বাজেটের ঋণের দায় চাপবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর / ছবি: বার্তা২৪

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে বিশাল অঙ্কের যে ঘাটতি দেখানো হয়েছে তা মেনে নেওয়া যায়, যদি তা অর্থনীতিতে গুণক প্রভাব তৈরি করতে পারে। তবে ঋণের পরিমাণ সুদসহ জমতে জমতে পাহাড়সম হলে, তা পরিশোধের কোনো দিক নির্দেশনা এ বাজেটে নেই। ঋণের এই দায়ভার কিন্তু চাপবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর।’

শুক্রবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রস্তাবিত বাজেটর প্রতিক্রিয়ায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাজেটের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া খাত ভিত্তিক বরাদ্দ ও সমস্যা নির্ধারণ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হচ্ছে। অনির্বাচিত সরকারের বাজেট দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। কারণ, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধও নয়। সরকার দেশকে ঋণের ঘর অর্থনীতির বৃত্তে আবদ্ধ করে রেখেছে। এই ঋণ শোধ দিতে দেশের মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। নাগরিকদের ভুগতে হবে চরমভাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রবৃদ্ধির যে কথা বলা হচ্ছে তার সত্যতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আছে। দেশের অর্থনীতি ব্যবস্থাপনা একটি শ্রেণির কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে। সরকার জনগণকে বাইরে রেখে যেভাবে নির্বাচন করেছে সেভাবে বাজেট দিচ্ছে। যেভাবে জনগণের নির্বাচন গ্রহণ করেনি, তেমনি বাজেটও তারা গ্রহণ করবে না।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে সুদ-আসল পরিশোধ করতে বিশাল বড় হচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাতে রাজস্ব আদায়ের ১৮ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশের গুণগত সার্বিক রুপান্তরে অত্যাধিক প্রয়োজনীয় মানব-পুঁজি, দক্ষ শ্রমশক্তি বিনির্মাণে, তথা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে না। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দকৃত বাজেট কতটা গুণসম্পন্ন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘ঘোষিত বাজেটের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে- সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের সময় এখন বাংলাদেশের। বছরখানেক আগে টিভির পর্দায় একটি পণ্যের অ্যাডভার্টাইজমেন্ট হিসেবেও শোনা গেছে- সময় এখন আমাদের। আসলে সময় এখন তাহাদের এবং একমাত্র তাহাদেরই। সেটা বাংলাদেশের মানুষের বুঝতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।’

ফখরুল বলেন, ‘বাজেটের শিরোনাম থেকেই উন্নয়নের গীত প্রকৃষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই তথাকথিত উন্নয়নের গীত আর মানুষ শুনতে চায় না। কর আর দ্রব্যমূল্যের চাপে ভোক্তা সাধারণের এমনিতেই নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে। আয় বৈষম্য বেকারত্ব অর্থনৈতিক নৈরাজ্যের কারণে সামাজিক অস্থিরতার মুখোমুখি জনগণ এখন আর উন্নয়নের মিষ্টি কথায় সন্তুষ্ট হতে পারছে না।’

বাজেটে মৌলিক সমস্যা সমাধানের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে না এমন অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘একদিকে বিশাল অংকের বাজেট, অন্যদিকে টাকা শূন্য ভল্ট। একদিকে ব্যাপক আয়োজন, অন্যদিকে টাকার জন্য ব্যাপক হাহাকার। এ রকম বিপরীত অবস্থার মধ্যে দাবি করা হচ্ছে, প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে, অথচ প্রাণ নেই ব্যাংক খাতে। বিনিয়োগের জন্য নেওয়া শিল্পঋণ যেখানে পুরোটাই ব‍্যাংক নির্ভর, সেখানেই চলছে তীব্র অর্থ সংকট। সবার মনেই প্রশ্ন তাহলে ব্যাংকের এতো টাকা গেল কোথায়? এরপরও এবারের বাজেটে দুর্নীতিবাজদের কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব‍্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আপনার মতামত লিখুন :