‘পোশাকের ন্যায্য মূল্য আদায়ে ব্যর্থ বিজিএমইএ’

মো. দেলোয়ার হুসেইন/ছবি: সুমন শেখ

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের ন্যায্য মূল্য আদায়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারকও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন ডিলাক্স অ্যাপারেলস লিমিটেডেরচেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হুসেইন। তিনি বলেন, ‘পোশাকের ন্যায্য মূল্য আদায়ে ব্যর্থতার পাশাপাশি বিজিএমই’র বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ সংগঠনটির সাধারণ সদস্যদের মতামত প্রকাশের স্বার্থও রক্ষা করতে পারেনি।’

জানা গেছে, প্রায় শতভাগ রফতানির কাজে নিয়োজিত ডিলাক্স অ্যাপারেলস লিমিটেড। যেখানে কাজ করেন প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক। সম্প্রতি পোশাক শিল্পের নানা বিষয় নিয়ে বার্তা২৪.কম’র সাথে আলোচনা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মো. দেলোয়ার হুসেইন।

গত ৩১ অক্টোবর বিজিএমইএ’র গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গঠনতন্ত্রের সংশোধন কোননিয়মে করা হয়েছে তা আমি জানি না। নিয়ম অনুযায়ী ২১ দিন আগে আমাদের চিঠি দিয়ে সংশোধনেরপ্রস্তাবনার কথা জানানোর কথা।কিন্তু তারা একদিন আগে ইজিএম’র দাওয়াতের সাথে একটি নোটিশদেয়। কিন্তু সেখানেও এ বিষয়ে কোনো কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। বৈঠকের দিন কারো সাথে আলোচনা নাকরে এই সংশোধনী পাস করা হয়। ফলে সাধারণ সদস্যদের স্বার্থ রক্ষিত হয়নি। আমি নিজেও সাধারণসদস্য হিসেবে আমার মতামত দিতে পারিনি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/07/1541597327852.jpg

তিনি আরো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের তৈরি পোশাকের ন্যায্য মূল্য আদায় নিশ্চিত করতে সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব বিজিএমইএ’র। কিন্তু বর্তমান কমিটি সেই দায়িত্ব পালন না করে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারা সব সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা একটি অভিন্ন মূল্য তালিকা তৈরি করে সবাইকে সেটা অনুসরণের নির্দেশনা দিতে পারতো। এরপর কেউ কম দামে অর্ডার নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নিয়মও চালু করতে পারতো। বিশেষ করে তালিকার কম মূল্যে অর্ডারের বিপরীতে এলসি না খুলতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিতে পারতো। ফলে অসম প্রতিযোগিতা কমতো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের দাম বাড়তো।’

মো. দেলোয়ার হুসেইন বলেন, ‘শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি বাড়ে কিন্তু আমাদের পণ্যের দাম বাড়ছে না। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে এবং কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু কারখানা বন্ধহয়ে গেছে। কারণ এক এক ক্রেতার কমপ্লায়েন্স’র শর্ত এক এক রকম। আমরা বারবার বিজিএমইএ’কে একটি নির্দিষ্ট কমপ্লায়েন্স নীতিমালা তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু তারা সেটা করেনি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/07/1541598219975.jpg

নগদ প্রণোদনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সব সময় বলা হয় পোশাক শিল্পে নগদ প্রণোদনা দেওয়া হয়। কিন্তুবাস্তবে শুধু টেক্সটাইল ও নিটওয়্যার খাতই নগদ প্রণোদনা পায়। ওভেন ও অন্যান্য কারখানা নগদপ্রণোদনা পায় না। তাই এদিকেও সরকারের নজর দেওয়া উচিত। কারণ এই খাতে নগদ প্রণোদনা দিলেরফতানি আরো বাড়বে।’

এই পোশাক ব্যবসায়ী আরো বলেন, `দেশের অসহায় নারীদের ওপর নির্যাতন কমার পেছনে পোশাক শিল্পেরবড় ভূমিকা রয়েছে। কারণ তারা পোশাক কারখানায় কাজ করে আর্থিকভাবে সামলম্বী হচ্ছেন এবং নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে পারছেন।’

ডিলাক্স অ্যাপারেলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান বলেন,‘আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পজিএসপি সুবিধা পেলে পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও ভাতরকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবে। তবে এর জন্য সরকার ও বিজিএমইএ’কে কাজ করতে হবে। এছাড়া চীনও বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বড় বাজার হতেপারে। কারণ চীনের জনসংখ্যা অনেক, তাদের বাজারও বড়। তাই সেদিকে নজর রেখে তৈরি হলে চীন থেকেও রফতানি আয় করা সম্ভব।

অর্থনীতি এর আরও খবর