সৈকত থেকে অপসারিত হলো ১ হাজার কেজি বর্জ্য

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সেন্টমার্টিন সমুদ্র সৈকত থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করতে জড়ো হয় সেচ্ছাসেবীরা

সেন্টমার্টিন সমুদ্র সৈকত থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করতে জড়ো হয় সেচ্ছাসেবীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্লাস্টিক বর্জের কারণে প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। যে মানুষ এই প্লাস্টিক তৈরি করছে তারাই আবার বর্জ্যে পরিণত করছে। পরিবেশের প্রতি সেই দায়বদ্ধতা থেকে প্রতিবারের মত এবারো ‘পিক ইট আপ, ক্লিন ইট আপ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিলো একদিন ব্যাপী সমুদ্র সৈকত পরিষ্কারে কার্যক্রম ।

শুক্রবার ( ২৩ নভেম্বর) দিন ব্যাপি এই আয়োজনে অংশ নেয় ঢাকা থেকে প্রায় ২০০ ও স্থানীয় ভাবে প্রায় ৪০০ স্কুল শিক্ষার্থী। আয়োজনের অংশ হিসাবে সেন্টমার্টিন সৈকত থেকে  মাটির সাথে মিশে যায়না  এমন প্রায় ১ হাজার ১০০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে স্বেচ্ছাসেবকরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/23/1542994576008.JPG

ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনাপ (আইসিসি) কর্মসূচির আওতায় সৈকত পরিচ্ছন্ন কাজ শুরু করে ক্রেওক্রাডং। স্থানীয় সেন্টমার্টিন বি এন উচ্চ বিদ্যালয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। বরাবরের মতোই এবারো আয়োজনটিতে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কোকা কোলা।  

 আয়োজন সম্পর্কে উল্লেখ গিয়ে ক্রেওক্রাডং এর উদ্যোক্তা মুনতাসির মামুন বলেন, পর্যটকদের সচেতনতার অভাবে সাগর সৈকতে দূষণ বাড়ছে। সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্য সামনে রেখে ৩৭ বছর ধরে বিশ্বব্যাপী এমন কার্যক্রম চলছে।

শুধু মাত্র সেন্টমার্টিনেই কেন এমন উদ্যোগ এমন প্রশ্নের জবাবে মুনতাসির মামুন বলেন, বাংলাদেশের একমাত্র কোরাল দ্বীপ এই সেন্টমার্টিন । তাই পরিবেশ বিপর্যয়ের দিক থেকে  সবচেয়ে সংকটময় পরিস্থিতি মুখোমুখী হয় এই দ্বীপ । যেহেতু এখন পর্যটন মৌসুম তাই মূলত এক জায়গায় অনেককে আমরা সচেতন করার পাশাপাশি এই দ্বীপটির গুরুত্ব মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারবো সেই জন্য এইখানে এই আয়োজন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/23/1542994605754.JPG

আয়োজনের সহযোগী কোকাকোলা বাংলাদেশের পাবলিক এফেয়ার্স এন্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শামীমা আক্তার বলেন, বিশ্বব্যাপি পরিচালিত সচেতনতামূলক এ কাজে সহায়তা দিচ্ছে কোকা কোলা। আমরা যেহেতু প্লাস্টিক বোতলের মাধ্যমে  গ্রাহকের কাছে আমাদের পণ্য পৌঁছে দেই তাই আমরা মনে করেছি সমাজের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা অনেক বেশি । তাই প্রতিবছর আমরা এই আয়োজন করে থাকি।

শুধুমাত্র একদিনেই কি পরিবেশ রক্ষা সম্ভব  এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা চেস্টা করেছি স্থানীয়দের সাথে এক হয়ে কাজ করার। আমরা এই কাজের মাধ্যমে তাদের মাঝে একটা বীজ বুনে দিয়ে গেলাম। যাতে তারা যখন বড় হবে ভবিষ্যতে তারা যেন কোন প্লাস্টিক ফেলার আগে একবার ভাবে।

দিনব্যাপি চলা অভিযানে সংগৃহীত বর্জ্যগুলোর একটি তালিকা করা হয় .যার মধ্যে মূলত প্লাস্টিক ও অপচনশীল বর্জ্যগুলো আলদা করে তালিকা করা হয়। তালিকাটি চলে যাবে বিশ্বব্যাপি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংস্থার কাছে। তারা যাচাই বাছাই করে সমুদ্র সৈকতে ময়লা ফেলার প্রবণতার একটি তালিকা তৈরি করবেন যা মাধ্যমে মানুষের ময়লা ফেলার একটি প্যাটার্ন তৈরি করা সম্ভব হবে জানালেন আয়োজনের উদ্যোক্তারা ।

আপনার মতামত লিখুন :