নির্ধারণ হয়নি চামড়ার দাম, বিক্রি হচ্ছে পানির দরে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, রাজশাহী
রাজশাহীতে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে চামড়া, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজশাহীতে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে চামড়া, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

গেল ঈদে চামড়ার দাম না পাওয়ার রেশ কাটিয়ে উঠতে পারেনি রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা। এখনো নির্ধারণ করা হয়নি দাম। তাই ঈদের মতোই নামমাত্র দামে চামড়া বেচা-বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। খাসির চামড়া পিস প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকায় আর গরুর চামড়া আকার ভেদে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনছেন তারা।

চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, গত পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে এবারই কোরবানির পশুর চামড়া সবচেয়ে নিম্ন দামে বিক্রি হয়েছে। ঈদ মৌসুম শেষ হলেও এখন নতুন দামে চামড়া কিনতে বা বিক্রি করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, চামড়া শিল্পের প্রাণ নেই বলেই চলে। এখন এটি মৃত প্রায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার এখনো দাম নির্ধারণ করে না দেওয়ায় নতুন করে জবাই হওয়া পশুর চামড়া কিনতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। চামড়া বেচাকেনা নিয়ে খানিকটা জটিলতা তৈরি হয়েছে মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং চামড়ার আড়তদার ও ট্যানারির মালিকদের মধ্যে।

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বেশি দামে চামড়া কিনেছেন। আবার বাড়তি দামের এই চামড়ার কিছু অংশ কিনেছেন আড়তদারেরাও। তবে বাড়তি দামে কেনা এসব চামড়া বেশি দাম দিয়ে কিনতে রাজি হচ্ছেন না ট্যানারির মালিকেরা। ফলে মৌসুমি ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের একটি অংশ লোকসানের আশঙ্কায় আছেন।

নগরীর তেরখাদিয়া এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী জুলফিকার আলী বলেন, 'ব্যবসা বাদ দিয়েছি ভাই। যে ব্যবসায় স্ত্রী-সন্তানের পেটে খাবার জোটে না তা করে কী লাভ? ঈদে যে চামড়া কিনছিলাম, তাতে ব্যাপক লস হয়েছে। প্রতিজ্ঞা করেছি- রিকশা চালিয়ে রুটি-রুজি জোগাড় করব, তবুও চামড়া ব্যবসা করব না।'

হামিদুল ইসলাম নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, 'ব্যবসা বলে কিছু নেই। টাকা খাটাইলে লস হবে জেনেও চামড়া কেনা-বেচা করা পাগলামি ছাড়া আর কিছুই না। আমি চামড়া কেনা বন্ধ করে দিয়েছি। আমার দেখা মতে, রাজশাহীতে কেউ তো এখন চামড়ায় কিনছেন না।'

রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ বলেন, 'স্থানীয়ভাবে চামড়া বেচা-কেনা বন্ধ রয়েছে। তবে নাটোরে চামড়া ব্যবসায়ীরা কিছু খাসির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা করে পিস হিসেবে বিক্রি করেছেন। এখন রাজশাহীতে কেনা-বেচা হচ্ছে না বললেই চলে।' যা হচ্ছে তা ঈদের সময়ের দামে কেনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :