Alexa

ধীর গতিতে এগোচ্ছে বিএনপি

ধীর গতিতে এগোচ্ছে বিএনপি

বিএনপির পতাকা, ছবি: সংগৃহীত

দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি ভুগছে নানা জটিলতায়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রকাশ্যে এসেছে। দলটির সিনিয়র নেতারা বলেছিলেন- দল পুনর্গঠন আবশ্যক। তা না করলে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হওয়া যাবে না। এজন্য দল পুনর্গঠনে কাজও শুরু করেছেন বিএনপির হাইকমান্ড।

কিন্তু সেই গতি খুবই ধীর বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এতো ধীরে কাজ না করে আরও দ্রুত করা উচিৎ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৮টি ছায়া সংগঠনের মধ্যে মাত্র ছয়টির কমিটি গঠন বা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সর্ব প্রথম দল পুনর্গঠনে কাজ শুরু হয় বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি গঠনের মাধ্যমে। গত ১৭ জানুয়ারি ফরেন অ্যাফেয়ার্সের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। পরে ১৪ ফেব্রুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে প্রধান করে ২১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

১১ ফেব্রুয়ারি বিএনপিপন্থী সংগঠন এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনে করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি।

জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের পুরনো কমিটি বিলুপ্ত করে ১৩ ফেব্রুয়ারি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এর আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মাহতাব ও সদস্য সচিব আবদুর রহিম।

২৭ ফেব্রুয়ারি দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুকে আহ্বায়ক করে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কমিটি ১৫৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ৩ এপ্রিল জাতীয়তাবাতী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ।

বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) কাউন্সিলের মাধ্যমে গত ২৫ মে নতুন কমিটি গঠন করে। এতে সভাপতি হয়েছেন ডা. হারুন অর রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. আবদুস সালাম।

সর্বশেষ গত ৩ জুন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি বাতিল করে বিএনপি। একইসঙ্গে ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তথ্য বলছে, বিএনপির সহযোগী সংগঠন দুইটি; জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল। অঙ্গ সংগঠন নয়টি; জাতীয়তাবাদী যুবদল, সেচ্ছাসেবকদল, মুক্তিযোদ্ধাদল, কৃষকদল, মৎসজীবী দল, তাঁতীদল, ওলামাদল, জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংসদ (জাসাস) ও মহিলাদল।

পেশাজীবী সংগঠন ছয়টি; জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, ডক্টর'স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ড্যাব), অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব), এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট ও শত নাগরিক কমিটি।

রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে যদি বিএনপি কোনো আন্দোলনে যায় তাহলে তার আগে মূল দলসহ সব ছায়া সংগঠন নতুন করে সাজাতে হবে। নিজেদের এই শক্তিগুলোকে সচল করতে হবে। তাহলেই সরকারবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি কার্যকর করা সম্ভব।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, আন্দোলনের জন্য বিএনপির নিজেদের মধ্যে যে শক্তি আছে সেটা সচল করতে হবে। সংগঠনগুলোকে শক্তশালী করতে হবে। আগে নিজেদের ক্ষমতাশালী করতে হবে। এটা করতে হবে সাধারণ মানুষদের নিয়ে। বিএনপি দল পুনর্গঠনে খানিকটা হাত দিয়েছে, কিন্তু গতিটা ধীর। আরও দ্রুত গতিতে অগ্রসর হওয়া দরকার।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন দলের বর্তমান নেতৃত্বকে যথার্থ মনে করেন না। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, 'আমাদের নেতৃত্বের দুর্বলতা রয়েছে। এ অবস্থা থেকে আমাদের কাটিয়ে উঠতে হবে। এজন্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতৃত্বের পরিবর্তন আনতে হবে এবং তরুণদের সুযোগ দিতে হবে। আমরা যারা প্রবীণ আছি, বিভিন্ন মামলায় জর্জরিত তাদের বাদ দিতে হবে। নতুন এবং পুরাতনের সমন্বয়ে নেতৃত্ব গঠন করতে হবে। বর্তমান নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপি কোনো অবস্থাতেই আন্দোলনে সফল হবে না।’ 

তিনি বলেন, আমাদের সমস্যা অনেক, হাজার হাজার নেতাকর্মীদের নামে মামলা করা হয়েছে। দেশে এখন পুলিশি শাসন চলছে। নেতারা আমাদের মামলা, হামলার ভয়ে মাঠে নামাতে সাহস পান না। আমাদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে হবে। আমাদের নেত্রী (খালেদা জিয়া) জেলে। বর্তমান স্থায়ী কমিটির সদস্যদের প্রায় সবার নামে মামলা রয়েছে। তাই নতুন নেতৃত্ব বিএনপিতে আনতে হবে। না হলে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা যাবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কাছে দলের পুনর্গঠন সম্পর্কে জানতে চাইলে বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন, এটা আমাদের দলীয় ও সাংগঠনিক ব্যাপার। আমাদের মুখ্যপাত্র হচ্ছেন দলের মহাসচিব (বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর)। তিনি এ ব্যাপারে বলবেন।

আপনার মতামত লিখুন :