ক্যাসিনোর টাকা যেভাবে বিদেশে পাচার হত

সেন্ট্রাল ডেস্ক, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
মোহামেডান ক্লাব থেকে জব্দ হওয়া ক্যাসিনো সামগ্রী

মোহামেডান ক্লাব থেকে জব্দ হওয়া ক্যাসিনো সামগ্রী

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকার ক্যাসিনোগুলোর আয়ের অর্থ তিনভাবে পাচার হত বিদেশে। ক্যাসিনোগুলোয় কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা তাঁদের বেতন ও অংশীদারি থেকে পাওয়া অর্থ নিজ দেশে পাচার করতেন। ক্যাসিনোগুলোর একাধিক মালিক নিয়মিত সিঙ্গাপুর, দুবাই, ব্যাংককে গিয়ে জুয়া খেলে ওড়াতেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। ক্যাসিনোর আয়ের টাকা পাচার করা হতো বিদেশে অবস্থানকারী সরকারের তালিকাভুক্ত একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসীর কাছে।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) দৈনিক কালের কণ্ঠসহ কয়েকটি পত্রিকা গোয়েন্দা সংস্থা এবং ঢাকার ক্যাসিনো মালিকদের রাজনৈতিক সহযোগীদের কাছ পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনগুলো বলছে, ঢাকার ক্যাসিনোগুলোয় অংশীদারির ভিত্তিতে কাজ করেন ৯ জন নেপালি নাগরিক। ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে এসে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়ে ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালনা করছেন তারা।অনুসন্ধানে অংশীদারির ভিত্তিতে ক্যাসিনো পরিচালনাকারী ৯ নেপালি নাগরিকের নাম পাওয়া গেছে। ২০১৫ সাল থেকে এরা বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করছেন। এই ৯ নেপালি নাগরিক হচ্ছেন বিনোদ মানালী, অজয় পাকরেল, দীনেশ, রাজকুমার, প্রদীপ ওরফে সুরেশ, হেলমি, কৃষ্ণা থাপা, মালকি ও ছোট রাজকুমার। আরো প্রায় ২০ জন নেপালি নাগরিক ঢাকার ক্যাসিনোতে কাজ করেন। তাদের মাসিক বেতন এক হাজার ডলার।

সিঙ্গাপুর, দুবাই, ব্যাংকক ও মালয়েশিয়ায় গিয়ে জুয়া খেলেন ঢাকার একাধিক যুব নেতা। এদের অনেকের ব্যাবসায়িক কোম্পানি আছে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায়। এরাই ক্যাসিনোর মোটা অঙ্কের অর্থ বিভিন্ন কৌশলে বিদেশে পাচার করতেন।

ক্যাসিনো সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ঢাকার মতিঝিলপাড়ার স্পোর্টিং ক্লাবগুলোয় জুয়ার আসর বসানো দীর্ঘদিনের পুরনো ঘটনা। বিএনপি সরকারের আমলে ক্লাবগুলোতে দেশীয় জুয়ার ব্যাপক প্রসার ঘটে। তবে আধুনিক জুয়ার আসর ক্যাসিনোর বিপ্লব ঘটে এক যুবলীগ নেতার হাত ধরে ২০১৫ সাল থেকে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, প্রতি রাতে ঢাকায় ক্যাসিনোগুলোতে ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকার জুয়া খেলা হতো। এর মধ্যে মালিকদের লাভ থাকত গড়ে ৫০ কোটি টাকা। ওই লভ্যাংশ থেকে পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের চাঁদা দেওয়ার পরও নেপালি নাগরিকদের কাছে চলে যেত প্রায় ৪০ শতাংশ টাকা। নেপালি নাগরিকদের ক্যাসিনোর অংশীদারি এবং নেপাল থেকে ক্যাসিনোতে চাকরি করতে আসাদের বেতন বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রতি মাসে দেশের বাইরে চলে যেত।

আপনার মতামত লিখুন :