নির্বাচনের আগে স্বল্প পরিসরে গৃহ ঋণ দিতে চায় অর্থ বিভাগ

ছবি: সংগৃহীত

আসিফ শওকত কল্লোল, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে স্বল্প পরিসরে হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহ ঋণ দিতে চাচ্ছে অর্থ বিভাগ। যদিও গত ১ অক্টোবর থেকে গৃহ ঋণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত ৪টি সরকারি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জমা নেওয়া আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ফলে এখনও কাউকে এ ঋণ দেওয়া সম্ভব হয়নি। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, নির্বাচনের আগে পুরো দমে ঋণ দিলে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে আপাতত স্বল্প পরিসরে এ কার্যক্রম শুরু করতে চাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঋণ দিলে নির্বাচন আইনের লঙ্ঘন হবে কিনা সে বিষয়ে আমাদের সংশয় আছে। তাই আমরা স্বল্প পরিসরে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা করছি। ইতোমধ্যে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন ২ জন চাকরিজীবীকে গৃহ ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী ২৫ জানুয়ারি তাদের আবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ওই দুইজনই প্রথম ঋণ পাবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘গৃহ ঋণ নিতে শুধু রূপালী ব্যাংকেই আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ৩ হাজার। যদিও তাদের মধ্যে কতজন ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন সে বিষয়ে অনেকে সন্দেহ পোষণ করেছেন।’

জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহ ঋণ আবেদন এ পর্যন্ত ৮ হাজার ছাড়িয়েছে। নির্ধারিত ৪টি সরকারি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি এসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ আবেদনের সংখ্যাসহ সামগ্রিক তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। আর ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব আবেদন যাচাই-বাছাই শুরু করেছে। আবেদন অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে রেডি ফ্ল্যাট আছে কি-না তা যাচাই করতে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে নির্ধারিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বোর্ড থেকে সেটার অনুমোদন নিয়ে অর্থ বিভাগের গৃহ ঋণ সেলে পাঠানো হবে। পরে সেখান থেকে ঋণের ভর্তুকি নির্ধারণ করে অর্থ বিভাগের সম্মতি নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিজীবীদের কম সুদে গৃহ ঋণ দিতে সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী এবং বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফিন্সাস কর্পোরেশনের সাথে সমঝোতা স্মারক সই করে অর্থ মন্ত্রণালয়। ওই ঋণের সরল সুদহার হবে ১০ শতাংশ। যার মধ্যে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দেবে সরকার। ইতোমধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ভর্তুকি বাবদ ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। দেশে মোট ২১ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী আছে, যাদের মধ্যে প্রায় ৭০ ভাগ কর্মচারী।

গত ১ অক্টোবর থেকে অনলাইনে গৃহ নির্মাণ ঋণের জন্য আবেদন জমা শুরু হয়। অভিন্ন আবেদনপত্রে ২৮টি তথ্য চাওয়া হয়, যার মধ্যে ই-টিন নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া প্রাইভেট প্লটের জন্য ৪-৬টি দলিল এবং সরকারি/লিজ পাওয়া প্লটের জন্য ৪-৭ দলিল দিতে হচ্ছে আবেদনকারীদের।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই সরকারি কর্মচারীদের গৃহনির্মাণ ঋণ নীতিমালা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে অর্থ বিভাগ। নীতিমালা অনুযায়ী, চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে এবং সর্বোচ্চ ৫৬ বছর বয়স পর্যন্ত গৃহ ঋণের জন্য আবেদন করা যাবে। বেতন স্কেলের গ্রেড ভেদে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ এবং সর্বনিম্ন ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়া যাবে। ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছরে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

অর্থনীতি এর আরও খবর