অ্যাকর্ড নিয়ে আতঙ্কে গার্মেন্টস মালিকরা

ছবি: সংগৃহীত

ঊর্মি মাহবুব, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

চলতি মাসের ৩০ তারিখে পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সংগঠন অ্যাকর্ড এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সেই মেয়াদ বাড়াতে একর্ড আপিল করেছে। এ নিয়ে ১৯ নভেম্বর আপিলের শুনানি হবে আদালতে। আর তাই আতঙ্কে রয়েছেন গার্মেন্টস মালিকরা।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে ভবন নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রায় সাড়ে পাঁচশ গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে একর্ড এর কারণে। অনেক মালিক পোশাক শিল্প ছেড়ে অন্য ব্যবসা শুরু করতে বাধ্য হয়েছেন।’

‘আর তাই অ্যাকর্ড এর মেয়াদ বৃদ্ধি হবে কিনা সে বিষয়ে বেশ খানিকটা আতঙ্কে রয়েছি আমরা। একর্ড এর মেয়াদ বাড়ানো কিছূতেই ঠিক হবে না। কিন্তু আদালতের আদেশকে সম্মানের সাথে গ্রহণ করবো।’

বিজিএমইএ-এর স্বাধীনতা পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম বার্তা২৪কে বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এখন অনেক নিরাপদ। অ্যাকর্ডের আর থাকার প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। আমাদের দেশের আইন পোশাক শিল্পের জন্য যথেষ্ট শক্ত। বরং বলব এই আইন আরো একটু সহজ করা উচিত। যেসব কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। সেখানে অ্যাকর্ড এর মেয়াদ বাড়ানো কিছুতেই উচিত বলে মনে হয় না।’

তবে অ্যাকর্ডের পক্ষে থাকছে শ্রমিক পক্ষ। শ্রমিকদের মতে অ্যাকর্ডের মতো সংগঠনের বাংলাদেশে থাকা উচিত। শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার বার্তা২৪কে বলেন, ‘যেহেতু অ্যাকর্ড আপিল করেছে সেহেতু সব কিছুই আদালতের ওপর নির্ভরশীল। আর শ্রমিকরা আইনের প্রতি বরাবরই শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু বাংলাদেশের শ্রমিকদের অবস্থার দিকে নজর রেখে তাদের স্বার্থে অ্যাকর্ডের মেয়াদ বাড়ানো উচিত। কারণ অ্যাকর্ডের জন্য ভবন নিরাপত্তায় সবাই নজর দিয়েছে।’

২০১৫ সালে রানা প্লাজা ধ্বসের পর বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানাগুলোর ভবন নিরাপত্তার দিকে আঙুল তোলে আন্তর্জাতিক বিশ্ব। আর তারপরই ভবন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্রেতাদের সংগঠন অ্যাকর্ড আসে বাংলাদেশে। চলতি মাসের ৩০ নভেম্বর মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে অ্যাকর্ডের। কিন্তু এখনো বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কারখানাগুলোর সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়নি বলে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আপিল বিভাগে আবেদন করেছে অ্যাকর্ড।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বাজারে ইউরোপিয়ান ক্রেতাদের সংগঠন হলো অ্যাকর্ড। পোশাক কারখানাগুলোকে কর্মীবান্ধব করে গড়ে তোলার জন্য পরামর্শ ও পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে এ সংগঠনটি।

অর্থনীতি এর আরও খবর