Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘বাজেটের ঋণের দায় চাপবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর’

‘বাজেটের ঋণের দায় চাপবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর’
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর / ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে বিশাল অঙ্কের যে ঘাটতি দেখানো হয়েছে তা মেনে নেওয়া যায়, যদি তা অর্থনীতিতে গুণক প্রভাব তৈরি করতে পারে। তবে ঋণের পরিমাণ সুদসহ জমতে জমতে পাহাড়সম হলে, তা পরিশোধের কোনো দিক নির্দেশনা এ বাজেটে নেই। ঋণের এই দায়ভার কিন্তু চাপবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর।’

শুক্রবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রস্তাবিত বাজেটর প্রতিক্রিয়ায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাজেটের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া খাত ভিত্তিক বরাদ্দ ও সমস্যা নির্ধারণ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হচ্ছে। অনির্বাচিত সরকারের বাজেট দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। কারণ, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধও নয়। সরকার দেশকে ঋণের ঘর অর্থনীতির বৃত্তে আবদ্ধ করে রেখেছে। এই ঋণ শোধ দিতে দেশের মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। নাগরিকদের ভুগতে হবে চরমভাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রবৃদ্ধির যে কথা বলা হচ্ছে তার সত্যতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আছে। দেশের অর্থনীতি ব্যবস্থাপনা একটি শ্রেণির কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে। সরকার জনগণকে বাইরে রেখে যেভাবে নির্বাচন করেছে সেভাবে বাজেট দিচ্ছে। যেভাবে জনগণের নির্বাচন গ্রহণ করেনি, তেমনি বাজেটও তারা গ্রহণ করবে না।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে সুদ-আসল পরিশোধ করতে বিশাল বড় হচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাতে রাজস্ব আদায়ের ১৮ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশের গুণগত সার্বিক রুপান্তরে অত্যাধিক প্রয়োজনীয় মানব-পুঁজি, দক্ষ শ্রমশক্তি বিনির্মাণে, তথা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে না। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দকৃত বাজেট কতটা গুণসম্পন্ন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘ঘোষিত বাজেটের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে- সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের সময় এখন বাংলাদেশের। বছরখানেক আগে টিভির পর্দায় একটি পণ্যের অ্যাডভার্টাইজমেন্ট হিসেবেও শোনা গেছে- সময় এখন আমাদের। আসলে সময় এখন তাহাদের এবং একমাত্র তাহাদেরই। সেটা বাংলাদেশের মানুষের বুঝতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।’

ফখরুল বলেন, ‘বাজেটের শিরোনাম থেকেই উন্নয়নের গীত প্রকৃষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই তথাকথিত উন্নয়নের গীত আর মানুষ শুনতে চায় না। কর আর দ্রব্যমূল্যের চাপে ভোক্তা সাধারণের এমনিতেই নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে। আয় বৈষম্য বেকারত্ব অর্থনৈতিক নৈরাজ্যের কারণে সামাজিক অস্থিরতার মুখোমুখি জনগণ এখন আর উন্নয়নের মিষ্টি কথায় সন্তুষ্ট হতে পারছে না।’

বাজেটে মৌলিক সমস্যা সমাধানের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে না এমন অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘একদিকে বিশাল অংকের বাজেট, অন্যদিকে টাকা শূন্য ভল্ট। একদিকে ব্যাপক আয়োজন, অন্যদিকে টাকার জন্য ব্যাপক হাহাকার। এ রকম বিপরীত অবস্থার মধ্যে দাবি করা হচ্ছে, প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে, অথচ প্রাণ নেই ব্যাংক খাতে। বিনিয়োগের জন্য নেওয়া শিল্পঋণ যেখানে পুরোটাই ব‍্যাংক নির্ভর, সেখানেই চলছে তীব্র অর্থ সংকট। সবার মনেই প্রশ্ন তাহলে ব্যাংকের এতো টাকা গেল কোথায়? এরপরও এবারের বাজেটে দুর্নীতিবাজদের কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব‍্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আপনার মতামত লিখুন :

সরকারি না আমি রাষ্ট্রীয় সুবিধা চেয়েছি

সরকারি না আমি রাষ্ট্রীয় সুবিধা চেয়েছি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা

সংসদকে আবারও অবৈধ বলে আখ্যায়িত করলেন সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তবে সম্প্রতি নিজের নামে পূর্বাচল আবাসিক এলাকায় ১০ কাঠার প্লট চেয়ে আবেদন করায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে তার দিকে।

এ বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে রুমিন ফারহানা বলেন, এটা অবশ্যই অবৈধ সরকার, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার না। আমি যে সুবিধা চেয়েছি সেটা সরকারি সুবিধা নয়, এটা রাষ্ট্রীয় সুবিধা। সংবিধান আমাকে সেই সুবিধা দিয়েছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তো সংসদ সদস্য না, তাহলে তিতি কী করে শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা পান? আসলে মুহিতের ঘটনা চাপা দিতেই সরকার এটি করেছে।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, আমার প্রশ্ন মন্ত্রণালয় কিভাবে একটা গোপনীয় চিঠি প্রকাশ করল? তারা আমার মোবাইল নম্বর ভাইরাল করে দিল। এটা কেন করল? এটা সরকারের প্রত্যক্ষ মদদ ছাড়া হয়নি।

শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা চেয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে রুমিন বলেন, সবাই চেয়েছে, আমিও চেয়েছি। তবে আমার টাকা না থাকায় আমি এখনও শুল্কমুক্ত গাড়ি আনতে পারিনি। আসলে এই সরকার অবৈধ বলে তারা ভিন্নমত পোষণকারীদের এমন কিছু নাই যেটা করছে না। আমার ফেসবুক পেইজ দুই মাস ধরে হ্যাক করে রেখেছে।

২১ আগস্টের ঘটনা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়: মির্জা ফখরুল

২১ আগস্টের ঘটনা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়: মির্জা ফখরুল
বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২১ আগস্ট বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের ওপর গ্রেনেড হামলা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সবচেয়ে নিন্দনীয় ঘটনা। কিন্তু সরকার প্রধান এনিয়ে যা বলছেন, তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

শনিবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। এতে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডন থেকে স্কাইপে যুক্ত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমরা সরকারে থাকা অবস্থায় এফবিআইকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছি। তদন্ত করার জন্য তাদের সহযোগিতা করেছিলাম। মুফতি হান্নানকে গ্রেফতার আমরাই করেছি।’

এসময় প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীদের মিথ্যাচার বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তিনি বলেন, 'তাদের বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণভাবে মিয়ানমারের কাছে নতি স্বীকার করেছে, তারা (মিয়ানমার) যে ফর্মুলা দিয়েছে সেই ফর্মুলার কাছে তারা নতি স্বীকার করছে। সর্বশেষ, সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছিলো তার সমাধান হয়নি অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, তাদের নিরাপত্তা, তাদের নিজের সম্পত্তির মালিক হয়ে বাসভূমিতে ফিরে যাওয়া, তাদের সম্পত্তির মালিক হওয়া-এই বিষয়গুলো নিশ্চিত হয়নি বলেই আস্থার অভাবে রোহিঙ্গারা চলে যায়নি। এসব ক্ষেত্রে কোনো কাজ না করে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। মিয়ানমারের যে ফর্মুলা, তাদের যে ইচ্ছা সেটাকে পূরণ করবার জন্য সরকার কাজ করছে।'

রোহিঙ্গা সমস্যা কিভাবে সমাধানে আসতে পারে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'এই সমস্যা সমাধানে প্রথম হচ্ছে অলপার্টি ডায়ালগ করা। একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে।'

প্রথমে দরকার ছিল সরকার প্রধানের সেই সমস্ত রাষ্ট্র সফর করা, হেড অব দ্যা স্টেটের সাথে দেখা করা যারা মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। সেটা সরকার করে নাই, এখন পর্যন্ত তারা করে নাই। এই রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো সফর বাংলাদেশের সরকার প্রধান বা কোনো প্রতিনিধিদল করেন নাই।’

বিএনপির এই নেতা জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন যে র‌্যালি হওয়ার কথা ছিল তা পরিবর্তন করে ২ সেপ্টেম্বর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর বিকালে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র