ইজারা নীতিমালা টেবিলেই আটকা, বেহাত হচ্ছে সড়কের জমি

বেহাত হচ্ছে সড়কের জমি

ভূমি ইজারা নীতিমালা না থাকায় দেশব্যাপী সড়কের পাশে হাজার হাজার একর জমি থেকে প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এমনকি সড়ক সংলগ্ন ওইসব জমি সরকারের বেহাত হতে চলেছে।

অভিযোগ আছে, দুই বছর আগে সড়কের ভূমি ইজারা নীতিমালা করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা করছেন না সড়ক পবিরহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব-অতিরিক্ত সচিবরা। যদিও কাজটি এগিয়ে নিতে সেতুমন্ত্রী কয়েকবার তাগিদ দিয়েছেন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। ফলে ওইসব জমি ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে চলে গেছে। কিন্তু সরকার রাজস্ব পাচ্ছে না।

মন্ত্রণালয়ের একটি বিশ্বাসযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সচিব ও অতিরিক্ত সচিবরা সড়কের ভূমি ইজারা নীতিমালা নিয়ে বেশ অনাগ্রহী। তাদের টেবিলে বছরের পর বছর এটি গড়াচ্ছে। অথচ দুই বছর আগেই নীতিমালা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়।

সিএনজি স্টেশন মালিকদের অভিযোগ, মূলত কমিশন (পার্সেন্টেজ) না পাওয়ায় কাজ করছেন না তারা। অথচ ঠিকাদারী কাজ হলে ঠিকই তারা দ্রুত ফাইল ছাড়তেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Oct/11/1539251039199.jpg

এ বিষয়ে সিএনজি স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান চৌধুরী বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘আমরা গত ৩ বছর ধরে সরকারকে কোনো রাজস্ব দিচ্ছি না। মূলত নীতিমালা তৈরির প্রক্রিয়া শুরুর আগ থেকে রাজস্ব দেওয়া বন্ধ আছে। আমরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছি। কারণ নীতিমালা না থাকায় আমরা জানি না- কিভাবে এবং কত টাকা সরকারকে রাজস্ব দিতে হবে।’

অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি মাসুদ খান বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘ভূমি ইজারা নীতিমালার কাজ কোনোভাবেই আগাচ্ছে না। নীতিমালাটি এখন সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম ও অতিরিক্ত সচিবদের টেবিলে আটকা আছে। এখন সরকার যদি আমাদের কাছ থেকে টাকা না নেয় তাহলে আমরা জোর করে দিতে যাবো কেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মন্ত্রণালয়ে আমার সামনে সচিবদের নীতিমালার কাজ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তারপরও কাজ হয়নি। সচিব এ বিষয়ে এখনও কোনো বৈঠক ডাকেননি। ফলে নীতিমালার কাজও আর আগায়নি।’

এ বিষয়ে মতামত জানতে সচিব নজরুল ইসলামের মোবাইলফোনে একাধিকাবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। পরবর্তীতে ক্ষুধে বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া মেলেনি।

এমনকি সংশ্লিষ্ট সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকরাও তার সঙ্গে যোগাযোগের শিডিউল পাননি।

মন্ত্রণালয় সূত্রে আরো জানা গেছে, সারাদেশে সড়কের পাশে সরকারি জমিতে ৭০০টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং প্রায় এক হাজার একশ পেট্রোল পাম্প গড়ে উঠেছে। কিন্তু নীতিমালা না থাকায় ওইসব প্রতিষ্ঠান রাজস্ব দিচ্ছে না।

এদিকে, ওই নীতিমালার কারণে আটকে আছে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সড়ক সৌন্দর্য বর্ধনের কাজও। সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলাম বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘অফিসিয়ালি সড়কের ভূমি ইজারা নীতিমালার কাজ আগাচ্ছে না। ফলে এ সরকারের মেয়াদে নীতিমালার কাজ শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

অতিরিক্ত সচিব বেলায়েত হোসেন জানান, যারা নীতিমালা তৈরির দায়িত্ব পেয়েছেন মূলত তারাই আগাচ্ছেন না।

অর্থনীতি এর আরও খবর