Alexa
independent day 2019

স্বর্ণ আমদানি-রফতানির ভ্যাট নির্ধারণে কমিটি গঠন

স্বর্ণ আমদানি-রফতানির ভ্যাট নির্ধারণে কমিটি গঠন

ছবি: সংগৃহীত

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

দেশে স্বর্ণের বাজারে স্থিতিশীলতা ও আরো স্বচ্ছতা চায় সরকার। এ জন্য স্বর্ণ আমাদনি ও রফতানিতে কী পরিমাণ মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) আরোপ যুক্তিযুক্ত হবে তা নির্ধারণ করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাণিজ্য সচিবকে আহ্বায়ক করে গঠিত ৫ সদস্যের ওই কমিটি ব্যাগেজ রুলসের বিষয়েও মতামত দেবে। সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন দেবে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের একজন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একজন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি।

সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই কমিটি গঠন করা হয়। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- এনবিআর’র চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বাণিজ্য সচিব সুভাশীষ বসু, অর্থ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার প্রমুখ।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, স্বর্ণ আমদানিতে ভরি প্রতি এক হাজার টাকা ভ্যাট আরোপ করতে চান অর্থমন্ত্রী। কিন্তু বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ভ্যাটের পরিমাণ আরও কমানোর দাবি জানিয়েছে। এছাড়া যারা ভ্যাট না দিয়ে স্বর্ণ আমাদনি করে স্টক করে রেখেছেন তাদের স্বর্ণ বৈধ করতে ভরি প্রতি এক হাজার টাকা করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু বাজুস মজুদ করা প্রতি ভরি স্বর্ণের জন্য ৩০০ টাকা দিতে রাজি হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে নব গঠিত কমিটিকে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বাজারদর বিশ্লেষণ করে এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর স্বর্ণ নীতিমালা অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। আর গত সেপ্টেম্বরে স্বর্ণ নীতিমালা প্রণয়ে তাগিদ দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেন অর্থমন্ত্রী। ওই চিঠিতে অর্থমন্ত্রী স্বর্ণ আমদানিতে ভরি প্রতি এক হাজার এবং অবৈধভাবে মজুদ করা স্বর্ণে ভরি প্রতি আরো এক হাজার টাকা আদায়ের নির্দেশনা দেন। এছাড়াও স্বর্ণ ব্যবসার আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ করা উচিত বলে মন্তব্য করে তিনি।

অর্থমন্ত্রী জানান, দেশে কত সোনা আছে, তার কোনো হিসাব নেই। এখন হিসাব করাও যাবে না। কারণ হিসাব করতে গেলে স্বর্ণের বাজারমূল্য বিবেচনা করে একটি মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। এই মূল্য নির্ধারণের ফলে যাদের কাছে স্বর্ণ আছে, তারা রাতারাতি ধনী হয়ে যাবেন। এই বর্ধিত ধনের ওপর লেভি নির্ধারণ করা যায়। তবে লেভি খুব বেশি ধরলে স্বর্ণ ব্যবসা প্রসার হবে না।

অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী লেভি হতে পারে প্রতি ভরিতে এক হাজার টাকা। কিন্তু বাজুস ৩০০ টাকা লেভি ধরার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে বাজুসের এই দাবির পক্ষে নন অর্থমন্ত্রী।

তিনি জানান, দেশে স্বর্ণ কেনাবেচা হয় ভরি, আনা ও রতি হিসেবে। যেমন ১৬ আনায় ১ ভরি ও ৪ রতিতে ১ আনা। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ভরির কোনো অস্তিত্ব নেই। তবে দেশে ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামে ১ ভরি ধরা হয়। সেই হিসাবে ১ কেজি স্বর্ণে ৮৫ দশমিক ৭৩৩ ভরি হয়। বিদেশ থেকে দেশে বেআইনিভাবে প্রচুর স্বর্ণ আসে এবং সেগুলো আবার ভারতে পাচার হয়। এক হিসাবে ভারতের স্বর্ণ ব্যবসার বড় একটি অংশ বাংলাদেশ থেকে যায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো আমাদের কোনো নীতিমালা না থাকায় স্বর্ণ আমদানি করা যায়। কিন্তু গত ৭/৮ বছরে এক ফোঁটা স্বর্ণও আমদানি হয়নি। আমাদের স্বর্ণকাররা খুবই গুণী এবং তারা স্বর্ণালংকারের একটি সীমিত বাজার পরিচালনা করেন। এসব স্বর্ণ আমাদের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ এবং সেগুলোকে প্রায়ই নতুন করে বানানো হয়।’

অর্থনীতি এর আরও খবর